কৃষি

বুধবার | ২৬ জুলাই, ২০১৭ | ১১ শ্রাবণ, ১৪২৪ | ২ জিলক্বদ, ১৪৩৮

প্রচ্ছদ » খবর » কৃষি » নারিকেলে ইরিওফাইট মাকড়ের আক্রমণ

নারিকেলে ইরিওফাইট মাকড়ের আক্রমণ

নারিকেলে ইরিওফাইট মাকড়ের আক্রমণ

ছয় পায়ের অতিক্ষুদ্র ইরিওফাইট মাকড়ের আক্রমণে গাছেই নষ্ট হচ্ছে দেশের ৯০ শতাংশ নারিকেল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর ইরিওফাইটের আক্রমণে দেশের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অধিক মূল্যের নারিকেল গাছেই নষ্ট হচ্ছে।

উদ্ভিদ কীটতত্ত্ববিদ ও নারিকেল গবেষকরা জানান, ইরিওফাইট নামে এক প্রকার ক্ষুদ্র মাকড় পরাগায়ণের পর থেকে ডাবের মুখের দিকে বোঁটার নিচে মুটকিতে আক্রমণ করে রস চুষে খেয়ে ফেলে। একই সঙ্গে এটি নারিকেলের নরম তন্তু খেয়ে ফেলে। ফলে নারিকেল শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। সারাদেশে নারিকেলের বাগানে ইরিওফাইট মাকড় ভয়াবহ রকমে ছড়িয়ে পড়ায় উৎপাদন প্রায় ৯০ শতাংশ কমে এসেছে। তারা জানান, মাকড় প্রতিরোধ করা না গেলে নারিকেলের উৎপাদন দ্রুত আরও কমে আসবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২০০৪ সালে প্রথমে ইরিওফাইট মাকড়ের আক্রমণ নজরে আসে। নব্বই দশকে ভারতের কেরালা থেকে ‘কেরালা ড্রপ’ জাতের নারিকেল আমদানির মাধ্যমে মাকড়টি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। নারিকেলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এ মাকড় ১৯৬৫ সালে মেক্সিকোতে প্রথম ধরা পড়ে। এরপর ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে শ্রীলঙ্কায় মাকড়ের আক্রমণ লক্ষ করা যায়। ভারতে ধরা পড়ে ২০০০ সালে। বাংলাদেশে খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ৩৫ কোটি নারিকেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দেশে প্রায় ১০ কোটি নারিকেল উত্পন্ন হয়। খুলনা, বরিশাল, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, যশোর ও চট্টগ্রামসহ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোয় নারিকেল উত্পাদন কমে যাওয়ায় নারিকেল বাগানnosto-narkel মালিকদের আয়ের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, একটি প্রাপ্তবয়স্ক গাছে বছরে ১২০-১৫০টি পর্যন্ত নারিকেল ধরে। বর্তমানে তা ৫-১০টিতে নেমে এসেছে। কোথাও শূন্যতে নেমে এসেছে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পিয়ারপুর গ্রামের নারিকেল বাগানের মালিক রিহাত রব্বানী তুহিন জানান, বাগানের ৪০টি নারিকেল গাছে এখন বছরে মাত্র ৪০-৫০টি নারিকেল ভালো পাওয়া যাচ্ছে। চার বছর আগেও প্রতিগাছে ৮০ থেকে ১০০টি নারিকেল পাওয়া যেত। যশোরের রূপদিয়ে অঞ্চলের নারিকেল বাগানের মালিক কবির শেখ জানান, কম উত্পন্ন হওয়ায় বাজারে প্রতিটি নারিকেল ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও প্রতিটি নারিকেল ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হতো। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাকড় প্রতিরোধে দুই বছর আগে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পটির গবেষক ও যশোর আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও নারিকেল গবেষক ইসাকুল ইসলাম বলেন, পাখি, মৌমাছি ও বাতাসের মাধ্যমে মাকড় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে নারিকেল উৎপাদন দ্রুত কমে আসছে। মাকড়টি খালি চোখে দেখা যায় না। শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়। নারিকেলের জন্মের প্রথম দুই মাসে এরা আক্রমণ করে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ নারিকেল এই মাকড়ের আক্রমণে নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে বহু জাতের নারিকেল রয়েছে। সাধারণত হলুদ রংয়ের নারিকেলে মাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম লক্ষ করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। গাছের আক্রান্ত নারিকেলগুলো কেটে ফেলে দিতে হবে। বাকি নারিকেলে দুই মাস বয়সে মাকড়নাশক ওমাইট স্প্রে করতে হবে।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যিক *

*


8 − 7 =

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>