পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

মঙ্গলবার | ১৭ অক্টোবর, ২০১৭ | ২ কার্তিক, ১৪২৪ | ২৬ মহররম, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » খবর » পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য » তৈরী হচ্ছে দ্বিতীয় সুন্দরবন

তৈরী হচ্ছে দ্বিতীয় সুন্দরবন

তৈরী হচ্ছে দ্বিতীয় সুন্দরবন

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে কলকাতা রাজ্য সরকার এবছরের মধ্যেই গড়ে তুলতে চলছে নতুন একটি অভয়ারণ্য৷ নতুন প্রস্তাবিত এই অভয়ারণ্যের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুন্দরবন পশ্চিম অভয়ারণ্য’৷

দ্বিতীয় সুন্দরবনের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। জায়গাটি হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভাগের চুলকাঠি ও ঢুলিভাসানি জঙ্গল। এ জঙ্গল দু’টিকে একত্রে নিয়ে তৈরি হবে এই নতুন বনবিভাগ৷ যার আয়তন হবে ৪৬৩.৪০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা৷ ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের বনবিভাগ থেকে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে এই নতুন অভয়ারণ্যের জন্য৷

সুন্দরবন এখন পর্যটনপ্রেমীদের কাছে অন্যতম একটি পর্যটনকেন্দ্র৷ বন ও বন্যপ্রাণী এবং সঙ্গে পর্যটনের কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন এই অভয়ারণ্য৷ নতুন সরকার আসার পর ২৪ পরগনা ডিভিশনকে ভেঙে এই নতুন অভয়ারণ্যের কথা ঘোষণা করে৷ সুন্দরবনে ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় ন্যাশনাল পার্ক ইস্ট, ন্যাশনাল পার্ক ওয়েস্ট এবং সজনেখালি এই তিনটি অভয়ারণ্য ছিল৷ তাছাড়া সুন্দরবন বনবিভাগ এলাকায় ছিল ২৪ পরগনা বিভাগ৷ এবার এই ২৪ পরগনা বিভাগ ভেঙে নতুন অভয়ারণ্য হচেছ যার নাম পশ্চিম সুন্দরবন অভয়ারণ্য৷ সুন্দরবনের মোট ৫৪টি দ্বীপে বাঘ, হরিণ, বাঁদর, গোসাপ, শূকর ছাড়াও নানা প্রাণী বসবাস করে থাকে৷ এছাড়াও আছে নানা প্রকার সাপ ও ছোট-বড় পাখি৷

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সুন্দরবনের সজনেখালি অভয়ারণ্যের উপর পর্যটকের চাপ কমাতে তৈরি করা হচ্ছে নতুন এই অভয়ারণ্য৷ এর পূর্বে মাতলা নদী, পশ্চিমে ঠাকুরান নদী৷ দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও উত্তরে ঢুলিভাসানি জঙ্গল৷ এই এলাকাটিকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে বাড়বে কর্মীর সংখ্যা৷ এছাড়া এই এলাকায় অতি সম্প্রতি ব্যাঘ্র গণনায় ২৫টি বাঘের অস্তিত্ব পেয়েছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিও.ডব্লিও.এফ)৷ সরকারি হিসাব, আজমল মারির জঙ্গলে ৫টি, চুলকাঠির জঙ্গলে ৭টি, ঢুলিভাসানিতে ৯টি এবং হেড়োভাঙার জঙ্গলে চারটি বাঘের সন্ধান মিলেছে৷ এই অভয়ারণ্যটি তাই ব্যাঘ্র সংরক্ষণ অভয়ারণ্য হিসাবে কাজ করতে পারবে৷

এ বিষয়ে বনমন্ত্রী হিতেন বর্মন বলেন, “ছোট ছোট ব্লক হলে নজরদারি যেমন ভাল করে করা সম্ভব হবে তেমনই সুন্দরবন সম্পর্কে পর্যটকদের আগ্রহ আরও বাড়ানো যাবে৷ ফলে রাজস্বের উন্নতি ঘটবে৷ সব ভেবে এই অভয়ারণ্যের ঘোষণা করা হয়েছে৷”

২৪ পরগনার বনাঞ্চল নিয়ে ১৯৭৩ সালে তৈরি করা হয় সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ৷ ১৯৭৮ সাল থেকে সংরক্ষিত বিভাগ হিসাবে ঘোষণা করা হয়৷ ১৯৮৫ সালে সুন্দরবন ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের’ মর্যাদা পায় এবং ১৯৮৯ সালে সম্পূর্ণ সুন্দরবনকে জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ অঞ্চল বা বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ হিসাবে ঘোষণা করা হয়৷

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যিক *

*


− 3 = 3

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>