জীবন যাপন

সোমবার | ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ৪ পৌষ, ১৪২৪ | ২৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » জীবন যাপন » রঙিন করি চুল

রঙিন করি চুল

রঙিন করি চুল
নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এখন অনেকেই চুলে বিভিন্ন রং করেন। ছোটবড়, সোজা বা কোঁকড়া– সব ধরনের চুলের জন্যই রয়েছে রঙিন সমাধান। চুলে রং করা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন হেয়ারোবিক্স ব্রাইডালের কর্ণধার তানজিমা শারমিন মিউনি।

সুন্দর চুলের স্টাইল অন্য সবার থেকে আলাদা করে তোলে। তবে সঠিক রং বাছাই করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গায়ের রং, পোশাক, মেইকআপ এবং চেহারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চুলের রং বাছাই না করলে হিতে বিপরীত হতে পারে ।

যাদের পাকাচুল তারা ছাড়াও আজকাল অনেকেই চুল বর্ণিল রংয়ে সাজাতে পছন্দ করেন। তবে আমি মনে করি কিছু পাকা চুল থাকাটা ব্যক্তিত্ব বিকাশের সহায়ক। এই আধুনিক জীবনের টেনশন আর দ্রুত জীবনযাত্রার জন্য চুল পাকা কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। পাকাচুল ঢাকার জন্য চুলে রং ধরানো ছাড়া উপায় নেই। বর্তমানে বাজারে নামকরা অনেক প্রতিষ্ঠানের ও ব্র্যান্ডের ভালো ডাই বা রং পাওয়া যায়। আপনার পছন্দমতো রং নির্বাচন করতে পারেন। বেশিরভাগ মানুষই কালো রং পছন্দ করেন।

তবে অনেক ক্ষেত্রেই এটি লাগালে অস্বাভাবিক লাগে। সে ক্ষেত্রে ‘ব্রাউন ব্ল্যাক’ ভালো কাজ করে। মধ্য চল্লিশ বা পঞ্চাশের অনেকেই ভাবেন চুলে রং করালে একেবারেই ভালো দেখাবে না। এক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের রং পাওয়া যায়, যাকে বলে লো-লাইটিং। এতে কাঁচা-পাকা ভাবটা বজায় থাকে। পুরো চুল দেখতে স্বাভাবিক লাগে।

সতর্কতা

* ভালো পার্লারে অভিজ্ঞ হাতে রং করাবেন।

* ত্বকের সঙ্গে মানানসই রং বাছাই করুন।

* বাংলাদেশিদের ত্বকের সঙ্গে ‘ব্লন্ড কালার না করাই ভালো। চেস্টনাট ব্রাউন, রিচ মেহগনি, বার্গেন্ডি ইত্যাদি রং আছে। এসব থেকে আপনার পছন্দমতো মানানসই রং নির্বাচন করুন।

* রং নির্বাচনে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে কোনো রূপবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

* সবসময় ভালো ব্র্যান্ডের রং নির্বাচন করুন।

রংয়ের ব্যবহার ও প্রকারভেদ

ক্ষণস্থায়ী : শ্যাম্পু করলে রং ধুয়ে যায়। এর পার্টিকল বা কণার আকার বড় হওয়ার কারণে হেয়ার কিউটিকল বা মাথার বাইরের চামড়ার স্তরের ভেতরে রং ঢুকতে পারে না। পানি বা ঘামে দ্রবীভূত হয়ে সহজেই ধুয়ে যেতে পারে। এতে নানা রকম কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়। যেমন- অ্যাজো, অ্যাঞ্জামিনোন, ট্রাইফিনাইন, মিথেল ইত্যাদি। নীল, সবুজ, লাল, কমলা, হলুদ, বেগুনি যে কোনো রং করা যায়। লিকুইড রিনজ, জেল, স্প্রে হিসেবে পাওয়া যায়। এগুলো চুলের তেমন কোনো ক্ষতি করে না।

আধা-ক্ষণস্থায়ী : টেক্সটাইল ডাই কয়েকবার শ্যাম্পু করলে উঠে যায়। বেশ কয়েক রকম ডাই একত্রে মিশিয়ে ব্যবহার করলে তবেই মনের মতো রং পাওয়া যায়। এগুলো লোশন, শ্যাম্পু হিসেবে পাওয়া যায়। চুলের রংয়ের টোনিংয়ের জন্য এটি খুবই ভালো।

স্টেইন্স : সিন্থেটিক পলিমারজাতীয় যৌগ। লাল, নীল, হলুদ বা বেগুনি রং করতে কাজে লাগে। ওয়ালনাট স্টেইন (আখরোট গাছের পাতার নির্যাস) চুলের কালচে বাদামি রং দিতে সক্ষম।

ভেজিটেবল ডাই : এর রং অত্যন্ত প্রাচীন। চার হাজার বছর আগে মিসরীয় সুন্দরীরা হেনা বা মেহেদি ব্যবহার করতেন। হেনার পাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে তাতে পানি মেশালে অ্যাসিডিক ন্যাপথাকুইনোন ডাই তৈরি হয়। এটি পেস্টের মতো করে চুলে লাগিয়ে ঘণ্টাখানেক রাখলে রং ধরে যায়। সাধারণত লালচে রং হয়। স্বাভাবিক হেনা, চুলকে শক্ত ও ভঙ্গুর করে। সিন্থেটিক হেনা প্রোডাক্টগুলো প্রাকৃতিক হেনা এবং মৌলিক ডাইয়ের সংমিশ্রণ। এটি চুলের জন্যও ভালো।

স্থায়ী : এ পদ্ধতিতে রং চুলের করটেক্সের মধ্যে পৌঁছে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় থাকে। পারমানেন্ট হেয়ার-ডাই কিউটিকল বা মাথার বাইরের চামড়ার স্তর ভেদ করে চুলের অভ্যন্তরে পৌঁছায়। তাই এতে হেয়ার শ্যাফটের ক্ষতি হতে পারে। সেক্ষেত্রে কয়েকটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন-

* পারমানেন্ট ওয়েডিং এবং পারমানেন্ট ডাই করতে হলে দিন দশেক আগে ওয়েডিং করে নিন।

* চুলের রং হালকা করতে গেলে হেয়ার শ্যাফটের ক্ষতি হয় বেশি। গাঢ় করতে গেলে কম। তাই গাঢ় রং প্রয়োগ করে যত ইচ্ছা রং হালকা করতে পারেন- এটি চুলের কোনো ক্ষতি করবে না।

* বারবার রং করতে গেলে যতটা দেরিতে পারা যায়, ততটা দেরিতে করুন। অর্থাৎ দুবার রং করার মধ্যবর্তী ব্যবধান যতদূর সম্ভব বাড়িয়ে দিন। নতুন গজানো চুলের গোড়ার দিকে বেশি মন দিন। আগের রং করা অংশে কম। অন্য চুলের গোড়ার দিকে নতুন গজানো চুলে রং করুন। নিচের আগের করা অংশে একটু হালকাভাবে করুন।

হাইলাইটস

গোলাপি আভা ত্বকের ক্ষেত্রে কমলা রং এড়িয়ে চলুন। হলুদাভ ত্বকের ক্ষেত্রেও তাই করুন। অলিভ বা কালচে ত্বক যাদের তারা গাঢ় ডাই ব্যবহার করবেন এবং লো-লাইটস করবেন। যাদের চুল কালো এবং ‘ডার্ক ব্রুনেট’ তাদের চুলে শুধু রং লাগালেই যথেষ্ট নয়। কালো চুল হাইলাইটস করার ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি জানা প্রয়োজন।

হাইলাইটসের ক্ষেত্রে ভালো ফল পেতে হলে অবশ্যই কোনো রূপবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে যদি ২-৩টি শেইড দিতে চান। পুরো চুলে হেয়ার-ডাই করার আগে কানের পেছনের ত্বকে সামান্য রং লাগিয়ে দেখতে পারেন। কোনো র‌্যাশ বেরুচ্ছে কি না।

হেয়ার ডাইংয়ে এলার্জি হলে ব্র্যান্ড পরিবর্তন করতে পারেন। সেই সঙ্গে ‘নো-অ্যামোনিয়া’ লেখা দেখে নিন।

চুলে ব্লন্ড, রেড, ব্রাউন, পিংক, ব্লু-ব্ল্যাক, সল্ট অ্যান্ড পেপার গ্রে, নিওন গ্রিন, অ্যাশ ব্রাউন, গোল্ডেন ব্রাউন, ডিশওয়াটার ব্লন্ড, গোল্ডেন ব্লন্ড, পেপার গ্রে– যে রং-ই করুন না কেন, ঘনঘন রং করালে চুলের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

সাধারণত আমাদের দেশীয় ত্বকের বা স্কিন টোনের সঙ্গে কপার, চিনামন, জিঞ্জার, গোল্ডেন ব্লন্ড, বাটার স্কচ, কপার-কারামেল, মিডিয়াম অ্যাশ, বারগেন্ডি, গ্র্যানিট ইত্যাদি শেইডের সংমিশ্রণ ভালো মানায়। তবে আইবল এবং চোখের কমপ্লেকশনের সঙ্গে চুলের হাইলাইটস বা রংয়ের একটি ব্যালান্সড কম্বিনেইশন থাকা প্রয়োজন। কখনও এমন শেইড নির্বাচন করবেন না, যাতে চুলের শেইডের কারণে আপনার ত্বক মলিন লাগে।

চুলের ভলিউম বা পরিমাণ, চেহারার গড়ন, দেহের উচ্চতা, গলার উচ্চতা, চুলের ধরন, লাইফস্টাইল– সবকিছু খেয়াল রেখেই চুলের হাইলাইটস করা প্রয়োজন। অর্থাৎ অন্যকে যেভাবে ভালো লাগবে তা আপনাকে ভালো নাও লাগতে পারে। তাই সবকিছু বিবেচনায় রেখেই হাইলাইটের শেইড এবং মাপ নির্ধারণ করুন।

সতর্কতা

গরমের দিনে ঘামে ও কড়া রোদে রংকরা চুল সহজেই খারাপ হয়ে যায়। আলট্রাভায়োলেট ফিল্টার সমৃদ্ধ হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। এটা আপনার চুলকে রক্ষা করবে। সাঁতার কাটার পর চুল ভালো করে ধুয়ে নেবেন। পারলে সাঁতার কাটার আগে চুলে কন্ডিশনার বা তেল লাগিয়ে নিতে পারেন। রং করা চুলের জন্য বিশেষ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার করুন। হালকা হাতে টাওয়েল দিয়ে চুল মুছে নিন। জোরে ঘষে মুছলে চুলের কিউটিকল নষ্ট হয়ে রং হালকা হয়ে যাবে। মাসে অন্তত একবার কন্ডিশনিং হেয়ার ট্রিটমেন্ট করুন।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন