বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বুধবার | ১৮ অক্টোবর, ২০১৭ | ৩ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৭ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি » সংসদে তথ্যপ্রযুক্তি আইন সংশোধন

সংসদে তথ্যপ্রযুক্তি আইন সংশোধন

সংসদে তথ্যপ্রযুক্তি আইন সংশোধন

ন্যূনতম ৭ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদন্ডের বিধান রেখে সংসদে ‘তথ্যপ্রযুক্তি (সংশোধন) বিল ২০১৩’ পাস হয়েছে।

রবিবার জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনে বিলটি সংসদে মন্ত্রী মোস্তাফা ফারুক মোহাম্মদ উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজার বিধান ছিল। আগের আইনে মামলা করতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হতো। কিন্তু আইন সংশোধনের ফলে পুলিশ অপরাধ আমলে নিয়ে মামলা করতে পারবে।

‘তথ্যপ্রযুক্তি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০১৩’-কে আইনে রূপ দেয়ার লক্ষ্যে সংসদে উত্থাপিত ‘তথ্য ও  যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন, ২০১৩’  পাস হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত অপরাধে পুলিশ ৪টি সুনির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে বিনা ওয়ারেন্ট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে এবং এসব অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধ জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। আগের আইনে সব অপরাধ জামিনযোগ্য ছিল।

গত ১২ সেপ্টেম্বর সংসদের চলতি ১৯তম অধিবেশনের প্রথমদিন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ নিয়ম অনুয়ায়ী ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধনী), ২০১৩’ অধ্যাদেশটি সংসদে উপস্থাপন করার পর সেটিকে বিলে রূপ দিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর এ বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধ্যাদেশ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বিভিন্ন মহল থেকে এর প্রতিবাদ জানানো হয়। অধ্যাদেশ থেকে বাক-স্বাধীনতা হরণের ৫৭ ধারা বাতিল করে জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশটি অনুমোদনের দাবি জানানো হয়। এছাড়া ওয়ারেন্ট ছাড়া পুলিশকে গ্রেফতারের ক্ষমতা প্রদানেরও সমালোচনা করা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য বিলটির ওপর জনমত যাছাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণসহ সংশোধনীর প্রস্তাব দিলেও তারা সংসদে না থাকায় সেগুলো উত্থাপিত হয়নি।

মূল আইনের ৫৪ ধারায় বর্ণিত অপরাধ- কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম ইত্যাদির অনিষ্ট সাধন, ৫৬ ধারায় বর্ণিত- কম্পিউটার সিস্টেমের হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ, ৫৭ ধারায় বর্ণিত- ইলেক্ট্রনিক ফরমে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও ৬১ ধারায় বর্ণিত- সংরক্ষিত সিস্টেমে প্রবেশ সংক্রান্ত অপরাধের দন্ড পরিবর্তন করে ‘অনধিক দশ বছর কারাদন্ডের’ স্থলে ‘অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বছর কারাদন্ডে’ শব্দাবলী প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

মূল আইনের ৭৬ ধারায় সংশোধনী এনে ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১ ধারায় বর্ণিত অপরাধসমূহ আমলযোগ্য অর্থাৎ এসব অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারবে এবং এসব অপরাধকে অজামিনযোগ্য করা হয়েছে।

এ ধারার অনুচ্ছেদ (২) প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে- ‘(ক) ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১-এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ আমলযোগ্য (কগনিজেবল) ও অজামিনযোগ্য হইবে এবং (খ) ৫৫, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬২, ৬৩, ৬৪ ও ৬৫-এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (নন-কগনিজেবল) ও জামিনযোগ্য হইবে।’

বিলের উদ্দেশ্য কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ও প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধের জন্য আইনটি যোগোপযোগী করে বাস্তবতার আলোকে কতিপয় ধারা/উপধারার পরিমার্জন ও সংশোধনের প্রয়োজন অনুভূত হওয়ায় এ বিলটি প্রণয়ন করা হলো।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন