খবর

শুক্রবার | ২০ অক্টোবর, ২০১৭ | ৫ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৮ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » খবর » নৌকায় ভোট চাই আরেকটিবার: শেখ হাসিনা

নৌকায় ভোট চাই আরেকটিবার: শেখ হাসিনা

নৌকায় ভোট চাই আরেকটিবার: শেখ হাসিনা

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আরেকবার নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য জাতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমনন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।

দশম জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বলেন, “যতটুকু কাজ করেছি তা শেষ করার জন্য আরেকটিবার নৌকা মার্কায় ভোট চাই, যাতে উন্নয়ন অব্যাহত থাকে।”

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করে আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর মেয়ে হাসিনা বলেন, “পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি। আমার চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নাই। বাবার মতো আমার লক্ষ্য মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চাই।”

এজন্য যদি বাবার মতো ‘বুকের রক্ত দিতে হয়’, তা দিয়েও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকারের কথা জানান শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ ওয়াদা করলে তা রক্ষা করে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ায় আমরা মানুষের ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছি। আমরা জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই, দেশ থেকে দারিদ্রতা আরো কমাতে চাই।

অন্যদিকে বিএনপির হাতে কারো জানমাল ‘নিরাপদ নয়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ‘আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা’ করছে।

“হত্যা, খুন ও হত্যাকারীদের মদদ দেয়াই তাদের চরিত্র এবং এটাই তারা করছেন।”

আবোরো ভোট চেয়ে বর্তমান সরকারের সময় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ জনগণের সামনে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিপুল সমর্থনের কথা স্মরণ করে সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপানারা যে সহযোগিতা করছেন, তা চিরদিন মনে থাকবে।”

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ অংশে পশ্চিমমুখী ৬০ ফুট দৈর্ঘের সভামঞ্চে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় আওয়ামী লীগের এই জনসভা শুরু হয়। দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যানার ও পোস্টার হাতে মিছিল নিয়ে উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রথমে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দিতে মঞ্চে আসেন। বিকাল ৫টার দিকে সভাস্থলে পৌঁছানোর পর সবার শেষে বিকাল ৫টা ৪০ এ বক্তৃতা শুরু করেন শেখ হাসিনা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ‘পুরস্কৃত’ করেছিলেন। ভোট ‘চুরি করে’ তাদের পার্লামেন্টে বসিয়েছিলেন। আর বর্তমান সরকার সেই খুনিদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে।

“জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করেছিল বলেই যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়েছে। বিচারের রায় পেতে শুরু করেছেন বাংলার জনগণ।”

সমগ্র জাতি যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়, বিএনপি নেত্রী সেখানে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য ‘উঠে পড়ে লেগেছেন’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদ নাসিম, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ফজলে নূর তাপস জনসভায় বক্তব্য দেন।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন