সম্পাদকীয়

শুক্রবার | ২০ অক্টোবর, ২০১৭ | ৫ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৮ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » মতামত » সম্পাদকীয় » ককটেল রাজনীতি ও মুরাদের জীবন অভিজ্ঞতা

ককটেল রাজনীতি ও মুরাদের জীবন অভিজ্ঞতা

ককটেল রাজনীতি ও মুরাদের জীবন অভিজ্ঞতা

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মুরাদ নামে ১২ বছরের শিশুটি আমাদের ককটেল রাজনীতির স্বীকার হল। তার কান্নায় ভেসে উঠল আমাদের রাজনৈতিক চরিত্র, যার নাম হচ্ছে ককটেল রাজনীতি। জীবনের কোন কিছুই বুঝে উঠার আগে টেনিস বল ভেবে ককটেলটি হাতে নেয় মুরাদ, পান্থপথ ট্রাফিক সিগন্যালের পাশের রাস্তার আইল্যান্ড থেকে। ককটেলটি হাতে নিয়ে সে যখন দেখছিল পৃথিবীর কোন বিস্ময় ওর মধ্যে লুকিয়ে আছে, তখনই তার জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার।

সে এখন গুরুতর অবস্থায় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার বাবা কামাল হোসেন দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালায় হয়ত। মুরাদ জীবনের প্রয়োজনে লেগুনা গাড়ির হেলপার হিসেবে কাজ করে নিজের জীবনের দায়ভার নিজেই কাধে তুলে নিয়েছিল। শিশুরা কৌতুহলী হবে এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা আমাদের শিশুদের কৌতুহল নিবারনের জন্য রাস্তার চারপাশে ককটেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখছে। মুরাদের জীবনের ভার কি আমাদের সমাজ বা রাষ্ট্রের কেউ বহন করবে? মুরাদের মত আমরা সবাই জানি যে কেউ করবে না? তাহলে কি এই রাষ্ট্র বা সমাজের কোন অধিকার আছে মুরাদকে পঙ্গু করে দেবার?

মুরাদ ১২ বছর বয়সে যে অপূরনীয় ক্ষতির শিকার হল, তার দায়ভার মুরাদ কাকে দিবে? এরকম হাজারো প্রশ্ন আজ মুরাদের মনে জন্মেছে। তার জীবনের প্রতি কেমন ভালবাসা জন্মাবে বলে রাষ্ট্র আশা করতে পারে? যে ঘৃনা ছোট্ট শিশুটির মনে আজ জন্মনিল তার পরিশোধণ কিভাবে হবে এ নিয়ে ভাবনা এ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আছে বলে কেউই মনে করবে না। আমরা এমন একটি সমাজে বসবাস করছি, যে দায়বদ্ধতার কথা কেউ বলতে গেলে তাকে কোনা না কোন অপরাধের অপবাদে দোষী সাব্যস্ত হয়। তাই আমরা এখন ভুলতেই বসেছি মুরাদের এই অবস্থার মত হাজারো মুরাদের জীবন ককটেল বিস্ফোরনে ঝলসে গেলেও তা নিয়ে আমাদের কোন জবাবদিহিতা নেই। কারন আমরা নির্দলীয় সরকারে বিবাদ মেটানো নিয়ে খুবব্যস্ত। আমরা এ বিবাদ ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে নিজেদেরকে দেশপ্রেমিক বলে দাবি করছি। আর দেশের সর্বত্র মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে দিচ্ছি ককটেল ও তার চেয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরক দ্রব্য। কেননা, সবাই জানে মুরাদের মত হাজারো মুরাদের জীবন নষ্ট হলে তাতে কারো কোন ক্ষতি নেই। আর কে বা কারা এ নিয়ে দাবী জানাবে? কারন মুরাদের তো ভাষা নেই প্রতিবাদ জানানোর। বিচার তো তাদের জন্য, যাদের প্রতিবাদ জানানোর ক্ষমতা আছে।

মানুষের সুক্ষ্ণ অনুভূতিগুলো আমাদের সমাজে এখন আর মানবতার জন্য কাদেঁনা। সেই খবর গুলো খবরের পাতায় বড় আকারের প্রচার ঘটে, যা প্রকাশ করলে তাদের ব্যক্তিগত লাভ থাকে। কিন্তু মুরাদের জন্য কে বা কারা প্রতিবাদ জানাবে, আমাদের সময় কোথায়? আমরা এখন দেশপ্রেমের পরীক্ষা দেয়ার জন্য নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। পৃথিবীর কোন দেশে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এত সহিংসতার ঘটনা নেই। কারন, নির্বাচনের মাধ্যমে পৃথিবীর কোন সরকার এত অভূতপূর্ব শক্তিধর কর্তৃত্বের অধিকারী হতে পারে না। তাই ক্ষমতার মধ্যে জনগনের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে বলে ক্ষমতায় থাকার জন্য এতটা মরিয়া হয়ে উঠেনা অন্য কোন জাতি। তাই পৃথিবীর কোন দেশে এমন ককটেল রাজনীতির চর্চা নেই।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন