সম্পাদকীয়

বুধবার | ১৮ অক্টোবর, ২০১৭ | ৩ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৭ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » মতামত » সম্পাদকীয় » কিছু নামহীন জীবনের মৃত্যু ও রাজনৈতিক স্বার্থন্ধতা

কিছু নামহীন জীবনের মৃত্যু ও রাজনৈতিক স্বার্থন্ধতা

কিছু নামহীন জীবনের মৃত্যু ও রাজনৈতিক স্বার্থন্ধতা

গতকালের ১৮ দলীয় জোটের সারাদেশ ব্যাপী সমাবেশকে কেন্দ্রকরে ছিল চরম উত্তেজনা। আর সে উত্তেজনার পিছনে যে যৌক্তিকতা ছিল তা হল কারও না কারও প্রানতো যাবেই যে কোন বিছিন্ন সংঘর্ষে।আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটা অনিবার্য নিয়মনীতিতে পরিনত হয়েছে। কোন সমাবেশ মানে অপরদলের পাল্টা সমাবেশ।এক্ষেত্রে আমরা খুবই রাজনৈতিক অধিকার সচেতন।আর সমাবেশ মানেইতো কিছু নাম না জানা সাধারন জনগনের আত্নাহুতি। এটা খুবই সহজ প্রক্রিয়া যে কোন সমাবেশকে সফল সমাবেশ হিসেবে বৈধ করার জন্য।কারও প্রানহানী নাহলে সেই সমাবেশকে আমরা কিভাবে বৈধ বলে দাবী করব।এটা এমন একটা নিয়মতান্ত্রিক নীতিতে পরিণত হয়েছে।

গতকাল সমাবেশ শেষে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ৭ জনের প্রানহানির ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত লেখা হয়েছে।কিন্তু কোথাও কেউ দাবী করেনি এই নামে মাত্র নাম পরিচয় জানা ৭ টি মানুষের জীবনের মূল্য কোন কিছু অর্জনের লক্ষ্যে নয়। শুধুমাত্র ভাল লাগা না লাগার দ্বন্ধে রাজনৈতিক স্বার্থকতার বলি হল যারা তারা তো কোন না কোন মায়ের সন্তান। তাদের এ জীবন উৎসর্গ আমাদের জাতীয় জীবনে কি কোন পরিবর্তন এনেছে। হ্যা! পরিবর্তন একটা তো হয়েছে বটে আর তা হল আগাম ডাকা ৬০ ঘন্টা হরতালের দাবীর বৈধতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আরও কিছু প্রাননাশের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।

গতকালের সমাবেশে যাদের উপস্থিতি আমি নিজ চোখে দেখেছি তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ সর্মথন কারীদের বয়স ছিল আনুমানিক ২০ বছরের নিচে। এরা সমবেত হয়েছিল ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে দু একজন দলীয় নেতার নেতৃত্বে। আমি ভেবে অবাক হয়েছি তারা রাজনীতি কতটুকু বোঝে এবং তারা যে স্লোগান দিচ্ছিল তা কেবল মাত্র কিছু শিখানো বুলি ছাড়া কিছুই নয়।কিছু লোকের সমাগমকেই আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দলের সমর্থন হিসেবে গনণা করে। তাতে তাদের কিছুই যায় আসেনা কোন দলের রাজনৈতিক সমাবেশ বা আলোচনায় কতলোক রাজনৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন উপস্থিত হল। এ ধরনের সর্মথকদের নিয়ে সমাবেশ ডাকার আয়োজন আর কিছু সাধারন সর্মথকদের জীবনহানী আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নিয়মিত ঘটনা মাত্র। আর এর পিছনে যে যুক্তি কাজ করছে তাহল এই মৃত্যুর দ্বায়বদ্ধতা সরকার বা বিরোধীদল কাউকেই বহন করতে হবেনা। আর এ দ্বায়ভার বহন করার কোন রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমাদের দেশে গড়ে উঠেনে এখনো।এ নিয়ে কোন রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে কোন দল মনেই করেনা।কারন আজ যারা বিরোধীদল তারা তো আবার সরকার দল হবে এটা ভেবে।তাহলে সমিকরন দাড়ালো কিছু সাধারন সর্মথকদের জীবনহানী = একটি বড় রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সফল সমাবেশ। আর কত?

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন