সম্পাদকীয়

বুধবার | ২৬ জুলাই, ২০১৭ | ১১ শ্রাবণ, ১৪২৪ | ২ জিলক্বদ, ১৪৩৮

প্রচ্ছদ » মতামত » সম্পাদকীয় » হরতালের একাল ও সেকাল

হরতালের একাল ও সেকাল

হরতালের একাল ও সেকাল

রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে বিভিন্ন হাতিয়ারের মধ্যে হরতালকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বজুড়ে সুনাম রয়েছে। অতীতেও আমরা হরতালের সহিংসতায় জীবন ও মালামাল ধ্বংসের জন্য রেকর্ড পরিমান সুনাম অর্জণ করেছি। হরতালকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত আক্রোশ মিটানোর অনেক প্রমানও আমাদের নথিপত্রে রয়েছে। তা যে সরকারের আমলেই হয়ে থাকুক না কেন, কোন দল বা কোন সরকার যত লোকের প্রানহানি ঘটিয়েছে তার পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। কিন্তু পরিসংখ্যান নিয়ে পর্যালোচনা আমাদের আজ মুখ্য বিষয় নয়। আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন মাধ্যম গুলো আমাদের রাজনৈতিক সহিংসতার প্রধান অস্ত্র হিসেবে হরতালের অধিক ব্যবহারের বিষয়ে সব সময়ই উদ্ভেগ প্রকাশ করে আসছে।  হরতালের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বায়িত্বে অবহেলার কথা আমরা সব সমই শুনে থাকি। তাহলে কি জনগন ধরে নিবে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও দলীয়করনের দুষনে দুষ্ট। এ যুক্তি নিয়ে আলোচনা একটা দীর্ঘ সমযের ব্যাপার। তবে গত তিনদিনের হরতালে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় ছিল যে হরতালের মাধ্যমে  প্রধান এজেন্ডা আদায়ের থেকে চোরাগুপ্তা হামলাই হয়েছে বেশী। তাহলে কি বাংলাদেশের জনগনকে আবার একাত্তরের বিভীষীকার সাধ মনে করিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন হরতালকারীরা। সি এম এম আদালতের নথিপত্র শাখায় আগুন লাগানোর ঘটনা কি কোন রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে বলে কেউ মনে করবেন?শুধু হরতাল ডেকেই যদি কোন দল বা গোষ্ঠী মনে করে তারা জনগনের অধিকারের জন্য লড়াই করছে তা কিন্তু সঠিক নয়। তা কতখানি সঠিক তা নির্ভর করছে জনগনের  গ্রহনযোগ্যতার উপর। হরতালকারীদের আক্রোশ থেকে এখন আর সাংবাদিক ও নিরাপদ নয়। অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের অবস্থা যদি এই হয় তাহলে সাধারন জনগনের জানমাল নিরাপত্তা কে দিবে ? সরকার না বিরোধীদল ? এ প্রশ্ন আজ ১৬ কোটি বাঙ্গালীর মনে। “হরতাল” শব্দটির অর্থের যে পরিবর্তন হয়েছে তা একটু অতীতের ইতিহাসের দিকে তাকালে সবাই বুঝতে পারবে। স্বাধীনতার পরের ইতিহাসেও আমরা দেখেছি-আওয়ামীলীগ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলাম একত্রেই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে মিলিত হয়ে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করেছিল।  আর সে আন্দোলনের একটা  যৌক্তিকতা ছিল।  সে সময়ের হরতালের  চোরাগুপ্তা হামলা আর বর্তমান হরতালের চোরাগুপ্তা হমলার মধ্যে যথেষ্ট পার্থাক্য রয়েছে।

আর এই পার্থক্যের কারনে পুলিশবাহিনীর দ্বায়ীত্ব পালনে অবহেলার কথা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। হরতাল চলাকালিন সময়ে সভাসমাবেশ থেকে চোরাগুপ্তা হামলার ব্যবহারিক আয়োজন জনমনে ভয়ানক আশংকা যুক্ত করেছে। সে আশংকা থেকে পুলিশবাহিনী যানমাল রক্ষায় যে শতস্ফুর্ততায় অনীহার ছাপ পড়েছে তা কিন্তু মোটেই গ্রহনযোগ্য নয়।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদেরকে এ বিষয়ে আরো সতর্ক অবস্থানে  রাখার ব্যবস্থা নেয়া উচিত সরকারের। সরকারের পক্ষে যতদুর সম্ভব ব্যবস্থা   নেওয়া যেমন অপরিহার্য তেমনি হরতালের নামে প্রতিহিংসার কারনে  নিরীহ  জনগনের উপর হরতালকারীদের হামলা বন্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে শ্রীঘ্রই।  আতঙ্ককে বৈধতা দিলে আতঙ্ক সৃষ্টিকারীরা সাহসীকতা প্রদর্শনে আরও উৎসাহী হবে।  এটা বন্ধে সবারই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। আতঙ্ক তৈরির মাধ্যমে কোন দল বা গোষ্ঠী জনগনকে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বিরত থাকাকেই সকল দল হরতালের প্রতি জনসমর্থন বলে ধরে নিচ্ছে এখন।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যিক *

*


5 − 3 =

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>