এই মুহূর্তে

বৃহস্পতিবার | ২৩ নভেম্বর, ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » একটা ছেলের গল্প বলবো, একদম বাস্তব জীবনের গল্প!

একটা ছেলের গল্প বলবো, একদম বাস্তব জীবনের গল্প!

একটা ছেলের গল্প বলবো, একদম বাস্তব জীবনের গল্প!

ছেলেটার জন্ম হয় প্রচন্ড অভাবের এক সংসারে। ১৯৮৪ সালে পেটের দায়ে ছেলেটার বাবা পরিবার নিয়ে চলে আসেন ঢাকার সামান্য বাইরে “ধামালকোট” নামক বস্তিতে।

বাবা কখনো ট্যাক্সি চালাতেন,কখনো বা চালাতেন অটোরিকশা। এভাবেই কাটছিল দিনগুলো। বস্তির ঐ জায়গাটা ভালো ছিল না। এর মাঝেই বড় হচ্ছিল ছেলেটা। বাবা-মা খুব দুশ্চিন্তায় থাকতো, ছেলেটা বখে না যায়। না, ছেলেটা বখে যায় নি! দেখতে দেখতে স্কুলে ভর্তি হলো সে। ছেলেটা তখন ক্লাস টুতে পড়ে। পাশের বাড়ির এক ছেলের সাথে একদিন চুপি চুপি চলে যায় ঢাকার কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে। ধামালকোটের বস্তি থেকে মাইলখানেক দূরে ছিল কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব। সেনাবাহিনীর সদস্যরা গলফ খেলতো, আর ছেলেটা বল কুড়িয়ে আনতো। দিন শেষে ৩০ টাকার মত পেতো সে। এইভাবে বল কুড়াতে কুড়াতেই সে ঢুকে যায় অন্য এক জগতে! ছেলেটার  ছিল গলফ খেলার প্রতি তীব্র ভালোবাসা। একদিন বাসায় গিয়ে সে চিন্তা করতে থাকলো, কীভাবে গলফখেলা যায় ? গলফ তো  বড় লোকের খেলা।  তারাতো দামি জুতা, দামি গলফ খেলার সরঞ্জাম- কিছুই নেই। ছেলেটা হাল ছাড়ে না। লোহা লক্কড়ের দোকানে গিয়ে রড দিয়ে গলফ খেলার স্টিক বা ক্লাব এর মত বানিয়ে ফেলে সে। ছেলেটা পড়াশুনা চালাতে থাকে, পেটের দায়ে গলফারদের সরঞ্জামও টানতে থাকে আর লোহার রডের সেই ক্লাব দিয়ে গলফ খেলতে খেলতে নিজের স্বপ্নের পিছুও ছুটতে থাকে। সেদিন স্কুল থেকে এসে গলফ ক্লাবে দৌড়াচ্ছিলো সে। মা বললো, “বাবা! ঘরে তো খাওন কিছু নাই !!” ছেলেটা একটুও মন খারাপ করলো না। বললো, “সমস্যা নাই, আম্মা” এভাবেই ছেলেটার স্বপ্ন পূরনের দিন চলে আসলো। তার কঠোর অনুশীলন ও প্রবল আগ্রহ দেখে  বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশন থেকে গলফ খেলার সুযোগ দেয়া হলো।

সবাইকে সকাল ৮ টায় চলে আসতে বলা হতো।  কেউ ৯টায় আসতো, কেউবা ১০ টায় আসতো। কিন্তু ছেলেটা সাড়ে ৭ টায় এসে বসে থাকতো। স্বপ্ন ছুঁতে হবে না তার ? এর পরের কাহিনীটা সবারই কমবেশ জানা। একটার পর একটা শিরোপা জিততে থাকলো ছেলেটা।  ১২ টার মত অপেশাদার টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে ফেললো ছেলেটা !! ২০১০ সালের আগস্টের ১ তারিখ ইতিহাস গড়ে ফেললো ছেলেটা। প্রথমবারের মত এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা জিতে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরলো ছেলেটা। ২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর আবারো আরেকটা ইতিহাস গড়ল  ছেলেটা। জিতে গেলো  ইন্ডিয়ান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন। সবাইকে পিছনে ফেলে এই লাল সবুজ পতাকাটা উপরে তুলে ধরলো।

ছেলেটার নাম ‘সিদ্দিকুর রহমান’ বাংলাদেশ নামক এই ছোট্ট দেশটাকে সারা বিশ্বে হেয় করা হয় গরীব দেশ কিংবা অভাবের দেশ বলে । আমরা গরীব আমাদের অনেক অভাব আছে। এত অভাবের মধ্যেও আমাদের মাঝে দুইটা জিনিসের অভাব নেই। একটা হলো আবেগ আরেকটা হলো স্বপ্ন ছোঁয়ার অদম্য ইচ্ছা ।সেদিনের ঐ দরিদ্র ছেলে সিদ্দিকুর রহমানের আজকে কোন অভাব নেই। এরকম কয়েকটা সোনার টুকরা ছেলে থাকলে আমাদের দেশে আসলেই আর কোন অভাব থাকবে না ।

এই সিদ্দিকুর রহমান শুধুমাত্র একজন খেলোয়ার নয়। সে হাজার হাজার মানুষের অনুপ্রেরনাও। আমি নিশ্চিত, সিদ্দিক ভাইয়ের জীবনের গল্প পড়ার পর অনেক হতাশ হয়ে যাওয়া মানুষও আবার নতুন করে স্বপ্নের পিছু ছুটবে !!

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন