পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

বৃহস্পতিবার | ১৯ জুলাই, ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ, ১৪২৫ | ৪ জিলক্বদ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » খবর » পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য » ১১ থেকে ২২ নভেম্বর ওয়ারশ’তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জলবায়ু সম্মেলন

১১ থেকে ২২ নভেম্বর ওয়ারশ’তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জলবায়ু সম্মেলন

১১ থেকে ২২ নভেম্বর ওয়ারশ’তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জলবায়ু সম্মেলন

আগামী সপ্তাহে পোল্যান্ডের ওয়ারশতে জাতিসংঘের আয়োজনে শুরু হচ্ছে বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলন। কার্বন নির্গমন কমাতে ২০১৫ সালের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌছানোর লক্ষ্য। তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা এবং সাগরে জলের উচ্চতা বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ২০০৯ সালে জাতিসংঘের সে সময়কার প্রধান জলবায়ু কর্মকর্তা ইভো ডি বুয়ার বলেছিলেন, বিশ্ব বর্তমানে যে অবস্থার মধ্যে রয়েছে তা ভয়াবহ। ডেনমার্কের কোপেনহাগেনে অনুষ্ঠিত সে বছরের সম্মেলনেও কোনো চুক্তিতে পৌছাতে পারেননি বিশ্ব নেতারা।

তবে সে সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ২০১৫ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে একটি চুক্তি সই করা হবে, যার বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২০ সাল থেকে। এর মাধ্যমে বন্যা, দাবদাহ, খরা এবং সাগরের জলের উচ্চতা কমানো সম্ভব হবে। এ সম্মেলনে অংশ নেবেন ২০০টি দেশের প্রতিনিধিরা। অবশ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা হলেও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছে। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কার্বন নির্গমনের হার ১৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল। তবে সমস্যা সমাধানে বার বার প্রতিশ্রুতি দিলেও অনেক উন্নত দেশ অর্থনৈতিক মন্দার কারণ দেখিয়ে চুক্তি থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক মন্দার কারনে কার্বন নির্গমনের পদক্ষেপ ব্যার্থ হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা বিশ্বের তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলে সেই মাত্রাটা প্রায় দ্বিগুণ। এভাবে বরফ গলার কারণে আর্কটিকে যাওয়ার পথ সহজ ও সংক্ষিপ্ত হচ্ছে। ফলে সেখানে থাকা সম্পদ আহরণের কাজে সুবিধা হবে। তাই খুশি এ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী।

ভারতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী কম দামে উচ্চ দূষণ সৃষ্টিকারী কয়লা ব্যবহার করছে। ফলে সেদেশে বায়ুদূষণ বাড়ছে। ‘অ্যালায়েন্স অফ স্মল আইল্যান্ড স্টেটস’ গুলোর প্রধাণ মার্লেন মোসেস জানালেন, যা করা দরকার তা দ্রুত এবং জরুরী ভিত্তিতে করতে হবে। এই গ্রুপের সদস্য দেশগুলোর আশঙ্কা সাগরের জলের উচ্চতা বাড়লে দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো ডুবে যাবে। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে যেসব গরীব রাষ্ট্র ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

১৯৯৭ সালেও গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমণ রোধে কিয়োটো প্রটোকলের ব্যাপারে জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বনেতারা একমত হলেও পরে সেটা কার্যকর হয়নি। কারণ ঐ সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনুপস্থিত ছিল। এখন অপেক্ষার বিষয়, এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের আলোচকরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কি ধরনের চুক্তিতে পৌছান। আগামী বছরগুলোতে কি ধরনের পদক্ষেপ নিলে তারা লক্ষ্যে পৌছাতে পারবেন, সম্মেলনে সেটাও ঠিক করতে হবে তাদের।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন