জাতীয়

বুধবার | ১৮ অক্টোবর, ২০১৭ | ৩ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৭ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » খবর » জাতীয় » ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস

 ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বাংলাদেশের  বীর সিপাহী জনতা সংঘটিত করেছিল ঐতিহাসিক বিপ্লব। আর সে বিপ্লব সফল করতে সৃষ্টি হয় সিপাহী জনতার অভূতপূর্ব সংহতি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশামাল হয়ে  ওঠে। রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে বিভিন্ন দিক থেকে চলতে থাকে ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে ছড়ানো হয় বিভ্রান্তি। বিভক্ত করা হয় তাদেরকে। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ২ নভেম্বর মধ্য রাতে এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করেন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমদকে। তৎকালীন সেনা প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরে তাকে গৃহবন্ধী করে রাখা হয়।এবং বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফ নিজেকে নয়া সেনা প্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন।

চলতে থাকে গোপন ষড়যন্ত্র। সেনাবাহিনীতে চলতে থাকে অজানা আতংক ।বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করার গোপন নীল নকশা তৈরি হয়।অপরদিকে সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে জনপ্রিয় সেনা প্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্ধি করে রাখার জন্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ভেতরে ভেতরে ফুঁসে উঠতে থাকে সৈনিকরা। যার চুড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে ৭ নভেম্বর। সাধারণ সৈনিকরা বিদ্রোহ করে অফিসারদের হত্যা করতে থাকে। সে সৈনিক বিদ্রোহে  নিহত হন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ। তার অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে যায়।

সাধারণ সৈনিকরা বিপ্লবের প্রথম ধাপেই মুক্ত করে আনে তাদের প্রিয় অধিনায়ক সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানকে। তিনি সেনা বিদ্রোহকে প্রশমিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সৈনিকরা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসে রাস্তায়। চারদিনের গুমোট পরিবেশ মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়। সেনাবাহিনীর ট্যাংকের নলে মালা পরিয়ে দেয় উৎফুল্ল জনতা। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলাদেশের আকাশ-বাতাস। রাজধানীর রাজপথে জনতার গগন বিদারি শ্লোগানের সঙ্গে ট্যাঙ্কের গর্জন মিলে সৃষ্টি করে এক অভূতপূর্ব আবহ। সে আবহ পুনরায় জানান দেয়- বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আধিপত্যবাদী শক্তির নীলনকশার জাল ছিন্ন ভিন্ন করে দিতে বাংলাদেশ সক্ষম।

১৯৭৫ এর ৭ নভেম্বর ছিল আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রে বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের দিন। তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব খর্ব করার এক হীন চক্রান্ত।

দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি হগ্রহণ করেছে। বিএনপির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ১০টায় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও পাতেহা পাঠ, বেলা ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন