সম্পাদকীয়

শুক্রবার | ২০ অক্টোবর, ২০১৭ | ৫ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৮ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » মতামত » সম্পাদকীয় » সংঘাত না সমঝোতা জনগন কি চায় ?

সংঘাত না সমঝোতা জনগন কি চায় ?

সংঘাত না সমঝোতা জনগন কি চায় ?

আজকের পত্রিকায় সবাই শীর্ষ খবরে লিখেছে “আগে হরতাল তারপর আলোচনা”। ব্যাপারটা এমন যে জনগন যে কোন দলকেই যেন হরতাল করার জন্য ম্যানডেট দিয়ে দিয়েছে। ঠিক এমন কথা শুধু আমরা বিরোধীদল হিসেবে বিএনপি কেই বলতে দেখেনি। আমাদের দেশের জনগন সেটা খুব ভালই জানেন যে, সরকার দল বিরোধীদলের অবস্থানে দাড়ালে তারাও একই কথা বলবে “সালিশ মানি কিন্তু তালগাছ আমার”। আমার সাথে সমগ্র জাতি এক মত হবেন যে, এভাবে কোন মিমাংসা কখনই সম্ভাব নয়। আমি গতকাল পর্যন্ত সবার মত আশাবাদী ছিলাম যে আমাদের প্রধান বিরোধীদল সংলাপের ফোনে সাড়া দিয়ে আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে সত্যিকারের যুগান্তকারী ঘটনার জন্ম দিবে। সময় যে বদলেছে। তাই রাজনীতির ধরন যে বদলানো প্রয়োজন এখনকার বিরোধীদল বুঝতে যেমন ভুল করেছে তেমনি তখনকার বিরোধীদল ও বুঝতে ভুল করবে।

আমি একজন সচেতন ব্যাক্তি হিসেবে কখনই বলবো না যে সরকার দল গত পাঁচ বছরে যা যা করেছে তার সবকিছু সঠিক্।  আমি জানি তাদের অনেক সিদ্বান্তই ছিল ভুলে ভরা।  তারা তাদের ভুল বুঝতে পারুক আর না পারুক তারা সংলাপের জন্য অন্তত: ফোনতো করেছে।  পৃথিবীর যে কোন সভ্যদেশে সরকার দল ফোন করে সংলাপের আয়োজন করলে বিরোধীদল তা উপেক্ষা করে হরতাল ডাকার বৈধতা রাখে বলে আমার জানা নেই। এটা কেবলমাত্র আমাদের দেশেই সম্ভাব কেননা জনগন রাজনৈতিক ভাবে সচেতন হওয়ার চেয়ে দলীয় স্বার্থের প্রতি বেশী সচেতন ঠিক দলের দ্বায়িত্ববান বড় বড় নেতাদের মতই। কারন সাধারন জনগন কেবলই বাঁচতে চায়। বাঁচার অবলম্বন হিসেবে কোন না কোন দলকে তো বেছে নিতেই হবে। বিরোধীদলের সমর্থকদের নিজের মুখে বলতে শুনেছি তাদের নেতৃত্বের দৃর্বলতার কথা। হয়তবা নেতৃত্বের দুর্বলতার জন্যই ফোন রিসিভ করতে তারা দেরী করেছে এবং  অনেক নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে হরতালের সিদ্বান্তে অবিচল থেকেছে।

কেই যখন সংলাপে ডাকেনা তখন আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর অভিমান বেড়ে যায় আবার যখন কেউ আলোচনায় ডাকে তখন আবার তাদের মনে হয় যদি ডাকে সাড়া দেই তাহলে আমাদের কোন দাম নেই বলে হয়তো ভাবতে পারে। দেশ ও জনগনের চিন্তা যদি কোন দলের থেকে থাকে তাহলে এ কথা ভাববার কোন অবকাশ আছে বলে আমি মনে করিনা। আলোচনা ও মিমাংসার মাধ্যমে যেকোন জাতীয় সমস্যা দূর করার উপর  আমাদের সকল রাজনেতিক দলগুলোর  থিওরি ও প্রাকটিক্যাল কোর্সে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্দি করছি। এ কথাটা যদি ও সবার কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে কিন্তু আমরা এখন যে আর বিংশ বা উনবিংশ শতাব্দিতে বসবাস করছিনা।  একাবিংশ শতাব্দিতে এসে যেখানে পরিবেশের সমস্যার মত আরো হাজার ও সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবন চালাতে সকলের  নাভিশ্বাস উঠছে সেখানে কারো ব্যাক্তিগত ভালো লাগা বা না লাগায় জনগনের কিছুই যায় আসেনা।

এ সত্য টুকু  বিরোধীদলের সহচার্যরা যদি তাকে বুঝিয়ে সংলাপের মাধ্যমে দেশের কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি বাঁচাতে সাহায্য করত তাহলে আমি  মনে করি বিরোধীদলের জনসমর্থন হাজারো গুন বেড়ে যেত।  সঠিক সময়ের সঠিক সিদ্বান্ত না নিতে পারলে সবদলকেই এর মূল্য দিতে হয়।  তাদের সামনে একটা সুযোগ ছিল জনগনের সত্যিকারের আস্থা অর্জন করার তা একটু অভিমানেই ঝরে গেল।  রাজনীতিতে অভিমানের চেয়ে যুক্তিই বড় তা আমাদের নীতি নির্ধারকরা কবে বুঝবে এবং তথাকথিত চিন্তাধারার বাইরে এসে নিজেদেরকে দক্ষ রাজনেতিক দল হিসেবে প্রমাণ করবে সে আশায় এখন সমগ্র জাতি।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন