খবর

মঙ্গলবার | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ | ৪ আশ্বিন, ১৪২৪ | ২৭ জিলহজ্জ, ১৪৩৮

প্রচ্ছদ » খবর » ত্রিমুখী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত চানখারপুল

ত্রিমুখী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত চানখারপুল

ত্রিমুখী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত চানখারপুল
এলাকাসী, শ্রমিকলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে, আনন্দবাজার জামে মসজিদ মার্কেটের দখল নিয়ে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এই সংঘর্ষে পুলিশের রাবার বুলেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় ছাত্রসহ আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

২০ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাসলিমা পারভীন কল্পনা জানান, আনন্দ বাজার জামে মসজিদের পাশে জমি থেকে মার্কেট উচ্ছেদের জন্য রেলওয়ের নিবার্হী ম্যাজিস্টেট দুপুরে ওই এলাকায় যান।

কিন্তু এলাকাবাসী দাবি করে, ওই জমি তাদের, রেলওয়ের নয়। তারা জমির কাগজপত্র দেখালে ম্যাজিস্ট্রেট সেখান থেকে চলে যান।

ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পর ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি খায়ের হোসেন বাচ্চু, স্থানীয় যুবলীগ নেতা আউয়াল ও এনেক্স মার্কেটের নেতা রহমান দলবল নিয়ে ১ দশমিক তিন একর আয়তনের ওই জমির ‘দখল নিতে’ সেখানে যান বলে তাসলিমা জানান।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় ওই মার্কেটের জড়ো হওয়া লোকজনকে সরাতে গুলি ছোড়ে বাচ্চুর লোকজন। মার্কেটে দুপুরে খাবার খেতে যাওয়া  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রকে এ সময় মারধরও করা হয়।

এ খবর  বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছালে বিভিন্ন হল থেকে কয়েকশ ছাত্র বিক্ষোভ করতে করতে আনন্দবাজার মার্কেটের সামনে জড়ো হন। এক পর্যায়ে মার্কেটের লোকজন, শ্রমিকলীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ; পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে ব্যাপক লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্রকে বেধরক পেটাতে দেখা যায়।

পরে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এম এ জলিল জানান। সংঘর্ষ চলাকালে একটি বাসেও আগুন দেয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায় বলে জানান নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা নাজমা আক্তার।

এদিকে সংঘর্ষের সময় পুলিশের রাবার বুলেটে আহত ছয় শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন- উদ্ভিদবিদ্যার সোহাগ ফলিত রসায়নের সুমন, ভূতত্ত্বের শিবলী, রাশেদ ও ইসহাক এবং ফলিত পরিসংখ্যানের সজীব। এছাড়া সংঘর্ষে আহত আরো বেশ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী জানান, “পুলিশ এভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ছুড়তে পারে না। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

শ্রমিকলীগ নেতা বাচ্চু ওই এলাকায় কেন গিয়েছিলেন জানতে চাইলে মহিলা আওয়ামী লীগের নেতা তাসলিমা পারভীন কল্পনা বলেন, রহমান হুজুর, জামাল ও হুমায়নের সঙ্গে মিলে বাচ্চু আনন্দবাজারের ওই জমি সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেন। “ওই জমি দখলে নিয়ে সেখানে বহুতল মার্কেট ও বাসস্ট্যান্ড করার জন্য তারা এসেছিলেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা রোকসানা বলেন, “আমরা ৪০ বছর ধরে এখানে আছি। আমাদের সঙ্গে সরকারের মামলাও রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পযর্ন্ত এই জায়গা আমাদের।”

এদিকে সংঘর্ষের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আনন্দবাজারের সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

নীমতলী সড়কে ফ্লাইওভারের কাজ চলায় গুলিস্তান থেকে চকবাজার, হাজারীবাগ ও লালবাগের বহু যানবাহনকে চানখারপুলের এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয় বলে অবরোধের ফলে চালকরা ভোগান্তিতে পড়েন।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যিক *

*


5 − = 2

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>