মন্তব্য

বুধবার | ১৮ অক্টোবর, ২০১৭ | ৩ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৭ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » মতামত » মন্তব্য » বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে জঙ্গিবাদ ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে জঙ্গিবাদ ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে জঙ্গিবাদ ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে আবার জঙ্গিবাদের উত্থান হবে দাবি করে আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বাগমারায় আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি, যে এলাকাটি ১০ বছর আগে দেশের জঙ্গি তৎপরতার কেন্দ্র পরিণত হয়েছিল। শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ফিরে আসবে। এটা দেশের মানুষ চায় না। “আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ফিরে আসবে। তাই শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যে আবার নৌকায় ভোট দিন।”

বিএনপির ‘মদদেই’ বাগমারায় জঙ্গিদের উত্থান হয়েছিল দাবি করে ওই এলাকায় জঙ্গিহামলায় নিহত ২২ জনের নাম বক্তব্যের শুরুতেই উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

“বিএনপি জঙ্গিদের মদদ দিয়ে বাগমারাকে রক্তাক্ত জনপদে পরিণত করেছিল, মানুষের নিরাপত্তা ছিল না। মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারত না, বাংলা ভাইয়ের নির্যাতন চলত প্রকাশ্যে। কেউ তখন শান্তিতে ঘুমাতে পারত না।” মা বোনেরা ঘরের বাইরে যেতে পারতোনা।

“গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন বলেই বাগমারাসহ সারাদেশে আর জঙ্গিবাদ নেই, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”“এদেশের মানুষ আর জঙ্গিবাদ চায় না। দেশের মানুষ শান্তি চায়, উন্নয়ন চায়। ‘বাংলাভাই’ আবার আসুক দেশের মানুষ তা চায় না,” বলেন শেখ হাসিনা।

বাগমারার রানী নদীর তীরে জনসভায় দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতা চান।“আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই, আবার নৌকায় ভোট দিন।”

শেখ হাসিনা বলেন, “হত্যা-সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আর দুর্নীতিই হচ্ছে খালেদা জিয়ার নীতি। আর বর্তমান সরকারের নীতি দেশের উন্নয়নসহ জঙ্গি ও সন্ত্রাস ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া।”

বিএনপি আমলে কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনে গুলি চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি।“তারা বিদ্যুৎ দিতে পারে না, কিন্তু বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুড়িয়ে দিতে পারে। আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, চাকরির ব্যবস্থা করেছি, রমজানে মানুষকে বিনা পয়সায় খাদ্য দিয়েছি।”

“আমরা সারের দাম কমিয়েছি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, বৃত্তি, উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছি এবং বিনামূল্যে বই বিতরণ করেছি।”

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের বিরোধিতা করে শেখ হাসিনা বলেন, “জামায়াত-বিএনপি ধর্মের নামে রাজনীতি করে। কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তনের ছবিকে জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনের ছবি হিসেবে দেখিয়ে বিএনপি-জামায়াত ধর্ম নিয়ে প্রতারণা করেছে। তাদের দিয়ে কীভাবে ধর্ম রক্ষা হবে।

“স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু মদ ও জুয়ার লাইসেন্স বাতিল করেছেন। আর জিয়া ‘মার্শাল ল’ দিয়ে ক্ষমতা দখল করে মদ ও জুয়ার লাইসেন্স দিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে গ্রামের স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দেয়ার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক  করেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেগুলা বন্ধ করে দিয়েছে।এবার ক্ষমতায় এসে সেগুলো চালু করা ছাড়াও আরো সাড়ে ১৪ হাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্র করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে এমনকি বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা বিনামূল্যে বই বিতরণ ও বৃত্তি বন্ধ করে দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “যারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চায়, খুনিদের উৎসাহ ও মদদ দেয়, যারা ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি, লুটপাট, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, সেই বিএনপি-জামায়াত জোট কখনো দেশের মানুষের উন্নয়নে বিশ্বাস করে না।”

ক্ষমতায় থেকে বিএনপি-জামায়াত দেশে কোনো উন্নয়ন করেনি দাবি করে তিনি বলেন, “ক্ষমতায় থেকে তারা শুধু নিয়েছে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে। দেশের মানুষকে কিছু দেয়নি।”

বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের পরিকল্পিত মিথ্যাচার সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে বলেন, “জামায়াত-শিবির ও হেফাজতকে নিয়ে আপনি মানুষ হত্যা করালেন, বায়তুল  মোকাররম মসজিদে আগুন দিলেন, কোরান শরিফে আগুন দিলেন।

“বিশ্বে কোনো মুসলমান এক সঙ্গে এতো কোরান শরীফ পোড়ায়নি। যারা কোরান শরীফে আগুন দিতে পারেন তারা কিভাবে ইসলামের হেফাজত করবেন?”

মতিঝিল থেকে হেফাজতের অবস্থান সরানোর পর সারাদেশে অপপ্রচার চালানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হাজার হাজার মুসল্লিকে নাকি হত্যা করা হয়েছে! আমরা যখন তাদের কাছ থেকে নামের তালিকা চাইলাম, দিতে পারেনি। তখন আড়াই হাজার থেকে একলাফে নেমে বলা হলো ৬১ জন নাকি নিহত হয়েছে।

“ওই ৬১ জনের নামের তালিকাও যে কতবড় ভুয়া তাও পত্রিকার মাধ্যমে দেশবাসী দেখছে। মানুষের লাশ নিয়েও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করাই এদের চরিত্র।”

বাগমারা দেউলা এনা পার্ক মেলা মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, সাংসদ খালেদ মাহমুদ চৌধুরী, মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, আব্দুল ওয়াদুদ দারা, এমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, জুনাইদ আহম্মেদ পলক, ইসরাফিল আলম ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় (রাজশাহী-৪) আসনের সাংসদ প্রকৌশলী এনামুল হক।

বাগমারায় প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই সাড়া পড়ে পুরো এলাকায়। সকাল থেকেই বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও পাঁয়ে হেটে মানুষ পৌঁছায় জনসভার মাঠে। বেলা ১২টার মধ্যেই জনসভাস্থল কানায় কানায় ভরে ওঠে।

দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে হাজার হাজার মানুষ মিছিলসহ জনসভায় আসে। হাজার হাজার নারী দল বেঁধে জনসভায় আসেন।

বাগমারায় নেমে জনসভায় যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর কমপ্লেক্স ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন