স্বাস্থ্য

শুক্রবার | ২০ অক্টোবর, ২০১৭ | ৫ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৮ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্বাস্থ্য সেবার নামে চলছে অবৈধ বাণিজ্য

রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্বাস্থ্য সেবার নামে চলছে অবৈধ বাণিজ্য

রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্বাস্থ্য সেবার নামে চলছে অবৈধ বাণিজ্য

তোমার জীবনের লক্ষ্য যাহার ইংরেজী “ইউর অ্যাইম ইন লাইফ” প্রবন্ধটির উত্তর লিখতে গিয়ে ডাক্তার হতে চাওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেন অনেক শিক্ষার্থী। কোমলমতী শিক্ষার্থীদের মানব সেবায় আগ্রহী করতে পাঠ্য বই লেখকরাও এ প্রবন্ধটির উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেন। প্রবন্ধে উল্লেখিত ডাক্তার ও তার সেবা কর্মের সঙ্গে এখনকার বেশির ভাগ ডাক্তারদের মিল খুজে পাওয়া যায় না। সেবা মূলক এই মহৎ পেশাকে কেন্দ্র করে চলেছে অবৈধ বানিজ্য। অনুমোদন ছাড়াই চলছে অধিকাংশ হাসপাতাল ও ক্লিনিক। স্বাস্থ্য অধিদফপ্তরের নিয়ম নীতি লঙ্গন করে একটি অসাধু চক্র বছরের পর বছর এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল কলেজ (মিডফোর্ট) হাসাপাতালকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার অলিতে গলিতে স্বাস্থ্য সেবার নামে চলছে প্রতারণা। যার জন্য প্রাণ দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের, ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার জন্য অকালে ঝড়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় জীবন। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও নার্সির হোম স্থাপনের জন্য ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট, ইনকাম ট্যাক্স ছাড়পত্র, প্রতিষ্ঠানের শয্যাসংখ্যা, বর্গফুট অনুসারে প্রতিষ্ঠানের পরিমাণ, ইনডোর, আউটডোর ও ভৌত সুবিধা, জরুরী বিভাগ, ওটি, ওয়াশরুম, লেবার রুম, অপেক্ষা কক্ষ, অফিস কক্ষ, প্রশস্ত সিঁড়ি জেনারেটর, পোষ্ট অপারেটিভ রুম, ইনষ্টুমেন্ট রুম, অভ্যার্থনা রুম, স্ট্যাবিলাইজার, ড্রেসিং রুম, নার্সদের ডিউটি কক্ষ, ডাক্তার কক্ষ, অস্ত্রপাচার কক্ষের সবিধা (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিন কক্ষ, ওটি টেবিল, সাখার মেশিন, জরুরী ঔষুধের ট্রে, অক্সিজেন, ওটি লাইট, অ্যানেসথেশিয়া মেশিন, ডায়াথার্ম মেশিন, রানিং ওয়াটার, আইপিএস) যন্ত্রপাতির পূনাঙ্গ তালিকা সর্বক্ষণিক ডাক্তার নার্সসহ সংশিষ্ট্রদের নাম ঠিকানা যোগ্যতার সনদপত্র নিয়োগপত্র জরুরী অত্যাবশকীয় যন্ত্রপাতি বর্জ্যব্যবস্থাপনা ও অ্যাম্বুলেন্স থাকতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারী ক্লিনিক খুলতে ১০ বেডের বিপরিতে ৩ জন ডাক্তার ৬ জন নার্স ১০ সুইপার মানসম্বত পরিবেশ ও অবকাঠামোর শর্ত পূরণ করতে হবে। ডায়াগণষ্টিক সেন্টারের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ জনে একজন ডিপ্লোমা নার্স ২জন এইড নার্স বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত পূরণের পর তদন্ত শেষে ক্লিনিক পরিচালনার অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। এসব শর্তের ধারে কাছে নেই পুরান ঢাকার অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগণষ্টিক সেন্টার। পুরান ঢাকার চানখারপুল, নবাবকাটরা রোড, নিমতলী, আজিমপুর, নাজিম উদ্দিন রোড, নবাবগঞ্জ কমিউনিটি ষ্টোর ও মিডফোর্ট এলাকার হাসপাতাল গুলো ঘুড়ে এসবের কিছুই পাওয়া যায় নি। এ শ্রেণীর দালাল চক্র কমিশনের বিনিময় রোগীদের বাগিয়ে এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করেন। ঘটেছে অনেক শিশু চুরির ঘটনাও। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শিফায়েত উল্লাহ বলেন পর্যান্ত জনবল না থাকার কারনে হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোর চিকিৎসা সেবা ও পরীক্ষার মান নিয়মিত মনিটর করা যাচ্ছে না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র এ কাজ করছে। বেসরাকরী চিকিৎসা সেবা আইনটি পাস হলে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মনিটরিং জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন