জাতীয়

বুধবার | ২৬ জুলাই, ২০১৭ | ১১ শ্রাবণ, ১৪২৪ | ২ জিলক্বদ, ১৪৩৮

প্রচ্ছদ » খবর » জাতীয় » তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে রাজধানী সহ সারা দেশ

তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে রাজধানী সহ সারা দেশ

তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে রাজধানী সহ সারা দেশ

আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে লোডশেডিং। গত কয়েক মাসে পর্যায়ক্রমে তা বেড়ে বর্তমানে ভয়াবহ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর প্রায় প্রত্যেক এলাকায়  লোডশেডিংয়ের দৃশ্য একই রকম। এ অবস্থায় সীমাহীন দুর্ভোগে কাটছে মানুষের জীবন। যেসব বাড়িতে আইপিএস আছে সেগুলো অনেকাংশে কাজে আসছে না বলে জানালেন কেউ কেউ। তাদের মতে, আইপিএস চার্জ হওয়ার জন্য যতটুকো সময় বিদ্যুৎ থাকার প্রয়োজন তাও থাকছে না।

ঢাকায় বিত্তবান এলাকা বলে খ্যাত গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি ছাড়াও অন্যান্য এলাকা যেমন মিরপুর, খিলক্ষেত, মগবাজার, মালিবাগ, সায়েদাবাদ. গোড়ান, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী সব জায়গাতেই লোডশেডিংয়ের ভয়াবহ অবস্থা চলছে। শুধু রাজধানী নয়, ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতেও চলছে ব্যাপক লোডশেডিং।

মিরপুরের বাসিন্দা লাভলী বলেন, দিনের বেলায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ গেলেও তা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু যখন রাতে বিদ্যুৎ থাকে না তা কোনোভাবেই তা মেনে নেয়া যায় না। কিন্তু তারপরও আমাদের মানতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত যাচ্ছে না। তাছাড়া বাচ্চার পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চলমান লোডশেডিং পুরো সেপ্টেম্বর মাস এবং অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকবে। অক্টোবরে লোডশোডিং আরো বেড়ে যাবে। তবে শীতে তা কমে আসবে। কিন্তু লোডশেডিং কমানোর ক্ষেত্রে নতুন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দেয়া তথ্য মতে, সার কারখানাগুলো চালুর কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। গ্যাস সংকটে এ মাসের শুরু থেকেই বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৬টি ইউনিট। গত কয়েক সপ্তাহে বন্ধ হয়ে গেছে এক ডজনেরও বেশি। সব মিলিয়ে ১৫৯৭ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ১৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হতো। এছাড়া গ্যাসের জোগান কমে যাওয়ার ফলে চালু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক গড়ে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে বলে জানায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হলো- ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিট, সিদ্দিরগঞ্জের দুটি ইউনিট, হরিপুর, টঙ্গী, চট্টগ্রাম রাউজান বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট, শিকলবাহা, খুলনার তিনটি ইউনিট, ভোলা ও বাঘাবাড়ী ওয়েস্টমেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র।

লোডশেডিংয়ের কারণ হিসেবে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদার সাথে উৎপাদনের ব্যাপক ফারাক থাকার কারণে তা কোনোভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারছে না বলে জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ।

পিডিবি চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহাব খান বলেন, বিদ্যুতের উৎপাদনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এর ব্যবহারও বেড়ে চলছে। ফলে ঘাটতি কিছুটা রয়ে গেছে। সার কারখানাগুলো পুরোমাত্রায় চালু হওয়ায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সংকট আরো বাড়বে বলেও আভাস দেন তিনি। তবে বিকল্প উপায়ে সংকট কাটানোর চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

বেসরকারি হিসেবে প্রতিদিন যে ঘাটতির কথা বলা হয় তাকে কিছুটা বলা যায় কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বেসরকারিভাবে কে কিভাবে হিসেব করে তা জানি না। তবে তা আমাদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নাও হতে পারে।

এ সংকটের কারণ হিসেবে অনেকে আবার পেট্রোবাংলার জ্বালানি ঘাটতিকে দায়ী করে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন্স) কামরুজ্জামান জানান, কর্মকর্তারা বলছেন রমজান মাসে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দৈনিক গ্যাস পেত ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি। কিন্তু চলতি মাসে সার কারখান চালু হওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ ৮০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিডিবি’র এক কর্মকর্তা বলেন, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার তেল পোড়ানো হচ্ছে। এতে পিডিবির ঘাড়ে লোকসানের দায় বাড়লেও টাকা চলে যাচ্ছে সরকার সমর্থক বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের কাছে। এ কারণে বিদ্যুৎখাতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

ঢাকার একাংশের বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানি ডেসকোর ভারপ্রাপ্ত এমডি আরজাদ হোসেন জানান, তার এলাকার চাহিদার চেয়ে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ডেসকো এলাকায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৬২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু তারা বিদ্যুৎ পাচ্ছে ৫০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। ফলে লোডশোডিং দিয়েই এর বাকি চাহিদা সমন্বয় করা হচ্ছে।

রাজধানীর অপর এক অংশের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডিপিডিসির এমডি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) মো. নজরুল হাসান বলেন, উৎপাদন কম হওয়ায় লোডশোডিং একটু বেশি করতে হচ্ছ। তিনি জানান, ডিপিডিসি এলাকায় বিদ্যুতের এক হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৭০০ মেগাওয়াট। গড়ে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এদিকে লোডশেডিং বাড়ছে কেন জানতে চাইলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পরিচালক (জনসংযোগ) সাইফুল হাসান চৌধুরী বলেন, কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে।

পিডিবির প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার পরিপেক্ষিতে এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে  ৮শ থেকে সাড়ে ৮শ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাস সংকটের কারণে ৩শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এছাড়া একই কারণে পুরো দেশের হিসেবে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যিক *

*


− 3 = 2

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>