জাতীয়

শুক্রবার | ২০ অক্টোবর, ২০১৭ | ৫ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৮ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » খবর » জাতীয় » প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সঙ্কট ঘনীভূত: ফখরুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সঙ্কট ঘনীভূত: ফখরুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সঙ্কট ঘনীভূত: ফখরুল ইসলাম

আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছে বিএনপি।

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের এই ঘোষণা রাজনৈতিক সঙ্কট আরো ঘনীভূত করেছে বলেও দাবি করেছেন দলের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রোববার সন্ধ্যায় দলের গুলশানের কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আজ সবাই আশা করেছিল, বিদ্যমান সঙ্কট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী পথ দেখাবেন, রাষ্ট্রনায়কোচিত দিকনির্দেশনামূলক ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা বলবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তার বক্তব্যে সঙ্কট নিরসনের কোনো কিছুই নেই।

“প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে রাজনৈতিক সঙ্কট প্রচণ্ড ঘনীভূত হয়ে আসছে। এটা বাংলাদেশের আকাশকে অন্ধকার করে ফেলেছে।”

বিকালে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, “নির্বাচনের আগে সংবিধানে কোনো সংশোধন হবে না। জনগণের ভোট নিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। একচুলও নড়া হবে না।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপির নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি সংবিধানে পুনঃস্থাপনের দাবি কার্যত প্রত্যাখ্যাত হল।তবে ফখরুল আশা করছেন, সরকারের ‘শুভ বুদ্ধি’ হবে।

“সরকারের উচিৎ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগী হওয়া। নিদর্লীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করা।”সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের পর এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আগামী নির্বাচন হবে।

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না দাবি করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি সংবিধানে পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি।

আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধনের কথা আওয়ামী লীগ বলে এলেও বিএনপির অভিযোগ, ক্ষমতা ধরে রাখতেই নিজেদের অধীনে নির্বাচনের ‘ব্যবস্থা’ করেছে ক্ষমতাসীন দল।

ফখরুল বলেন, “সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা সরকার নিজেই চালাচ্ছে। তারা বারবার একতরফা নির্বাচনের কথা বলছেন। সরকার নিজেরা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান, যাতে দেশ অনিশ্চয়তার দিকে চলে যায়।”

বিএনপি আদালতের রায় মানছে না বলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিনয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই- আদালতের রায়ে দুটি অংশ ছিল।

“সেখানে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্র ও জাতির স্বার্থে আরো দুটি নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে। কিন্তু সরকার তা বেমালুম চেপে গিয়ে সঙ্কট সৃষ্টি করে দেশকে অন্ধকার সুরঙ্গের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিএনপি যাবে না বলে আবার জানান ।

উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান বিএনপি নেতা।“প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়েছেন। জনগণের উপলব্ধি হয়েছে, সরকারের উন্নয়নের কোনো সুফল তারা পায়নি। শুধু নিজের কৃতিত্ব জাহিরের জন্য উন্নয়নের ফিরিস্তি দেয়াটা ঠিক নয়।”

বিএনপি নেতা বলেন, ১৯৭২ থেকে এ পর্যন্ত ধানের ৪২টি নতুন জাত উদ্ভাবন হয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানীরা এই ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। পাটের ক্ষেত্রে দেশি পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

“আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরা এসব নানা উদ্ভাবনী কাজ করে যাচ্ছেন। এই কাজের জন্য একক কৃতিত্ব দাবি করে সরকার মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে।”

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন