রাজনীতি

মঙ্গলবার | ২৫ জুলাই, ২০১৭ | ১০ শ্রাবণ, ১৪২৪ | ১ জিলক্বদ, ১৪৩৮

প্রচ্ছদ » খবর » রাজনীতি » গোটা বাংলাদেশ কারাগারে পরিনত হচ্ছে: মির্জ ফখরুল

গোটা বাংলাদেশ কারাগারে পরিনত হচ্ছে: মির্জ ফখরুল

গোটা বাংলাদেশ কারাগারে পরিনত হচ্ছে: মির্জ ফখরুল

এ সরকার আমাদের নেতা কর্মীদের বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করে গোটা বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জ ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে  জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বাসিদের জেগে উঠার আহব্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের গুলি করে হত্যা করছে। বিরোধীদের জেলে বন্দি করে আন্দোলনে স্তব্ধ করতে চায়। তাই জেগে উঠুন ঢাকাবাসী। জালিম সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। এ সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। আগামী আন্দোলনে সবাইকে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপি পড়তে হবে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার জানে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে তারা জয়ী হতে পারবে না। আর তাই সরকার বিরোধী নেতাকর্মীদের প্রতিহত করতে অগনতান্তিক কাজ করছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন,আওয়ামীলীগ ৭২ থেকে ৭৫ এর মতো আজও এইভাবে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করে দিতে ঐক্যবদ্ধ হযেছে। তারই প্রয়াশ ১৫তম সংশোধনী।

তিনি আরো বলেন, এই সরকার ফেলানী হত্যার প্রতিবাদ করতে যানে না। সাগর রুনির হত্যার বিচার করতে যানে না। এই সরকারের পুলিশ গত কয়েকদিনে আমাদের ২২ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। অসংখ্য নেতাকর্মীকে কারারুদ্ধ করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা বলেন, সরকার যে একদলীয় নির্বাচন করতে চাচ্ছে, আন্দোলনের মাধ্যমে তা ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে জনগনের আন্দোলনকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, এই সরকার ৭ই নভেম্বরকে ভয় পায় তাই জাতীয় ছুটি বাতিল করে দিয়েছে। সিপাহী জনতার ঐক্য ধরে রাখার জন্য বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আবার ছুটি ঘোষনা করা হবে।

এলডিপির চেয়ারম্যন কর্নেল অব: অলি আহমেদ বলেন, নেতারা নয় জনগনকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। নেতাদের পথ চেয়ে বসে থাকলে হবে না। অন্যথায় জিয়াউর রহমানের গণতন্ত্র থাকবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাষ করে না। ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত তারা বাকশাল কায়েম করেছিলো। আজকেও তারা একই পথে হাটছে। যদি কোন কারনে গণতন্ত্রের পথ ব্যহত হয় অতীতের মতো আওয়ামী লীগ ইতিহাসের কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, এই সরকার নতুন নুতন কৌশল গ্রহন করেছে। তারা বলছে, সর্বদলীয় সরকার গঠন করবেন। অন্তবর্তী সরকার গঠন করবেন। কিন্তু সংবিধানে অন্তবর্তীকালীন সরকার নাই। তাই অন্তবর্তী সরকার গঠন বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থি।

তিনি বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী ৯৬ সালে আমাদের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে বলেছিলেন নির্দলীয় সরকার চাই সর্ব দলীয় নয়। আজকে আমরাও প্রধানমন্ত্রীর যুক্তিতে নির্দলীয় চাই সরকার চাই, সর্বদলীয় চাই না।

তিনি বলেন, সর্বদলীয় সরকার গঠন করলে আমরা সেই সরকারে যোগ দেব না। সেই সরকার সর্বদলীয় নয় সেই সরকার হবে ১৪ দলীয়, আওয়ামী লীগের সরকার। বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট সেই সরকারে অংশ নেবে না।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বর্তমান সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চেীধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামজুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব বরকতউলস্নাহ বুলু, আমান উলস্নাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ জয়নাল আবদিন ফারুক, অর্থনিতী বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

শরিকদলের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে. (অব) ইব্রাহিম।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যিক *

*


2 − 1 =

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>