প্রধান খবর

বুধবার | ১৮ অক্টোবর, ২০১৭ | ৩ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৭ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » প্রধান খবর » আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচন নয়: খালেদা জিয়া

আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচন নয়: খালেদা জিয়া

আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচন নয়: খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না।

রবিবার বিকালে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিকেল পৌনে পাঁচটায় বিএনপি চেয়ারপারসন বক্তৃতা শুরু করেন। বৃষ্টি কাদা উপেক্ষা করে বক্তব্য শোনার জন্য উপস্থিত জনতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রায় ৫০ মিনিট বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া।

দেশ রক্ষার আন্দোলনে প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা চেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, নিজেদের সম্মান রক্ষার্থে সরকার গীত শুরু করেছে। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেখতে চাই। এর পর সরকারের ক্ষমতা শেষ। তারপর আমাদের কর্মসূচি দেবো। আন্দোলনে জনগণের সমর্থন পাচ্ছি। এজন্য প্রশাসনেরও সহযোগিতা চাই।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হটাও, দেশ বাঁচাও, রাজপথে দেখা হবে, আন্দোলনে দেখা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে চোর বেইমান সরকারকে বিদায় করতে হবে।

সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মী সমর্থকরা জনসভায় যোগ দেয়। ভিড়ের মধ্যে চারজন অসুস্থ হয়েছে বলে মঞ্চ থেকে জানানো হয়। তাদের সেবার জন্য মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছবি সংবলিত পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়  গোটা মহানগরী।

তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, খনিজ সম্পদ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আন্দোলনে সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দরকার আছে। তবে রামপালের মতো জায়গায়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে দেয়া হবে না। সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। বনের পশুপাখি থাকবে না। গাছ থাকবে না। এখানকার পানি নষ্ট হয়ে যাবে।

পাটশিল্পের মতো গার্মেন্ট শিল্প ধ্বংসের পরিকল্পনা করছে সরকার অভিযোগ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্ট শিল্প ধ্বংস করে সরকার বেকার সৃষ্টি করতে চায়। গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিয়ে সমাবেশ করায় নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

খুলনার শিল্প-কারখানার করুণ দশার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচনের বক্তৃতা দিতে আসেনি। এ খুলনাকে পরিবর্তন করবো। শিল্প-কারখানা ব্যাপক হবে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করা হবে। ইপিজেড গড়া হবে। রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য মংলাকে আধুনিক করা হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, মেয়র নির্বাচনে খুলনাবাসী এ সরকারকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। তাই এ সরকার একা নির্বাচন করতে চায়। সারাদেশের মানুষ এ সরকারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ। তিনি বলেন, যে সরকার রাস্তাঘাট করতে পারে না তাদের কাছে দাবি করে কি লাভ। উন্নয়ন আমরা করেছি। ভবিষ্যতেও দেখাবো ইনশাআল্লাহ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তাদের উন্নয়ন চোখে দেখা যায়। শেয়ারবাজারের মাধ্যমে নিজেদের উন্নয়ন করেছে। জনগণের উন্নয়ন করেনি।

তিনি বলেন, রূপসা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর যেদিন স্থাপন করেছি সেদিন আওয়ামী লীগ হরতাল করেছে। পরে আমরা এ সেতুর উদ্বোধন করেছি।

খুলনাকে পুনরায় শিল্পনগরীতে পরিণত করা হবে- এ ঘোষণা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ এ শিল্পনগরীর শিল্প-কারখানা ধ্বংস করেছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে সরকারি দলের নেতারা দুর্নীতি করেছে।

তিনি বলেন, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আগামীতে আমরা দুটি পদ্মা সেতু করবো।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ গরিবের টাকা লুট করে খায়। তারা নিজেরা কোটিপতি হয়। এ সরকার শেয়াবাজারের বিনিয়োগকারীরেদের রাস্তায় বসিয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা তুলে ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫টি সরকারি ব্যাংক লোপাট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংকের অবস্থা সবচেয়ে ভালো ছিল। এ ব্যাংক আমরা যে অবস্থায় রেখে এসেছিলাম সে অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ৩০৯ বছর লাগবে। এটা পুকুর চুরি নয় ডাকাতি।

দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতির জন্য মহাজোট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের সময় থেকে এখন সবকিছুর দাম তিনগুণ বেশি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময় বলেছিলেন ১০ টাকায় চাল খাওয়াবেন। ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কথা দিয়ে কথা রাখে না।

জনশক্তি রপ্তানিতে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে এখন আর কেউ যেতে পারছে না।

দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের অত্যাচার-নিপীড়নের কথা তুলে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এ সরকারের হাতে রক্ত আর রক্ত। তিনি বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় এসে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। কেন এ সরকার বিডিআর  বিদ্রোহ দমাতে পারলো না প্রশ্ন রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এর তদন্ত হলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে তদন্তও ঠিকমতো করেনি। তিনি বলেন, সরকার কেন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে রক্ষা করতে পারে না।

তিনি বলেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীকে গুম করে সরকার এখনও ফেরত দেয়নি।

খালেদা জিয়া বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে যারা কটূক্তি করেছে সরকার তাদের শাস্তি না দিয়ে আশ্রয় দিয়েছে।  সরকারের অনুমতি নিয়ে হেফাজতে ইসলাম এর প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। বহু লোককে হত্যা করেছে। এর তদন্তও হয়নি।

তিনি বলেন, এ সরকার কারো জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। ঘরে-বাইরে কেউ নিরাপদ নেই। তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈধ-অবৈধ অস্ত্র দিয়েছে। এজন্য কেউ নিরাপদ নয়।

সাংবাদিকরা হুমকির মুখে রয়েছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকারের আমলে ১৮ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকারীদের ধরা হয়নি। সাগর-রুনির কাছে সরকারের দুর্নীতির তথ্য ছিল। এ জন্য সরকার খুনিদের ধরেনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন  বলেন, সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। সময় হলে প্রকাশ করা হবে।

সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে  খালেদা জিয়া বলেন, স্বাধীনতার পরও আওয়ামী লীগ গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করছে।

তিনি বলেন, এ সরকার কাউকে সম্মান দিতে জানে না। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সবাই সম্মান করে। সরকার তাকে অসম্মান করছে। গ্রামীণ ব্যাংক দখল করতে চাইছে।

সরকারের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সম্মান যদি দিতে না পারেন দেশবাসী আপনাদের  ধিক্কার দেবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একমাত্র পরিকল্পনা এখন ক্ষমতায় থাকা।

তাদের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে। বিচার বিভাগ, প্রশাসন দলীয়করণ করেছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, আনসার ভিডিপিতে দলীয় লোক বসানো হয়েছে। এখনই আমাদের রাস্তায় জায়গা দেয় না, ঘরের মধ্যে মিটিং করতে দেয় না।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের তৈরি করা,  সেখানে দলীয় লোক বসানো হয়েছে। যাদের সত্য কথা বলার সাহস নেই। এই কমিশন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। ত্রুটিযুক্ত ভোটার তালিকা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবো না, করতে দেয়া হবে না। নির্বাচন প্রতিহত করবো।

তিনি বলেন, ২৫ অক্টোবর সরকারের সময় শেষ, তারা ভদ্র লোক হয়ে থাকলে বিদায় নেবে। এখনও পার্লামেন্ট আছে, নিরপেক্ষ সরকারের বিল এনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে যে বক্তব্য দিয়েছেন তারও কঠোর সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, আপনাদের সময় শেষ, বাড়ি পাঠানোর ক্ষমতা আপনাদের নেই। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের  নির্ভয়ে সঠিক দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হলে আমরা পুনর্বহাল করবো।

সরকারের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনারা এখন বাড়ি যাবেন,  সরকারি কমকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিহিংসাপরায়ণ না। আমরা কারো চাকরি খাবো না। আমরা হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতির করি না। আমরা সেবামূলক কল্যাণমুখী রাজনীতি করছি। সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়ে লাভ নেই। সবাই আপনাদের কাছ থেকে সরে এসেছে। সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না। কিন্তু অন্যায় করলে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

খালোদা জিয়া বলেন, এখনও সময় আছে, বিল আনুন, দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। মানুষের মধ্যে আগুনের যে স্ফুলিঙ্গ জেগে উঠেছে তা ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই। আপনাদের যারা সাহায্য করে তারাও থাকবে না।

মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আগামীতে যুব সমাজ দেশের নেতৃত্ব দেবে। এ সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে মাদক খাইয়ে তরুণদের ঘুম পাড়িয়ে রাখা। আমরা মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়বো।

তিনি বলেন, বিএনপি এলে সন্ত্রাস বন্ধ থাকে। আওয়ামী লীগের সময়ে জঙ্গিবাদ শুরু হয়েছে। কোনো জঙ্গিকে তারা ধরে নাই। আমরা ধরেছি। আমরা তাদের শাস্তি দিয়েছি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গিবাদ দমন হবে। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী সংগঠন। এরা ক্ষমতায় এলে জঙ্গি বাড়বে। জঙ্গিবাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক। আমরা নিজের ধর্মকে ভালোবাসি। অন্য ধর্মকে সম্মান করি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের মহাপরিকল্পনা আছে, পরিবর্তনের রাজনীতি করবো, ঐক্যের রাজনীতি করবো।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্মানজনক নয়। প্রধানমন্ত্রী সেখানে মিথ্যাচার করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা আলমগীর বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে শেখ হাসিনা কানে কানে বলেছেন তাদের অধীনের নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে।

তিনি বলেন, এটা মিথ্যাচার। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। এসময় সব রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আটক নেতাদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সংসদ বহাল রেখে সংসদ নির্বাচন এ দেশের মাটিতে হবে না। তিনি বলেন, এ নির্বাচন প্রতিহত করতে সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গিয়ে দেশের শান্তির জন্য পরিকল্পনা ইতোমধ্যে করা হয়েছে।

খুলনা জনসভার প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, এই সরকার রাষ্ট্র্রীয় ব্যাংক চালাতে পারে না। পুঁজি ঘাটতির জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ১৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়ে আবেদন করেছে।

তিনি বলেন, এসব ব্যাংকের পরিচালক বিশ্বব্যাংক নিয়োগ দেবে এ শর্তে তারা ঋণ দিতে রাজি হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা কোথায় গিয়েছে প্রশ্ন রাখেন তরিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মহাজোট সরকার শেয়ারবাজার খেয়েছে। এরপর দেশের মানচিত্র খেতে চায়। তাই পাড়া-মহল্লায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আগামী ২৪ অক্টোবরের পর ১৮ দলীয় জোট নেতাকর্মীদের আন্দোলন করতে দেয়া হবে না বলে সরকারি দলের নেতারা বলছেন। তাদের এই দম্ভ ভেঙ্গে দিতে হবে। তিনি বলেন, এটা ২০০৭ সাল নয়, লগি-বৈঠার সুযোগ নেই।

মির্জা আব্বাস বলেন, ২৪ অক্টোবরের পর খালেদা জিয়ার শাসনে দেশ চলবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেন, বিগত ৪ বছর ৯ মাসে সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে। তারা জোর করে সংবিধান সংশোধন করেছে। কারণ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সারাদেশের আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শামসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি প্রটোকল করে দেশব্যাপী নির্বাচনী সমাবেশ করছেন। তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ শেখ হাসিনার খুন, হত্যার উপহার চায় না।

তিনি বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অন্য নেতাদের কারাগারে হত্যা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক আন্দোলন সফল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জামাতের এ নেতা।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, ২৫ অক্টোবরের পর দেশ চলবে ১৮ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার অধীনে। তিনি বলেন, দেশনেত্রী (বিএনপি চেয়ারপারসন) যদি নির্দেশ দেন তাহলে রাস্তাঘাট সব বন্ধ করে দেয়া হবে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ সব রাজনৈতিক নেতার মুক্তি দাবি করে প্রধান বলেন, তা নাহলে কারাগারের দরজা ভেঙ্গে তাদের মুক্ত করে আনা হবে।

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, ২৪ অক্টোবরের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে না নিলে এরপর সরকারকে আর সময় দেয়া হবে না।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, সরকার মরণ কামড় দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। তিনি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজপথ দখলে রাখার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খালেদা জিয়া বিভাগীয় সমাবেশ করছেন এরপর ঢাকায় সমবেশ হবে, চলো চলো ঢাকা চলো। তিনি বলেন, সরকারকে অনাস্থা জানাতে ১০ লাখ মানুষ এ সমাবেশ উপস্থিত হয়েছে।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এম নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, বরকত উল্লাহ বুলু, মাহাবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, যুববিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সভানেত্রী নূরে আরা সাফা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, আব্দুল খালেক, এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদসহ ১৮ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তৃতা করেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গানি, বাংলাদেশ ইসলামী পার্টির সভাপতি আব্দুল মবিন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান সরোয়ার, ফজলুল হক মিলন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, যুব দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নীরব প্রমুখ।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন