অর্থনীতি

বৃহস্পতিবার | ২৩ নভেম্বর, ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » অর্থনীতি » ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল এজেন্ডা ২০১৪

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল এজেন্ডা ২০১৪

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল এজেন্ডা ২০১৪

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ)এর মতে, কাঠামোগত বেকারত্ব, আয়বৈষম্যের প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক নীতিমালা-সংক্রান্ত আস্থার অভাব এ তিনটি বিষয় ২০১৪ সালের জন্য শীর্ষ ১০টি অর্থনৈতিক ধারার প্রধান বিবেচ্য ও শঙ্কার বিষয় হবে ।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) তার আউটলুক অন দ্য গ্লোবাল এজেন্ডা ২০১৪ মতে এ তিনটি বিষয়ের পরই বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে শঙ্কার বিষয় হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অস্থিরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি মনোযোগহীনতা। এই ফলাফল পাওয়া গেছে এক হাজার ৫০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞের মতামতের ওপর জরিপের ভিত্তিতে। ডাব্লিউইএফ এ জরিপটি চালায় ২০১৪ সালের বিশ্ব কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে তা সামনে রেখে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ব্যাপারে পাত্তা না দেওয়ায় সৃষ্ট আশঙ্কার সঙ্গে রয়েছে নেতৃত্ব পর্যায়ে মূল্যবোধের অভাবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়টিও। বিশ্ব নেতৃবৃন্দের জন্য শীর্ষ ১০টি ধারাগত এজেন্ডার মধ্যে আরো রয়েছে সাইবার-ভীতির তীব্রতা বৃদ্ধি, এশিয়ার ক্রমপ্রসারমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী, মেগাসিটি বা বড় বড় নগরের ক্রমবৃদ্ধি এবং অনলাইনে ভুল ও বিকৃত তথ্যের দ্রুত বিস্তৃতি।ডাব্লিউইএফের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লাউস শোয়াব বলেন, ‘এসব ধারার জটিলতা ও সংমিশ্রণ ২০১৪ সালের বিশ্ব পর্যায়ের এজেন্ডাকে আকৃতি দেবে এবং তাদের মিথস্ক্রিয়ার প্রকৃতি দেখাচ্ছে যে বিশ্ব পর্যায়ে সহযোগিতার বিকল্প নেই’।শোয়াব আরো বলেছেন,‘আমরা যদি এসব ধারার কঠিন প্রভাব থেকে মুক্ত হতে চাই অথবা নিরসন চাই এবং তাদের ইতিবাচক গতি চাই, তাহলে জরুরি ভিত্তিতে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা অবশ্যই কার্যকর করতে হবে।

শীর্ষ ধারাগুলোর র‌্যাংঙ্কিং বা ক্রমমান নির্ধারণ করা ছাড়াও ২০১৪ সালের আউটলুকে আগামী ১২ মাসে বিকাশমান হওয়ার মতো ধারাগুলোর একটি চিএ দেওয়া হয়েছে। বিকাশমান ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে পাথুরে গ্যাস (শেল গ্যাস) উৎপাদনের প্রতিক্রিয়া, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা বা সীমাবদ্ধতা, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিকাশমান বাজার এবং আমাদের এই পৃথিবীর উন্নয়নে মহাশূন্যের ভূমিকা। আয়বৈষম্যের ক্রমপ্রসারমানতা নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব পর্যায়ে প্রধান প্রধান দেশের মধ্যেও ক্রমবর্ধমান আয়বৈষম্যের বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে। এটা লক্ষ করা যাচ্ছে বৃহৎ বিকাশমান বাজার চীন ও ভারত থেকে উন্নত দেশগুলো পর্যন্ত সর্বত্র।

ইনফোসিসের সিইও এবং বিকাশমান বহুজাতিক সংস্থার এজেন্ডা পরিষদের সদস্য এস ডি শিবুলালের মতে, ‘ভারতে লাখ লাখ চাকরির সংস্থান করা হয়েছে এবং আমার জীবনেই আমি দেখলাম এখানে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সংখ্যা তিন কোটি থেকে বেড়ে ৩০ কোটিতে ঠেকেছে। শিবুলাল প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘আইটি খাত প্রত্যক্ষভাবে ২২ লাখ ও পরোক্ষভাবে ৮০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। শুরু হিসেবে এটাকে অবশ্যই ভালো বলতে হবে। কিন্তু ১২০ কোটি লোকের একটি দেশে যেখানে এক কোটি ১০ লাখ লোক সম্পূর্ণ বেকার, সেখানে এটা সাগরে এক ফোঁটা পানির সমতুল্য।

প্রতিবেদনে তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ভারতের মতো একটি বিশাল জন-অধ্যুষিত দেশের জন্য সমস্যার সমাধানও সেই বিপুল পরিমাণে বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে। দেশটি প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ গ্র্যাজুয়েট ও ১০ লাখ ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করছে। অথচ এর মাত্র ২৫ শতাংশের কর্মসংস্থানের ক্ষমতা রাখে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘বাকিদের শিল্পে কাজ করার মতো দক্ষ করতে আরো প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ ভারতীয় শিশু এখনো মোটেও স্কুলের মুখ দেখে না।

সূত্র: পিটিআই, ইকোনমিক টাইমস

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন