এই মুহূর্তে

বৃহস্পতিবার | ২৩ নভেম্বর, ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে বেগম জিয়া

বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে বেগম জিয়া

বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে বেগম জিয়া

১৮ দলীয় জোটের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে।

বিএনপি ও ১৮ দল সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনের উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানাবেন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে ১৮ দলীয় জোটের অবস্থান তুলে ধরে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান পদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প চাইবেন তিনি। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না ১৮ দল। তারা মনে করে, শেখ হাসিনার অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানের পদ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরে যেতেই হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হলে তাতেও আপত্তি থাকবে না ১৮ দলের!বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে গাড়িতে খালেদা জিয়া। ছবি: মুকুল

এছাড়া ১৮ দল মনে করে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনেও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করার অনুরোধ জানাবেন বেগম জিয়া। পাশাপাশি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকে সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার অনুরোধ জানাবেন বিরোধী দলীয় নেতা, যাতে তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রেও দায়িত্ব পালন করতে পারে। আর ভোট পরবর্তী যেকোনো ধরনের সহিংসতা রোধে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী এক সপ্তাহ পর্যন্ত যাতে সেনাবাহিনীকে মাঠ পর্যায়ে মোতায়েন রাখা হয় সে ব্যাপারেও রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানাবেন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি ও ১৮ দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে।

বিএনপি ও ১৮ দল সূত্রে আরো জানা গেছে, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যাবে। এর মধ্যে ১৭ দলের শীর্ষ পর্যায়ের ১০ জন এবং বিএনপির ১০ জন সিনিয়র নেতা অথবা ১৮ দলের ১৮ শীর্ষনেতা ও বিএনপির ২ জন সিনিয়র নেতা এই প্রতিনিধি দলে থাকতে পারেন। প্রতিনিধি দলে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, এনপিপির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান থাকতে পারেন।

বিএনপির পক্ষে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রি. জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান থাকতে পারেন। তবে ১৮ দলের ১৮ শীর্ষনেতা যাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে প্রতিনিধি দলে বিএনপি থেকে সম্ভবত দুইজন নেতা থাকবেন।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতার বৈঠকের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর সোমবার রাত সাড়ে  ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দল এবং জোটের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন খালেদা জিয়া।

Oposition (2)বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, শমসের মবিন চৌধুরী বীরবিক্রম, আব্দুল্লাহ আল নোমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আমিন চৌধুরী, আব্দুল মান্নান, ড. ওসমান ফারুক, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু, শাম্মী আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ১৮ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে একটি লিখিত প্রস্তাব পেশ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি, নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান পদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প সন্ধান, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের গ্রেফতারসহ দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সঙ্কট নিরসনে রাষ্ট্রপতিকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানো হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হলেও তাতে আপত্তি থাকবে না।

এই মুহূর্ত জানা গেছে, বেগম জিয়া ১৮ দলীয় জোটের ২০ সদস্য বিশিষ্ট দল নিয়ে গুলশান কার্যালয় থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন বিকেল ৫ টায়।সূএ মতে যানা যায়,নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনায় ঐক্যমতে পৌছাতে না পারলে আগামী সপ্তাহ থেকে লাগাতার আন্দোলনে যাবে ১৮ দলীয় জোট।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন