জাতীয়

শুক্রবার | ২০ অক্টোবর, ২০১৭ | ৫ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৮ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » খবর » জাতীয় » এত ‘আস্ফালন’ ভালো নয়: খালেদা জিয়া

এত ‘আস্ফালন’ ভালো নয়: খালেদা জিয়া

এত ‘আস্ফালন’ ভালো নয়: খালেদা জিয়া

‘আস্ফালন’ না করে নির্দলীয় সরকারের বিল সংসদে তুলে তা পাস করতে ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।

সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংবিধান থেকে একচুলও নড়া হবে না- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে এই আহ্বান জানান তিনি।

বেগম জিয়া বলেন, “দেশের ৯০ ভাগ মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। এখনো সময় আছে, নির্দলীয় সরকারের বিল পার্লামেন্টে এনে তা পাস করুন, দেশে অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।”

স্বেচ্ছাসেবক দলের এই সমাবেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনার পাশাপাশি আগামীতে ক্ষমতায় গেলে কী কী করবেন, তাও তুলে ধরেন তিনি।

খালেদা জিয়া সেই সঙ্গে বলেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কাজ করবেন।

“আমরা ক্ষমতায় গেলে নতুন ধারার রাজনীতি চালু করব। বিভক্তি ও অনৈক্যের পরিবর্তে ঐক্যের রাজনীতি করব। আওয়ামীলীগসহ সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করব।”

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের পর থেকে তা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি।

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না দাবি করে আন্দোলনরত বিএনপির উদ্দেশে রোববার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের ভোট নিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছি। যা হবে সংবিধান মোতাবেক হবে। এক চুলও নড়া হবে না।”

ওই বক্তব্যের মাধ্যমে কার্যত বিরোধী দলের দাবি প্রত্যাখ্যানের প্রেক্ষাপটে জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সোমবার জনসভায় এলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

শেখ হাসিনার বক্তব্যের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, “এত আস্ফালন কেন? এত জোর গলা কিংবা লাফালাফি ভালো নয়।

“জনগণের আন্দোলনের বাতাসে গেলেই কিন্তু চুল উড়ে যাবে। এমন আন্দোলন হবে, চুল উড়ে দিশেহারা হয়ে যাবেন। চুল তো থাকবেই না, অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি পড়বে।”

“প্রধানমন্ত্রী জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। তিনি জনগণকে ভয় পাচ্ছেন, কারণ ক্ষমতা চলে গেলে তারা এলাকায় যেতেই পারবে না। এখন দলের নেতা-কর্মীদের সাহস দিতে জোরে কথা বলছেন,” বলেন খালেদা।

সমাবেশে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা বলেন, “আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, একচুলও নড়বেন না। আমরা বলতে চাই, আপনাকে একচুল নয়, বহুচুল পর্যন্ত নড়তে হবে। নইলে আপনার মাথায় কোনো চুল থাকবে না।”

নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “আপনারা বলেছেন, অনেক উন্নয়ন করেছেন। তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে আপনাদের কেন এত ভয়?

“সরকারকে বলব, পার্লামেন্ট অধিবেশন ডেকেছেন। নির্দলীয় সরকারের নাম যা-ই হোক, এই সংসদেই বিল নিয়ে পাস করুন। গণতন্ত্রের পথে আসুন।”

সঙ্কট নিরসনে আলোচনার ‘পরিবেশ’ তৈরি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

দাবি না মানলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে সেজন্য নেতা-কর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

“আন্দোলন মাত্র শুরু হয়েছে। আগামীতে আরো কর্মসূচি আসবে। আগামী দিনের আন্দোলনের জন্য তোমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে।”

সরকার উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

“আওয়ামী লীগের চরিত্র লুটপাট, খুন, গুম আর জবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকা। তারা কোনো উন্নয়ন করেছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে না।”

নির্বাচনের আগে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণেও আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আজ বাংলাদেশের কী অবস্থা! তারা অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেছিল, কিন্তু তার কতটুকু তারা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে? তারা জনগণকে যে ওয়াদা দিয়েছিল, তা পূরণ করতে পারেনি।”

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান শুভ্রের মুক্তির দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “হেফাজতে ইসলামের ওপর হামলায় তিনি যে মৃতের পরিসংখ্যান দিয়েছেন, তা সত্য।”

আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ‘অন্যায়ভাবে’ আটক রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার দেড় ঘণ্টার বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় গেলে কী কী করবে।

“আমরা নির্বাচনের ইশতেহার পরে দেব। তবে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত করে মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তুলব, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেব, মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ হবে।”

চাকরিতে কোটা সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে বিরোধী নেতা বলেন, “অতীতে আমাদেরও কিছু ভুল ছিল। দেশের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা চাকরি পাচ্ছে না। তারা রাজপথে আন্দোলন করছে। কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে সরকার তার দলীয় কর্মী, অদক্ষ ও অযোগ্যদের চাকরি দিচ্ছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে মেধার ভিত্তিতে চাকরি দেয়ার ব্যবস্থা করব। অল্প কিছু সংখ্যক কোটা থাকবে।”

পদ্মা নদীতে দুটি সেতু নির্মাণ, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করে স্থায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, তথ্য প্রযুক্তির প্রসার, বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-উত্তরবঙ্গ দ্রুতগামী ট্রেন চালুকে অগ্রাধিকার দেবেন বলেও জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার মাধ্যমে তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কোনো সমাবেশে অংশ নিলেন খালেদা।

স্বেচ্ছাসেবক দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী এই আলোচনা সভায় যোগ দেন। সভার দ্বিতীয় পর্বে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। এরপর হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আলোচনা সভায় বিএনপি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, ফজলুল হক মিলন, কাজী আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবউন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে সংগঠনটির নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, কেন্দ্রীয় নেতা মুনীর হোসেন, আলী রেজাউর রহমান রিপন, ইয়াসীন আলী, সাইফুল ইসলাম পটু, লিটন মাহমুদ, কামরুজ্জামান বিপ্লব, শাহাবুদ্দিন মুন্না।

বিএনপি নেতা জমিরউদ্দিন সরকার, এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিনা রহমান, শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল মান্নান, শামসুজ্জামান দুদু, বরকতউল্লাহ বুলু, জয়নুল আবেদীন, জয়নুল আবদিন ফারুক সমাবেশে ছিলেন।

এছাড়াও ছিলেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, লুৎফর রহমান খান আজাদ, আসাদুল হাবিব দুলু, এ টি এম আলমগীর, হাফিজ ইব্রাহিম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাইফুল আলম নিরব, জাফরুল হাসান, নুরী আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন