আন্তর্জাতিক

শনিবার | ২২ জুলাই, ২০১৭ | ৭ শ্রাবণ, ১৪২৪ | ২৭ শাওয়াল, ১৪৩৮

প্রচ্ছদ » খবর » আন্তর্জাতিক » অবশেষে আরাফাত হত্যার প্রমান মিলেছে

অবশেষে আরাফাত হত্যার প্রমান মিলেছে

অবশেষে আরাফাত হত্যার প্রমান মিলেছে

আরাফাতের মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল:

২০০৫ সালের ইসরায়লী সাংবাদিকদের কাছ থেকে নিউ ইয়র্ক টাইমস আরাফাতের মেডিকেল রিপোর্ট গ্রহণ করে। মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০৪ সালের ১২ই অক্টোবর আরাফাতের অসুস্থতার সুত্রপাত হয় খাবার খাওয়ার ৪ ঘন্টা পরে। ওয়েষ্ট ব্যাংক অফ সিটিতে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট ভবনের ভেতরে এই ঘটনা ঘটে।

ইসরায়লী সেনাবাহিনী আরাফাতকে ৩ বছরের জন্য গৃহবন্দী করে রাখে। এর পরবর্তী ২ সপ্তাহে সে বমি, ডায়রিয়া ও পাকস্থলীর ব্যথায় আক্রান্ত হয়। মিশরীয়, জর্ডানিয়া, ফিলিস্তিনীয় এবং তিউনিশিয়ান এই ৪ দেশের ডাক্তাররা মেডিকেল টিম গঠন করে ফ্লু’র চিকিৎসা করেন। কিন্তু এটা ছিল সম্পূর্ণ ভুল চিকিৎসা।

মেডিকেল রিপোর্টে উল্লেখ ছিল যে, ২০০৪ সালের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই ১৫ দিন চিকিৎসার জন্য কোন এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি তাকে। তার ২ দিন পরে তাকে প্রাইভেট হেলিকপ্টারে করে জর্ডানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে নিয়ে যখন জর্ডানে পৌছায় তখন তার ব্লাড ডিজার এর রোগ ধরা পরে। তখন জর্ডানের ডাক্তার তাকে ভাল করতে পারেনি এবং পারসীয় হাসপাতালে ১১ই নভেম্বর তিনি মারা যান।

আরাফাত মৃত্যুর কারণ নিয়ে সংশয় এবং পরবর্তী অনুসন্ধান প্রক্রিয়া:

আরাফাতের মৃত্যুর শুরু থেকেই অনেক ফিলিস্তিনিদের সন্দেহ ছিল, তাদের নেতাকে  বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয় এবং এর পেছনে ইসরায়েলের হাত রয়েছে। তবে এর আগে হত্যার কয়েকটি ষড়যন্ত্রের তথ্য ছাড়া এই সন্দেহের পক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ ছিল না। আর ইসরায়েলও এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। তবে আরাফাতকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলে আল জাজিরার এক প্রামাণ্যচিত্রে দাবি করা হলে নতুন করে তা নিয়ে আলোচনা ওঠে।এর রেশ ধরে গত বছর ফিলিস্তিন ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ইয়াসিরের দেহাবশেষ কবর থেকে তুলে আবার পরীক্ষা চালানোর কাজ শুরু হয়।এই পরীক্ষায় অংশ নেয়া সুইস বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়, তার শবদেহে ‘অপ্রত্যাশিতভাবে উচ্চমাত্রার’ তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা প্রকারান্তরে বিষপ্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়।

মৃত্যুর প্রায় আট বছর পর অনুসন্ধান কাজ শুরু করার কারণে অনেক আলামত চিহ্নিত করা দুরূহ ছিল- তা স্বীকার করে সঠিক চিত্র তুলে ধরতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন বলেও জানান গবেষকরা। ইয়াসিরের দেহাবশেষ তোলার পর রাশিয়া ও ফ্রান্স এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালায়। তবে রুশ গবেষক দল গত মাসে জানান, তারা পোলোনিয়ামের কোনো অস্তিত্ব পাননি।সুহা আরাফাত সুইস গবেষকদের প্রতিবেদন পেয়ে আরো বলেন, “এটি একটি সাচ্চা অপরাধ, একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড”। “এই প্রতিবেদন আমাদের সব সন্দেহ দূর করেছে। বৈজ্ঞানিকভাবে এটা প্রমাণ হয়েছে যে, তার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। তাকে হত্যা করা হয়।” এই ‘হত্যাকাণ্ডের’ পেছনে কারা ছিল- সেই বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি সুহা। তবে বলেছেন, তার স্বামীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে অনেক শত্রু ছিল। আরাফাত ৩৫ বছর ধরে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় দলগুলোর মূল সংগঠন ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন বা পিএলও’র নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

আরাফতের মৃত্যু সংক্রান্ত জটিলতার অবসান:

ইয়াসির আরাফাতের দেহাবশেষ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সব নথি পরীক্ষার পর সুইজারল্যান্ডের গবেষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনি নেতার দেহে উচ্চ মাত্রার তেজষ্ক্রিয় পদার্থ পোলোনিয়ামের অস্তিত্ব ছিল। সুইস গবেষকদের প্রতিবেদন হাতে পেয়ে আল জাজিরা বুধবার এই খবর ছাপিয়েছে, যার ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। প্রতিবেদনটি হাতে পেয়ে ইয়াসির আরাফাতের স্ত্রী সুহা প্যারিসে রয়টার্সকে বলেছেন, “এখন আর সন্দেহের অবকাশ নেই। প্রমাণ হল, এটা ছিল হত্যাকাণ্ড।”ইয়াসির আরাফাতের দেহে পাওয়া পোলোনিয়াম-২১০ সাধারণ খাবারের মধ্যে স্বল্পমাত্রায় থাকে, মানবদেহেও প্রাকৃতিকভাবে এর অস্তিত্ব থাকতে পারে। তবে অতিমাত্রায় দেহে প্রবেশ করালে তা মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত ২০০৪ সালে ফ্রান্স মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্ট্রোকের সঙ্গে রক্ত সঞ্চালনে জটিলতাকে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছিল।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যিক *

*


− 5 = 4

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>