জাতীয়

বুধবার | ২৬ জুলাই, ২০১৭ | ১১ শ্রাবণ, ১৪২৪ | ২ জিলক্বদ, ১৪৩৮

প্রচ্ছদ » খবর » জাতীয় » সরকারের শেষ সময়ে আরেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন

সরকারের শেষ সময়ে আরেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন

সরকারের শেষ সময়ে আরেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-অভিযোগের মধ্যেই মেয়াদের শেষ সময়ে সরকার ‘জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’ নামে আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি এলাকার গুপ্তবৃন্দাবনে কয়েক দিন আগে অনুমোদন পাওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্যোক্তা জার্মানপ্রবাসী সাইফুল্লাহ খন্দকার।  এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ের এক ব্যক্তির স্ত্রী,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একজন উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজন জড়িত আছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, টাঙ্গাইলের জন্য অনুমোদন পেলেও উদ্যোক্তারা আপাতত গাজীপুরে অস্থায়ী ক্যাম্পাস করতে চাচ্ছেন। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পাওয়া সাইফুল্লাহ খন্দকার অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও মুঠোফোনে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও শেষ সময়ে আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেতে জোর তদবির চলাচ্ছে। এর মধ্যে তিনটির বিষয়ে কথাবার্তাও চলছে। এগুলোর একটি চট্টগ্রামে, একটি রাজশাহী এবং আরেকটি দিনাজপুরে স্থাপনের জন্য আলোচনা হচ্ছে। এর একটির সঙ্গে একজন মন্ত্রীর স্ত্রী, আরেকটির সঙ্গে সাবেক একজন মেয়র ও একটির সঙ্গে জাতীয় সংসদের শীর্ষ পর্যায়ের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।ওই কর্মকর্তা বলেন,পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে। তবে উদ্যোক্তারা অনুমোদন পাওয়ার জন্যে জোর চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

শিক্ষাসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন,নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালায়ের সূত্রমতে,জার্মান ইউনিভার্সিটিসহ বর্তমান সরকারের আমলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ২৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। গত সেপ্টেম্বর মাসেও ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। এভাবে এই সরকারের আমলে কয়েক দফায় ২৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বাদে প্রায় সবগুলোর সঙ্গেই সরকারের মন্ত্রী,নেতা ও সরকার ঘরানার ব্যবসায়ীরা জড়িত। অভিযোগ আছে, দলীয় বিবেচনায় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়েও দলীয় বিবেচনায় বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়া হয়। এমনকি জোট সরকারের শেষ কর্মদিবসেও একটি বেসরকারি সংস্থাকে ঢাকায় এবং একজন মন্ত্রীকে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

এখন দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৮। অভিযোগ আছে, বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাত্র ১০-১২টি মোটামুটি ভালো হলেও বাকিগুলোর বিরুদ্ধে সনদবাণিজ্য,লেখাপড়ার মান বজায় না রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যিক *

*


− 6 = 2

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>