প্রধান খবর

সোমবার | ২০ নভেম্বর, ২০১৭ | ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ২৯ সফর, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » প্রধান খবর » আশরাফ ও মুঈনুদ্দীনের ফাঁসির রায়

আশরাফ ও মুঈনুদ্দীনের ফাঁসির রায়

আশরাফ ও মুঈনুদ্দীনের ফাঁসির রায়

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মামলায় আল বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে।এটিই একমাএ রায় যেখানে সবগুলো অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। রবিবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।

জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এর হলেও রায় ঘোষণার জন্য আজ ট্রাইব্যুনাল-১ এর এজলাসে এ রায় ঘোষণা করা হয়। এদিকে আসামীদ্বয় পলাতক থাকায় আদালতের এজলাসের আসামীর ডকে কেউ ছিল না।

সকাল ১১টার সময় চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতিরা এজলাস কক্ষে প্রবেশ করেন। অতঃপর চেয়ারম্যান উপস্থিত আইনজীবী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের ব্যাক্তিদের প্রতি কিছু কথা বলে। তিনি বলেন, আমরা এই মামলা শুনানির সময় খুব সতর্ক ছিলাম। এটি মোট ১৫৪ পৃষ্ঠার ৫৫৩ প্যারায় পূরণিত রায়। আজ আদালতে ৪১ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত কপি পড়া হবে। এটি ট্রাইব্যুনাল-২ এর ষষ্ঠ রায়। চেয়ারম্যান বলেন, এ রায়ের সার্টিফাইড কপি একটি প্রসিকিউশন পক্ষ এবং একটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে পাবেন। আর আসামীরা আত্মসমর্পন করলে আবেদন সাপেক্ষে তারা একটি কপি পাবে।

এরপর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান রায়ের প্রথম অংশ পড়ার জন্য সদস্য বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলামকে অনুরোধ করেন। এরপর সদস্য বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া রায়ের দ্বিতীয় অংশ পড়েন। সবশেষ চেয়ারম্যান রায়ের শেষ অংশসহ শাস্তি পড়ে শোনান। সম্পূর্ন রায় পড়া শেষে বিচারপতিরা রায়ের কাগজে স্বাক্ষর করে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন।

রায় পড়াকালীন সময়ে রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুসহ ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য প্রসিকিউটরবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামীপক্ষে রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োগকৃত আইনজীবী আব্দুস শুক্কুর খান ও সালমা হাই টুনি উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ৩১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় আজ রোববার ঘোষণা করা হবে বলে জানান। এক মাস দুই দিন পর আজ রায় ঘোষণা করা হলো। ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত দ্বিতীয় রায় যা বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার সকল কাযর্ক্রম শেষ করে যে কোন দিন রায় ঘোষণা করা হবে মর্মে রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভিতে) রেখে দেন ট্রাইব্যুনাল। ঐ দিন আদালতে আশরাফুজ্জামান ও মুঈনুদ্দীনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সালমা হাই টুনি ও আব্দুস শুক্কুর খান। এরপর রাষ্ট্রপক্ষে পাল্টা যুক্তি ও আইনি পয়েন্ট উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান। প্রসিকিউশনের সমাপনি বক্তব্যের মাধ্যমে আশরাফুজ্জামান ও মুঈনুদ্দীনের মামলার কাযর্ক্রম শেষ করে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়।

গত ২২ সেপ্টেম্বর এ মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পলাতক এ দুই অভিযুক্তের পক্ষে কোনো সাক্ষী না থাকায় ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এ মামলায় প্রসিকিউশন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে ২৫ সেপ্টেম্বর শেষ করে। এরপর গত ২৯ সেপ্টেম্বর রোববার ও ৩০ সেপ্টেম্বর সোমবার যুক্তি উপস্থাপন করেন আসামীপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সালমা হাই ‍টুনি এবং আব্দুস শুক্কুর খান।

গত ২ মে দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল ট্রাইব্যুনাল। দেশে না পাওয়ায় তাদের হাজির হতে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশও হয়েছিল।বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও হাজির না হওয়ায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে গত ২৪ জুন ১১টি অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল-২ এ অভিযোগ গঠন হয়।

১৫ জুলাই প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদের ভাগ্নি মাসুদা বানু রত্না। পরে আরো সাক্ষ্য দেন শহীদ মুনীর চৌধুরী, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন, অধ্যাপক সিরাজুল হক খান, সাংবাদিক সিরাজ ঊদ্দিন হোসেন, সৈয়দ নাজমুল হক, নিজাম উদ্দিন আহমেদ, ডা. আব্দুল আলীম চৌধুরী, ডা. ফজলে রাব্বি, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর সন্তানরা, সাংবাদিক আ ন ম গোলাম মোস্তফার ছেলে ও ভাই, সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সারের স্ত্রী পান্না কায়সার, চিকিৎসক মোহম্মদ মর্তুজার স্ত্রী’র ভাই ওমর হায়াৎ, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদের বোন ফরিদা বানু, রায়েরবাজার বধ্যভূমি থেকে বেঁচে ফিরে আসা একমাত্র ব্যক্তি দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ফেনীর বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা শরীয়ত উল্লাহ বাঙালি এবং একাত্তরে আশরাফুজ্জামানের ভাড়া বাসার মালিকের ছেলে আলী সাজ্জাদ।

এছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে দেয়া আরো চারজন সাক্ষীর জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা করে ট্রাইব্যুনাল। এরা হলেন- স্বাধীনতার পরে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্তকারী তৎকালীন এনএসআই কর্মকর্তা সামাদ তালুকদার, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়ার চৌধুরীর ছেলে তাসলিম হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর ছেলে মিশুক মুনীর ও ফেনীর বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ।

আরো সাক্ষ্য দেন আশরাফুজ্জামান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহজাহান কবীর ও মো. আতাউর রহমান। সাক্ষ্য দেয়ার পরে প্রত্যেক সাক্ষীকে জেরা করেন পলাতক আশরাফুজ্জামান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান ও সালমা হাই টুনি। আশরাফুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বেজড়া ভাটরা (চিলেরপাড়) গ্রামে। চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের বাড়ি ফেনীর দাগনভুঞার চানপুরে।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন