জাতীয় শিক্ষা

শুক্রবার | ২০ অক্টোবর, ২০১৭ | ৫ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৮ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » শিক্ষা » জাতীয় শিক্ষা » প্রাথমিকেই কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক হচ্ছে

প্রাথমিকেই কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক হচ্ছে

প্রাথমিকেই কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক হচ্ছে

প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত সরকার কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার চিন্তা-ভাবনা করছে। এজন্য ক্রমান্বয়ে দেশের প্রতিটি স্কুলে একটি কম্পিউটার ল্যাব থাকবে এবং জনগণের জন্য ইন্টারনেট সেবা সহজতর করতে ব্যান্ডউইথের ব্যয় আরো কমানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে ভারত সরকারের সহায়তায় মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন এবং আইটির ওপর গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। প্রত্যেক জেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপিত হবে।

উল্লেখ্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরকালে দু’দেশের মধ্যে এ সম্পর্কিত এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।  এদিন আইসিটি মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ। স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিটি সচিব নজরুল ইসলাম খান।

এ প্রকল্পে সহায়তার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ল্যাব বিভিন্ন বিদ্যালয়ে স্থাপিত হয়েছে। পর্যায়ক্রম শহর ও গ্রামে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ল্যাব চালু হবে।

২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁর সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা যোগান দিতে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছে।

ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ তার দেশের আর্থিক সহায়তায় ৬৪ জেলায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনকে দুদেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে মাইলফলক হিসাবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষা কর্মসূচি সার্বজনীন স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন জনগণের মাঝে নতুন আশা জাগিয়ে তুলেছে।

তিনি বলেন, নতুন এই কার্যক্রম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‍আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই ল্যাব থেকে বাংলাদেশের শত শত স্কুলের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

এই শিক্ষা থেকে বিশ্ব তাদের কাছে দূর বলে মনে হবে না। যার ফলে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হবে।

হাই কমিশনার বলেন, কয়েকদিন আগে ঢাকায় আইটি সেক্টরের উন্নয়ন নিয়ে ফলপ্রসূ সেমিনার হয়েছে। ওই সেমিনারে ভারতের কয়েকটি কোম্পানি অংশ নেয়।
এরফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সার্বিকভাবে সহযোগিতার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে।

পঙ্কজ শরণ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন,আপনার বলিষ্ট নেতৃত্বে ফলে ভারত সহযোগিতার বেশ কয়েকটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে এগিয়ে এসেছে।

আমরা এরফলে বাণিজ্য ও অর্থনেতিক সহযোগিতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহযোগি, যোগাযোগ শক্তি ও জ্বালানি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার উন্নয়ন, সংস্কৃতি বিনিময়ে, মানুষে মানুষে সহযোগিতা, মিডিয়া ও শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি লাভ করেছি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এ কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত ওই স্কুলগুলোতে ভারতের পক্ষ থেকে ১০টি করে কম্পিউটার ও দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে। এ কার্যক্রমে ব্যয় হবে ৪ কোটি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন