উৎসব

শনিবার | ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ২ পৌষ, ১৪২৪ | ২৭ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » খবর » উৎসব » ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই

ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই

ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই

মহাসড়কের পথে পথে দীর্ঘ যানজট, সড়কে গাড়ি বিকল হওয়া, সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি চিটিং পার্টির বাড়তি উৎপাত যুক্ত হওয়ায় ঘরমুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ রীতিমতো চরম আকার ধারণ করেছে।

রবিবার কোথাও কোথাও মহাসড়কগুলোতে ত্রিশ থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দীর্ঘ জট তৈরি হয়, মহানগর ছেড়ে গ্রামমুখী যাত্রীবাহী গাড়িগুলো যেন আজ সোমবার চলছেই না।

এবার পবিত্র ঈদ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গা পূজার ছুটি পেয়ে শহরবাসী নাগরিকরা ১৩ তারিখ একদিনের ছুটি নিয়ে নয় দিনের ছুটি সহ গ্রামে ছুটতে শুরু করে। তাই রাস্তায় যানবাহনের চাপ একটু বেশিই। সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ায় যানজটের লাইন আরো দীর্ঘ হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা ও বাড়তি যানবাহনের চাপের সঙ্গে মহাসড়ক ঘেঁষে বসা পশুর হাট পরিস্থিতিকে আরো অসহনীয় করে তুলছে।

সোমবার ভোর ৫টায় সায়দাবাদ স্টার লাইন কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, এক যাত্রী কাউন্টারম্যানের কাছে টিকিট চাইলে তিনি বলেন, সারাদিনের কোনো টিকিট নেই। তারপর ঢাকা-মাইজদিগামী একুশে এঙপ্রেস পরিবহনে গিয়ে কোনো রকম একটি সিট ব্যবস্থা করে তাও পেছনে।

এরপর পথে পথে জ্যাম গুরুর ট্রাক থেকে চাদা আদায় করার কারণেও যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও চরমে উঠে।

এদিকে গুলিস্থান যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের কারণে দেড় থেকে দুই ঘন্টা যাত্রাবাড়ীতেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীবাহী বাসগুলোর। তা যেন যাত্রী দুর্ভোগ আরো চরম আকার ধারণ করে।

দুরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোর সামনে সোমবার ভোর থেকে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। আগের দিন যাত্রী নিয়ে যাওয়া গাড়িগুলো ফিরতি পথে মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়ায় কোনো বাসই ঢাকা থেকে সময় মতো ছাড়তে পারছে না। মহাসড়াকে এলোমেলোভাবে কোথাও রাস্তার ডান পাশে আবার কোথাও রাস্তার বাম পাশে ট্রাক আটকে আছে। যার কারণে যাত্রীদের এত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রবিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্র্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে ৫-৬ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে গাড়িগুলোর।

রাজধানীর সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের ব্যাপক ভীড়। খুলনাগামী ফালগুন পরিবহনের যাত্রী মঞ্জুরুক কবির জানান, আমি খুলনা যাওয়ার জন্য এক সপ্তাহ আগে ৩০০ টাকার টিকিট ৫০০ টাকা দিয়ে কেটেছি। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে গাড়ি ছাড়ার কথা। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টা বেজে গেছে, গাড়ি ছাড়ছে না।

বাড়ি যাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপেক্ষার মতো এমন  কষ্টের কিছু কি হতে পারে। আর সহ্য হচ্ছে না। এই দীর্ঘ সময় কাউন্টারে বসে থাকা যে কতো কষ্টের তা বুঝাতে পারবো না। এ সময় পাশেই বসা তার স্ত্রী বিরক্তির সুরে বলছিলেন, আমি বাড়ি যাবো না, চল বাসায় ফিরে যাই।

বিলম্বের কারণ জানতে কাউন্টারম্যান হাবিব হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, যে গাড়িগুলো আগের দিন যাত্রী নিয়ে গেছে; সেগুলো ফিরে না এলে ছাড়বো কি করে।

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়িগামী শান্তি পরিবহনের কাউন্টারম্যান মো. আমিনুল ইসলামের কাছে যাত্রী দুর্ভোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি মহাসড়কে প্রতিদিন গাড়িগুলোকে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার যানজটে বসে থাকতে হচ্ছে। এর ফলে ইচ্ছা থাকার পরও সময়মতো গাড়ি ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি জানান, মহাসড়কের বেহাল অবস্থা, পথে পথে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদা আদায়, ইনচার্জদের চাঁদা দিতে সময় লাগা ইত্যাদিকে তিনি দায়ী করেন।

ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী মধুমতি পরিবহনের কাউন্টারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ফ্লাইওভারের কাজ এবং সায়েদাবাদ থেকে যাত্রাবাড়ী রাস্তা মেরামত চলার কারণে যাত্রীদেরকে কষ্ট করে সায়দাবাদ থেকে হেঁটে দয়াগঞ্জ গিয়ে গাড়িতে উঠতে হয়। ভাড়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে ভাড়া ছিল ৩২০ টাকা, ঈদের সময়ে ভাড়া বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩৫০ টাকা।

সকাল ৭টায় সায়েদাবাদ সেবা ট্রান্সপোর্ট পরিবহনের সামনে গিয়ে এক ভদ্র মহিলাকে কাঁদতে দেখা যায়। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, টিকিট কাটার কথা বলে এক লোক আমার কাছ থেকে ৫০০শ’ টাকা নিয়েপালিয়ে গেছে। যানজটের পাশাপাশি প্রতারক পার্টির কবলে পড়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

এভাবে ঢাকা-বি,বাড়িয়াগামী সোহাগ পরিবহনসহ নোয়াখালীর ইকোনো, চট্টগ্রামের হানিফ, ফেনির স্টার লাইন, নোয়াখালী বসুর হাটের সেবা ট্রান্সপোর্ট, ঢাকা-কুড়িগ্রামগামী মোল্লা পরিবহন, হানিফ পরিবহন, নাবিল পরিবহন ইত্যাদি কাউন্টারগুলোতেও গিয়ে একই রকম চিত্র পাওয়া যায়।

এদিকে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা বগুড়া, পাবনা সিরাজগঞ্জ, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও সিলেট এলাকার বাস চলাচল করে।

এ পথের যাত্রী ও বাসচালকেরা জানান, টঙ্গীর স্টেশন রোড় থেকে চেরাগআলী, গাজীপুরা, জয়দেপুর চৌরাস্তা, জয়দেবপুর থেকে কোনাবাড়ি, সফিপুর, চান্দুরা, টাঙ্গাইল রুটের সাভারের জামগড়া, ফ্যান্টাসি কিংডম ও আশুলিয়া সড়কের বাইপাইল এবং সিলেট রুটে টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে মিরেরবাগ, নরসিংদীর পাঁচদোনায় তীব্র যানজট লেগে আছে।

এর কারণ জানতে চাইলে ঢাকা-সিলেট গন্তব্যের এক গাড়ি চালক মুজিবুর রহমান বলেন, কারণ গাড়ি বেশি, রাস্তা চিকন। আবার দেখা যায়, আধা ঘণ্টা বসে আছি জ্যামে।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান মোহাম্মদ রেজোয়ান জানান, টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর রাস্তায় যাতে কোনো গাড়ি থেমে না থাকে, সেজন্য কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি, বিশেষ টিম গঠন করে দায়িত্ব প্রদান ও ঢাকার চারটি ট্রাফিক বিভাগে ১২টি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানী গাবতলী বাস স্ট্যান্ডে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়, কাউন্টারগুলোর সামনে যাত্রীদের ভিড়।  টিকিটের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে শত শত যাত্রী। স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে তাদের বাড়িতে যেতেই হবে। তাই কষ্টকে কিছুতেই কষ্ট মনে করছে না অনেকেই।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন