মুক্ত আলোচনা

বৃহস্পতিবার | ২৩ নভেম্বর, ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » মতামত » মুক্ত আলোচনা » সাংবিধানিক তালগোলঃ বৈধতার মাপকাঠিও নিরুদ্দেশ!

সাংবিধানিক তালগোলঃ বৈধতার মাপকাঠিও নিরুদ্দেশ!

সাংবিধানিক তালগোলঃ বৈধতার মাপকাঠিও নিরুদ্দেশ!

অধ্যাপক ডঃ মোঃ মাইমুল আহসান খান
সাবেক চেয়ারম্যান, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সাবেক ফুল ব্রাইট স্কলার

Ahsan Sirআজ কয়েক দিন যাবত মন্ত্রীদের পদত্যাগ পত্রের বৈধতা নিয়ে তোলপাড় দেশ। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের গলাফাটা  চিৎকারে জাতি আজ হত বিহবল। তাছাড়া দড়িবাজ বুদ্ধিজীবী ও মতলববাজ আইনজ্ঞদের যুক্তির তোড়ে আবারও জাতির বিবেক খণ্ড-বিখণ্ড। সাংবিধানিক আইনের বিতর্কে বেরিয়ে আসছে আমাদের অন্তঃসারশূন্য কূটকৌশল এবং ক্ষমতায় থাকার ফন্দি ফিকির। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, দেশ আজ সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের আধিক্যে জর্জরিত।

বৈধ ও অবৈধ কাজের পরিধি যদি সংবিধানও বলতে না পারে, তবে সে সংবিধানের কপালে অনেক দুঃখ নেমে আসবেই। মন্ত্রীরা বৈধ নাকি অবৈধ, এ প্রশ্নের উত্তর যে সংবিধান দিতে পারে না, তা কিছুতেই কোন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন হতে পারে না।

এমনিতেই আমাদের সংবিধানে ঘটে গেছে আজব সব রীতিনীতির সমাহার এবং ন্যায়-নীতি বিবর্জিত তথাকথিত নতুন এক শাস্ত্রীয় চমক। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এ দলিলটির প্রায় এক তৃতীয়াংশই এখন বেদবাক্য, যা পরিবর্তন করার চেষ্টা করাই রাষ্ট্রদ্রোহিতা। তা এবার এমন রাষ্ট্রদ্রোহিতা, যেখানে মৃত্যুদণ্ড দিতে দেশের যে কোন আদালত আইনতই বাধ্য। সাংবিধানিক আইনের এ বাধ্যবাধকতা কেন মন্ত্রীদের উপর বর্তাবে না? মন্ত্রীরা কি স্বর্গ থেকে নেমে আসা কোন মহাবীর না-কি ঐশ্বরিক ক্ষমতাসম্পন্ন কোন অবতার?

সংবিধানের ভাষা যাই হউক না কেন, এ কথা সত্যি যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা  অপরিসীম। সুধীজনরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকে তুলনা করেছেন রাজাধিরাজের ক্ষমতার সাথে। মোঘল বাদশা বা আদিকালের ব্রিটিশ রাজা বা রানীর ক্ষমতাও এর তুলনায় বড়ই সামান্য। অথচ সেই প্রধানমন্ত্রীই আবার পারলেন না একজন মন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে। বরং মন্ত্রীর সংখ্যা বাড়তেই থাকলো। সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো প্রায় সাড়ে চার ডজন। উপদেষ্টার সংখ্যাও প্রায় আধা ডজন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা আবার সবাই অনির্বাচিত এবং শপথ ও জবাবদিহিতা ছাড়াই কাজ করেন। কোন আইন বলে যে এসব উপদেষ্টারা রাষ্ট্রীয় সকল গোপন দলিল-পত্র দেখেন বা পাঠ করেন এবং মন্ত্রীদের নির্দেশ দেন, তাও আমরা জানি না। এক মন্ত্রী ঢাকা শহরের বিভিন্ন নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি চাঁদা তোলেন, এমন খবর চাউর হলেও ঐ মন্ত্রীর চেয়ার কেবল পোক্তই হতে থাকে।

অন্য এক মন্ত্রীর বিশেষ সহকারীরা টাকার বস্তাসহ ধরা পরার পর  মন্ত্রী পদত্যাগ করে। পরে বলা হলো যে, তার পদত্যাগ পত্র গৃহীত হয়নি। তাকে পুনরায় শপথ বাক্য পাঠ করানো ছাড়াই রেখে দেয়া হলো “কর্মবিহীন” মন্ত্রী হিসেবে। ঐ বেকার মন্ত্রীও এবার ৪৯ জন মন্ত্রীসহ পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন বলে প্রকাশ। তারপরও নাকি পদত্যাগ পত্র জমা দেয়া হয়নি সংবিধান মোতাবেক। এটি আবার স্বয়ং আইনমন্ত্রীর ভাষ্য।

দুটি বাহানার কথা শুনা যাচ্ছে। এখন জোরেসোরে। একটিতে বলা হচ্ছে যে, পদত্যাগ পত্রসমূহে তারিখ নেই বিধায় তা এখনই কার্যকর হবে না। অন্য বাহানাটি হচ্ছে, পদত্যাগ পত্র গুলোতে এখনও রাষ্ট্রপতির দস্তখত পড়েনি। ভাবখানা এমন যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাই সবচেয়ে বেশী। অথচ বর্তমান সংবিধান অনুসারে প্রকৃতপ্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি কোন মন্ত্রীকে নিয়োগও দেন না বা বরখাস্ত করতে পারেন না। এ সবই ঘটে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বা অনুরোধে (অনুচ্ছেদ ৫৮)।

প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরই নির্ভর করে সকল মন্ত্রীর চাকুরি লাভ ও চ্যুতির বিষয়টি। প্রধানমন্ত্রীর এ সংক্রান্ত কোন ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়াবার আইনগত ক্ষমতা কারো নেই। রাষ্ট্রপতি এখানে কেবলই আজ্ঞাবাহী সিলমোহর। প্রধানমন্ত্রী চাকুরী হারালেই কেবল সকল মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে চাকরীচ্যুত বলে বিবেচিত হবে (অনুচ্ছেদ ৫৮(৪))।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেয়ার সাথে সাথেই যে কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হবে সংবিধানের ৫৮(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে। অথচ ৫৯ জন মন্ত্রী পদত্যাগ পত্র জমা দেয়ার পর, এখন বলা হচ্ছে যে, এসবে তারিখ নেই বা রাষ্ট্রপতি এখনো নিজ হাতে স্পর্শ করে দেখেননি ঐ সব পদত্যাগ পত্রসমূহ। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও অন্য যে কোন মন্ত্রীর পদত্যাগ বা পদচ্যুতির ক্ষেত্রে একটি সাধারণ নিয়ম হচ্ছে উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তারা নিজ নিজ কার্যভার বহন করতে পারবেন। কিন্তু কার্যভার বহন করতে অপারগতা স্বীকার করলে বা পদত্যাগ পত্র জমা দিলে, ঐ পদ সাথে সাথে শূন্য বলে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে কোন ব্যত্যয় ঘটার কোন উপায় নেই। এই সহজ বিষয়টি নিয়ে আজ দেশে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যাচ্ছে।

সমস্যার গভীরতা ও রাজনৈতিক কূটকৌশল

আওয়ামীলীগ সরকার এবারকার শাসনামলে দলীয় সকল এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। বিরোধী দলগুলো  তেমন কোন প্রতিরোধ করতে পারেনি। তাই আওয়ামী নেতৃবৃন্দের  আত্মবিশ্বাস এখনো তুঙ্গে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মত একটি প্রলয়ংকরী কাজ করা সত্ত্বেও তেমন একটা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়নি শেখ হাছিনা সরকার।

আমরা হয়তো ভাববো যে, সংসদে দানবীয় সংখ্যা-গরিষ্ঠতা (brute majority) থাকার কারণে এমনটি হয়েছে। এটি কেবলই আংশিক সত্য। আওয়ামীলীগের দলীয় মেজাজ-মর্জি  বোঝার ক্ষমতা এখনো বিরোধী দলসমূহ অর্জন করতে পারেনি। বিরোধী দলসমূহের নিয়মতান্ত্রিক সকল আন্দোলন পর্যন্ত আওয়ামী সরকার ভণ্ডুল করতে সমর্থ হয়েছে।

সমস্যা এখন শুধু একটাই। এত বেশী ভোটার আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে যে, জোরজবরদস্তি করে নির্বাচন করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। ১৯৭৩ সালের মত করেই আওয়ামীলীগ এবার দশম সংসদ নির্বাচন করতে চাইবে, এটি স্বাভাবিক। এর সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ হতে পারে নিন্মরূপ–

ক) আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ মনে করেন যে, তারা ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে গেছেন।

খ) আওয়ামী ঘরনার অধিকাংশ রাজনীতিবিদ ভাবেন যে, তারা বিএনপি-কে জামাতের মত  একটি দলে পরিণত করতে পেরেছে।

গ) জামাত নেতাদের ফাঁসী কার্যকর করার মেনডেট চাইলেই বিপুল সংখ্যক ভোটার পুনরায় আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনবে।

ঘ) দেশের সকল ধরণের মিডিয়ার কাছেই আওয়ামী বিরোধী শক্তি গুলো দেশদ্রোহী বা সন্ত্রাসী।

ঙ) আওয়ামীলীগের ভারতপন্থী হওয়ার বিষয়টি জনগণ জানে না বা বোঝে না।

চ) জামাত-বিএনপি মূলত পাকিস্তানী দালাল হিসেবে চিহ্নিত।

ছ) আওয়ামী নেতার মৌলবাদ বিরোধী প্রচারণায় আমাদের বিদেশী বন্ধুরা মুগ্ধ এবং তারা অতি মাত্রায় এজন্য আওয়ামী সরকারএর কাছে চিরঋণী।

আমরা জনগণ আসলেই বোকা। তা নাহলে নেতারা কীভাবে এতটা প্রকাশ্যে আমাদের সামনে সবকিছুতেই অভিনয় করে যেতে পারে। ৫৯ জন মন্ত্রীর পদত্যাগ পত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে মিডিয়ার সামনে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবনে হস্তান্তর করাটা আওয়ামী সরকারের এক সাজানো নাটক। সমস্যা হচ্ছে যে এদেশের বিরাট সংখ্যক মানুষ নাটকে বিশ্বাস করে। হুমায়ূন আহমেদের নাটকের বাকের ভাইয়ের ফাঁসী রদ করার জন্য ঢাকায় যুবকরা মিছিল করেছিল দলে দলে।

সেই যুবকদের অনেকেই আবার এখন সমাজপতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা মন্ত্রী বাহাদুর। তাদের কেউ কেউ আবার এখন প্রধানমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে মন্ত্রীর পদ থেকে অবসরে যাওয়ার অভিনয় করছেন।

ঘোষিত উদ্দেশ্য দুইটিঃ

জামাতের নেতাদের ফাঁসীর আদেশ কার্যকর করার জন্য ভোট চাওয়া।

তথাকথিত সর্বদলীয় মন্ত্রীসভা গঠন করে পুনরায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করা।

অঘোষিত প্রধান উদ্দেশ্যও দুইটিঃ

১। পুনরায় শেয়ার বাজার থেকে শুরু করে সকল ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের অর্থ সম্পদ আগের মতই লুটপাট ও ভাগবাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করা।

২। দিল্লীর সকল প্লান বাংলার প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা।

অঘোষিত এই দুটি উদ্দেশ্যের ব্যাপারে আওয়ামী যুক্তি-বুদ্ধি অত্যন্ত প্রখর ও পরিষ্কার। আওয়ামীলীগের পরিবর্তে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে তারা আরো বেশী চুরি-দারিতে মগ্ন হবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আরো বেড়ে যাবে। মৌলবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। আমাদের কোন ভাল বিদেশী বন্ধু থাকবে না। তাছাড়া বিএনপি-জামাত নেতারাও তলে তলে কেবলই দিল্লীর প্লান বাংলার মাটিতে কার্যকর করার কাজে লিপ্ত থাকবে।

অতএব দেখা যাচ্ছে যে, মূলত আওয়ামী সরকারই মন্দের ভাল বা একমাত্র স্বাচ্ছা দেশপ্রেমিক দল। দিল্লীর সাথে আওয়ামী নেতৃবৃন্দের সখ্যতা বা দোস্তি বহুদিনের পুরাতন ও পোক্ত। তাই ভাসানী নভোথিয়েটার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ভাসানী হল পর্যন্ত আর গড়ে উঠতে দেয়া হয় নি। বাংলাদেশর পরিচয় ও অমীয় সম্ভাবনার দেশ হিসেবে এ রাষ্ট্রটিই কি তাই বিলীন হয়ে যাবে? মন্ত্রীদের নাটকীয় পদত্যাগ এবং পুনরায় ক্ষমতার মসনদে আরোহণ প্রক্রিয়ার সাথে এখন কোন বিচারেই সাংবিধানিক আইন প্রাসঙ্গিক নয়। প্রাসঙ্গিক হচ্ছে, রাজনৈতিক কূট-কৌশল এবং মন্ত্রীর আদলে রাজা-রানীর উত্থান ও পতন।

জনগণকে যতটা বোকা ভাবা হচ্ছে জনগণ আসলে কিন্তু ততটা নির্বোধ নয়। তাই ভোটাররা অত্যন্ত দ্রুত একাট্টা হয়ে যায়। একবার পাঁচ বছরের নারকীয় নির্যাতনকারী দলকে পুনরায় জনগণ ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে দেখতে চায় না। এ সত্যটি আমাদের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা বোঝেও, না বোঝার ভান করে, যেমনটি ভান করে সৎ ও দক্ষ মন্ত্রী হবার। এ সব ভানের রাজনীতিই এখন ৫০ এর অধিক মন্ত্রী এবং ৩০০ এর অধিক আইন প্রণেতার নখদর্পণে। কিন্ত এক পাল মন্ত্রীর নাটকীয় পদত্যাগকে জনগণ রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চের পর্দা টানাটানির মতই দেখছে। তথাকথিত সর্বদলীয় নতুন সরকারও যে সংবিধানসম্মত হবে না, সেটা এ সব নাটকের ডাইরেক্টটররা বেমালুম ভুলে গেছেন। আমাদের সংবিধানটির বর্তমান যা অবস্থা, তাতে প্রধানমন্ত্রীসহ সকল মন্ত্রীর আইন ও নৈতিকতা বর্জিত সকল পদক্ষেপ ও কাজকর্মকেও সংবিধানসম্মত বলে দাবি করা যায় ও যাবে। সেদিক থেকে আওয়ামীলীগ নিরাপদ। তবে ষোল কোটি মানুষের এ দেশেও ঐশ্বরিক বিধি-বিধান জনকণ্ঠে অনুরিত হয়। জনগণের কণ্ঠই হয়ে উঠে বিধাতার অমোঘ বাণীর প্রতিফলন।

বোধ করি সেদিন দূরে নয়, যখন এদেশের ভোটাররাই ক্ষমতার পালাবদলেও আরো ইতিবাচক ও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।  অপ্রাসংগিক এ সব বোলচালকে আর দেশের সাংবিধানিক সমস্যা বলে স্বীকার করবে না জনগণ। ক্ষমতার মসনদে বসে যথেচ্ছা সংবিধান কাঁটাছেড়া করবেন, আবার সেসব আইনের কথা বলে জনগণকে সংবিধান ও রাষ্ট্রদ্রোহী বানানোর চেষ্টা করবেন, এমন রাজনৈতিক নাটক জনগণ হয়তো আর বেশী দিন চলতে দেবে না। অন্যদিকে পরিশুদ্ধ হওয়ার  প্রচুর সুযোগ লাভ করেও বিরোধী দলীয় নেতারা কেন এখনও গণমুখী হতে পারছে না, তার সঠিক কারণ খোঁজার সময়ও ফুরিয়ে যাচ্ছে।

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহেদুল আনাম খান ১৪ই নভেম্বর, ২০১৩ ইং দৈনিক ইংরেজী ডেইলি স্টারে প্রকাশিত তার প্রবন্ধে মন্ত্রীদের পদত্যাগকে জাতির সাথে তামাশা করার নামান্তর বলে আখ্যা ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন (the resignation tamasha)। তার ভাষ্য মতেঃ “এ ধরণের পদত্যাগ শুধু সংবিধানের সরাসরি লংঘনই নয়, এটি আমাদের জাতীয় রাজনীতির মন্ত্রীদের দ্বারা সৃষ্ট এক বিপদজনক নজীর। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ ও আইনপ্রণেতাদেরকে গণতান্ত্রিক আচার-আচরণে অভ্যস্ত করতে বহু বছরের আইনানুগ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত বিধি-বিধান পালন করতে হয়, যা পার্লামেন্টারী ব্যবস্থার ভিত্তি। সঙ্গত কারণেই তাই আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে সংকিতবোধ করা যুক্তিযুক্ত। সরকার মাত্রাতিরিক্ত ধূর্ততার পরিচয় দিতে গিয়ে জাতির সামনে ধরা পড়ছে অসাংবিধানিক সব কাজকর্মের প্রমাণ নিয়ে। সম্ভবতঃ এর পূর্বে এতটা ন্যাক্কারজনকভাবে আর কেউ সংবিধান লঙ্ঘন করেনি আমাদের দেশে” (The Daily Star, November, 14, 2013)। দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত ভাষ্যমতে “পদত্যাগ নাটক” নিয়ে সরকার বেকায়দায় (নভেম্বর ১৪, ২০১৩ ইং)।

সরকার দারুণ বেকায়দায় থাকার কথা ছিল পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে। শেয়ার বাজার ও ব্যাংকের অসংখ্য কেলেঙ্কারি নিয়ে। অথচ আজ সবাই বলছে যে, মন্ত্রীদের পদত্যাগ নিয়ে নাকি সরকার এখন বেশী বেকায়দায়। নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করে এবং নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ করেই এই সরকার পাড়ি দিতে চায় জনরোষ।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন