জাতীয়

বৃহস্পতিবার | ২৭ জুলাই, ২০১৭ | ১২ শ্রাবণ, ১৪২৪ | ৩ জিলক্বদ, ১৪৩৮

প্রচ্ছদ » খবর » জাতীয় » দেশের বৃহত্তম, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশের বৃহত্তম, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশের বৃহত্তম, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  শুক্রবার বিকাল ৩ টা ৫০ মিনিটে গুলিস্থানে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইওভারের উদ্ধোধন করেন।

এরপর তিনি সেখান থেকে ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে গাড়িতে চড়ে কুতুবখালি প্রান্তে যান এবং সেখানে ফলক উন্মোচন করেন। কুতুবখালি থেকে ফিরে শেষ বিকেলে ফ্লাইওভার উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে এক সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামী শনিবার থেকে ফ্লাইওভারটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে জানা যায়।

এর আগে ২০১০ সালের ২২ জুন মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার এর ভিত্তি প্রস্তার স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বছরের ডিসেম্বরে এ ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করার কথা থাকলেও দ্রুততার সাথে কাজ করার ফলে তা নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই সম্পন্ন হয়। ফলে পূর্বনির্ধারিত সময়ের ২ মাস আগেই দেশের দীর্ঘতম এই ফ্লাইওভার এর উদ্বোধন করা হয়।

চার লেনের ফ্লাইওভারটি প্রথমদিকে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের করা হলেও পরবর্তীতে মহানগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা মাথায় রেখে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সমন্বয় ও পলাশী অভিমুখে ফ্লাইওভার সমপ্রসারণের কারণে এর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার করা হয়। প্রধান প্রধান সড়ক ও বাস টার্মিনালের সঙ্গে ফ্লাইওভারটির সংযোগ রাখা হয়েছে। এর ৬টি প্রবেশমুখ এবং ৫টি বের হওয়ার পথ রয়েছে। গুলিস্তান থেকে কুতুবখালী ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেটসহ পূর্বাঞ্চলীয় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৩০টি জেলায় যাতায়াতে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। বিশেষ করে রাজধানীর কুতুবখালী-যাত্রাবাড়ী অংশে যানজট কমে যাবে।

২ হাজার ১০৮ কোটি টাকার নির্মাণ ব্যায়ের এ ফ্লাইওভারের কাজে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে কোন অর্থ ব্যয় হয়নি। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে এ প্রকল্প সম্পন্ন করেছে ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। ওরিয়ন গ্রুপই সম্পূর্ণ অর্থায়ন করেছে। ফ্লাইওভারটির ডিজাইন করেছে কানাডীয় কোম্পানি লি কানাডা। এটি নির্মাণ করছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল লিমিটেড। নির্মাণ কাজের ব্যবস্থাপনা করছে লাসা নামে ভারতের আরেকটি কোম্পানি।

ফ্লাইওভারের এ ব্যায় আদায়ে ওরিয়ন গ্রুপ নিজেই ফ্লাইওভারটির ব্যবস্থাপনা, টোল আদায় এবং রক্ষণাবেক্ষণ করবে। চালুর পর থেকে ২৪ বছর টোল আদায় করবে ওরিয়ন গ্রুপ। টোল থেকেই নির্মাণ ব্যয় তুলে নেবে তারা। পরে এটি হস্তান্তর করা হবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাছে। তবে প্রতিদিন যে টোল আদায় হবে তার শতকরা ৫ ভাগ দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের খাতে জমা হবে। ফ্লাইওভারটির আয়ুস্কাল ধরা হয়েছে ১০০ বছর।

ফ্লাইওভারে যানবাহন প্রবেশের সময় টোল দিতে হবে না। বের হওয়ার পথে টোলের জন্য নির্ধারিত অর্থ দিতে হবে। তবে জনসাধারণের প্রবেশে কোন বাধা থাকবে না, টোলও দিতে হবে না। যানবাহন অনুযায়ী নির্ধারিত টোলের হার: ট্রইলার ২০০ টাকা, ট্রাক ১৫০ টাকা, বাস ১৫০ টাকা, ট্রাক (চার চাকা) ১০০ টাকা, মিনি বাস ১০০ টাকা, পিকআপ ৭৫ টাকা, মাইক্রোবাস ৫০ টাকা, জিপ ৪০ টাকা, প্রাইভেট কার ৩৫ টাকা, অটোরিক্সা ১০ টাকা, দুই চাকার বাহন ৫ টাকা।

ওরিয়ন গ্রুপ টোল আদায়ে এই প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হবে এভিসি (অটোমেটিক ভেহিকেল ক্লাসিফিকেশন) পদ্ধতি। ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী গাড়িতে প্রি-পেইড স্টিকার লাগানো থাকবে। কোন গাড়ি ফ্লাইওভার অতিক্রম করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কেটে নেয়া হবে। এছাড়া টোল প্লাজাতেও নগদ টোল পরিশোধ করা যাবে।

উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু,  স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা, মোস্তফা জালাল মহউদ্দিন, এডভোকেট সানজিদা খানম, মেয়র হানিফ পুত্র সাঈদ খোকন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (দক্ষিন) ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন কনষ্ট্রাকশন ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যিক *

*


9 − 6 =

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>