অপরাধ

বৃহস্পতিবার | ২৩ নভেম্বর, ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » খবর » অপরাধ » বিনা লটারীতে কাজ দেওয়ায় ইউএনও ও পিআইও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ

বিনা লটারীতে কাজ দেওয়ায় ইউএনও ও পিআইও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ

বিনা লটারীতে কাজ দেওয়ায় ইউএনও ও পিআইও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরগুনার তালতলী (নবগঠিত) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে রোববার সকালে লটারী ছাড়াই ঠিকাদারী কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। পক্ষান্তরে ঠিকাদারদের ধাওয়া খেয়ে পিআইও রোববার দপ্তর ছেড়ে তাৎক্ষনিক গা ঢাকা দেন। পরবর্তীতে দুপরে ওই দরপত্র (লটারী) স্থগিত করা হয়।

রোববার দুপুরে ঠিকাদাররা লিখিত অভিযোগে জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে ‘গ্রামীণ রাস্তায় ছোট ছোট সেতু/কার্লভার্ট নির্মান’ প্রকল্পে তালতলী উপজেলার আমলকিতলা ও কেওড়া খালের উপর ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি সেতু নির্মানের দরপত্রে তারা অংশ নেন। আজ সকাল ১১ টায় দরপত্রে অংশগ্রহনকারী ৬০ জন ঠিকাদারের উপস্থিতিতে দরপত্রগুলির লটারীর জন্য সময় নির্ধারিত ছিল। ঠিকাদারদের অভিযোগ, এ্যাটম এন্টারপ্রাইজ ও নুরজাহান এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য তালতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লটারী না করে সকাল সাড়ে নয়টার তাদের অনুপস্থিতে ওই দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দুটি ভাগ করে দেন।

ঠিকাদার মোজাম্মেল গাজী, শাহজাদা আকনসহ অন্যান্যরা জানান, রোববার সকাল ১১ টায় পূর্বনির্ধারিত সময়ে তারা লটারীর জন্য তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে উপস্থিত হলে সেখানে উপস্থিত পিআইও তাদের জানান, লটারী সম্পন্ন হয়ে গেছে। এ সময়ে উত্তেজিত ঠিকাদাররা পিআইও জাহাঙ্গীর আলমকে ধাওয়া দিলে তিনি দৌড়ে দপ্তর ছেড়ে গা ঢাকা দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ঠিকাদার অলি উল্লাহ এবং মনির জানিয়েছেন।

তালতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাহাঙ্গীর আলম লটারীর সময় সকাল সাড়ে নয়টায় জানালে তিনি তা সম্পন্ন করেছেন।

লটারীর তারিখ ও সময় বিষয়ে অভিযোগকারী ঠিকাদাররা জানান, সাধারনত দরপত্র বাছাইয়ের পর পিআইও লটারীর তারিখ সময় নির্ধারন করে মৌখিক ভাবে ঠিকাদারদের জানিয়ে থাকেন। সে মোতাবেক রোববার অধিকাংশ ঠিকাদার উপস্থিত হয়ে প্রতারনা শিকার হয়েছেন।

পিআইও’র ধাওয়া খাওয়া ও গা ঢাকা দেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তোফাজ্জেল হোসেন তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে তিনি বাইরে ব্যস্ত রয়েছেন। এ ব্যাপারে পিআইও কোন অভিযোগ করেন নি।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে (দুপুর আড়াইটায়) প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাহাঙ্গীর আলম জানান, “ঝামেলার কারনে দরপত্র (লটারী) স্থগিত করা হয়েছে।” তিনি এ বিষয়ে আর কোন কথা বলতে রাজি হননি।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন