কৃষি

শুক্রবার | ২০ অক্টোবর, ২০১৭ | ৫ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৮ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » খবর » কৃষি » লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চা উৎপাদনে রেকর্ড

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চা উৎপাদনে রেকর্ড

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চা উৎপাদনে রেকর্ড

পরিমিত বৃষ্টি ও তাপমাত্রা অনুকূল থাকার কারণে রোগের ধকল কাটিয়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ভ্যালির ১৭ চাবাগানে মৌসুমের প্রথম ৫ মাসে সাড়ে ৬ শতাংশ চা বেশি উৎপাদন হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ কেজি বেশি। চা সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, গত বছরের ন্যায় এবারও চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

চাবাগান ও ভ্যালি সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরের খরার পর এবার মৌসুমের শুরুতেই ভ্যালিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে ভ্যালির ১৭টি চাবাগানে উৎসবমুখর পরিবেশে চা উৎপাদন শুরু হয়। গত মৌসুমের প্রথম ৫ মাসে ভ্যালির ১৭টি চাবাগানে উৎপাদিত হয়েছিল ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ২০ কেজি পাতা। চলতি মৌসুমের একই সময়ে উৎপাদিত হয়েছে ৪৪ লাখ ১৯ হাজার ৭৪১ কেজি পাতা। যা গত বছরের তুলনায় ২ লাখ ৭২ হজার ৭২১ কেজি পাতা বা ৬.৫৮ শতাংশ বেশি উৎপাদিত হয়েছে। ২০০৭ সালের পর থেকেই নানারোগে আক্রান্ত হয়ে এবং কয়েক বছর খরার কবলে পড়ে ভ্যালির চাবাগানে উৎপাদনে ধস নেমেছিল। ২০১২ সালে পুনরায় চা উৎপাদন ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। আশার আলো দেখা দেয় ২০১২ সালে। ওই বছর ভ্যালিতে রেকর্ড পরিমাণ ১ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা পাতা উৎপাদিত হয়। গত বছর চা উৎপাদন মৌসুমে ভ্যালির ১৭টি চাবাগানের মধ্যে অধিকাংশ চাবাগানে হেলোফেলটিস ও রেড স্পাইটার রোগের আক্রমণ দেখা দিলেও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রোগের ধকল কাটিয়ে এসব বাগানে ২০১২ সালে রেকর্ড সংখ্যক পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারও ভ্যালির চান্দপুর, চণ্ডিছড়া, লস্করপুর ও রেমা চাবাগানে হেলোফেলটিস এবং রেড স্পাইটার রোগ দেখা দেয়। আবহাওয়া, পরিমিত বৃষ্টি ও তাপমাত্রা থাকার কারণে গত tea-garden2৫ মাসে ভ্যালির দেউন্দি চাবাগানে ৩৭.৪৭ শতাংশ, ইমাম অ্যান্ড বাওয়ানী চাবাগানে ৫৮.৮১ শতাংশ, লালচান্দ চাবাগানে ২১.৩৩ শতাংশ এবং ডানকান ব্রাদার্সের চাকলাপুঞ্জি চাবাগান ১১.৭৩ শতাংশ চা বেশি উৎপাদিত হয়েছে। তবে জুলাই মাসে ভ্যালির প্রায় সবগুলো বাগান গত বছরের চেয়ে বেশি চা উৎপাদন করেছে। যা গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩১৫ কেজি বেশি। নালুয়া চাবাগান ভ্যালির সর্বোচ্চ রেকর্ড সংখ্যক ৪ লাখ ৯১ হাজার কেজি চা উৎপাদন করেছে। তবে গত বছর সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী নালুয়া, আমু এবং চান্দপুর চাবাগান এখনও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে আছে। ২০১২ সালে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ভ্যালিতে বৃষ্টিপাত হয়েছিল ১৩০.৮২ সে. মিটার। চলতি মৌসুমে ভ্যালিতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৩৩.৬৮ সে. মিটার। যা ২০১২ সালের তুলনায় ৩.১৪ সে. মিটার বেশি। কিন্তু চা উৎপাদনে অনুকূল আবহাওয়া ও তাপমাত্রা সহনীয় মাত্রায় ছিল। ফলে উৎপাদন বেড়েছে আনুপাতিক হারে। জানতে চাইলে ডানকান ব্রাদার্সের আমু চাবাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মোঃ ফারুক চৌধুরী বলেন, মৌসুমের প্রথমে কিছুটা খরা থাকায় আমাদের উৎপাদন ঘাটতি হয়েছে। বর্তমানে সঠিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা অনুকূলে থাকায় আশা করছি আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাবে। ডানকান ব্রাদার্সের সবগুলো বাগানেই এবার এ অবস্থা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, ২০১২ সালে ভ্যালিতে ১০ শতাংশ চা বেশি উৎপাদিত হওয়ায় আমাদের আশার সঞ্চার করেছে। চলতি বছর আগামী ৩/৪ মাস অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করলে এবং রোগ-বালাই দেখা না দিলে চা উৎপাদন আগামীতেও আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা রাখছি। লস্করপুর ভ্যালির ১৭টি চা বাগানের ফাঁড়িসহ ২৪টি বাগানের এ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ক্রমান্বয়ে ভ্যালিতে চা উৎপাদন কমে যাওয়ার আশংকা দূর হবে এবং দেশের চা শিল্পকে মারাত্বক বিপর্যয়ের হাত থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে চা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন