এই মুহূর্তে

শুক্রবার | ১৭ নভেম্বর, ২০১৭ | ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ২৭ সফর, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » এডমন্ড স্পেনসার (১৫৫২-১৫৯৯)

এডমন্ড স্পেনসার (১৫৫২-১৫৯৯)

এডমন্ড স্পেনসার (১৫৫২-১৫৯৯)

১৫৫২ সালে এডমন্ড স্পেনসার লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার লিংকনশায়ার থেকে লন্ডনে এসেছিল। ১৫৬১ সালে স্পেনসার মার্চেন্ট টেইলর্স বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৫৬৯ সালে প্রেমব্রুক হল ক্যামব্রিজ থেকে গ্রাজুয়েট হন এবং ক্যামব্রিজ থেকেই ১৫৭৬ সালে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৫৬৯ সালে তার প্রথম প্রকাশনা ‘Anonymous’ এর অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ১৫৯৫ সালে তার ‘Amoretti and Epithalamion’ শিরোনামে বিখ্যাত সনেটগুচ্ছ প্রকাশিত হয়। ১৫৯৪ সালের জুন মাসে এলিজাবেথ বয়লি নামের এক সুন্দরী নারীর সাথে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে ‘Colin Clout’s Come Home Again (১৫৯৫)’, ‘Four Hymns (১৫৯৬)’, ‘The Faeire Queene’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। পেত্রার্কীয় সনেটের অনুসরণে প্রেমবিষয়ক সনেট রচনা করে তিনি ইংরেজী সাহিত্যে খ্যাতিমান হয়ে আছেন।

১৫৯৯ সালে এই মহান কবি পরলোক গমন করেন।

স্পেনসারের ‘Amoretti’ কবিতাটি ১৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রেমিক কর্তৃক প্রেমিকাকে লিখিত কিংবা নিবেদিত এই কবিতা। ধারণা করা হয় যে, এলিজাবেথ বয়লি নামের যে মহিলাকে কবি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন তাকে নিবেদিত কিংবা তাকে উদ্দেশ্য করেই লেখা এই কবিতাটি। স্পেনসার প্রেমবিষয়ক সনেট রচনাতেই হয়ত বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করতেন। এদিকে এ কবিতা প্রকাশের পূর্বেই পেত্রার্কের ‘Rime’ ইংরেজী কাব্যধারাকে স্পর্শ করেছে। পেত্রার্কীয় চিন্তাচেতনা ও ভাবধারা তখন ইংরেজ তরুন কবিদের অনুপ্রাণিত করে। পেত্রার্কীয় চেতনাকে আত্নস্থ করে ইংরেজী সনেটের ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারার সূচনা করেন স্পেনসার তার প্রেমবিষয়ক সনেটগুলো রচনা করে। সমালোচকদের মতে, কবিতাটিতে যেন বর নতুন কনেবধূকে নিবেদন করছে তার হৃদয়ের আকুতি। প্রেমদেবতা কিউপিডের প্রসঙ্গও এসেছে কবিতাটিতে। প্রেমিকাকে দেবী হিসেবে চিত্রিত করেছেন স্পেনসার তাঁর এ কবিতায়। প্রেমিকাকে লিখিত লিপিগুলো প্রেমের দেবীর হাত থেকেই এসেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। উপমা, উৎপ্রেক্ষা এবং পুরাণ ব্যবহারে কবিতাটি অসাধারাণ সৌন্দর্যে দীপ্যমান।

হ্যাপি ইউ লিভস্…

সুললিত এই লিপি যখন পৌছাবে তোমার পদ্মকোমল হাতে,

যেখানে ধরা আছে আমার জীবন আর জীবনের লেনদেন,

তুমি কি সেই প্রেম আদরে জড়াবে তোমার কোমল বাহুডোরে,

ভীতকম্পিত বন্দী মুক্ত হবে জয়ের দেবীর দৃষ্টিপাতে।

আর লিপিগুলো যা তারার আলোর মতো দ্যুতিমান,

পাঠ করে আমার আত্নার মুমূর্ষ ব্যথিত বাণী,

যা দেখে প্রসন্ন হবে তোমার দুচোখ হয়ত কোন দিন

লেখা হয়েছে যা গোপন অশ্রু আর হৃদয়ক্ষরিত রক্ত দিয়ে।

আর সুললিত সেই লিপিগুলো পবিত্র ঝড়নায় শুদ্ধ

প্রেমের পবিত্র দেবীর হাত হতেই এসেছে এটি,

ভাববে তুমি, দেবদূত তাকাবে প্রসন্ন দৃষ্টিতে,

কতকাল ধরে উপবাসী মোর প্রাণ স্বর্গসুখের তরে।

লিপির প্রতিটি শব্দাবলি, ছন্দ কত একান্তে চেয়েছে তাকে,

যদি পাই একান্তে, তাহলে পরোয়া করি না কারো।

কবিতার সংক্ষিপ্ত আলোচনাঃ

স্পেনসারকৃত ৮৯টি সনেটের মধ্যে এটি প্রথম সনেট, যেটি ১৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়। Amoretti and Epithalamion নামে, যা তিনি এমন একজন মহিলাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, যে মহিলার সাথে তার বাগদান সম্পন্ন হয়।

এই সনেটটি এলিজাবেথীয় যুগের প্রেম-ভাবনাকে আশ্রয় করে রচিত হয়েছে। প্রথম কবিতাটিই তিনি তাঁর প্রিয়তমাকে অবলম্বন করে লিখেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর এই কবিতা যখন তাঁর দয়িতা নরম শুভ্র হাত দ্বারা স্পর্শ করবে প্রেমের মহিমায় তা আরো মহিমান্বিত হবে। তিনি অনুভব করেছেন তার পুরো জীবন তার প্রেমিকার বাহুবন্ধনে আটকা পড়েছে। তিনি আরো বলেছেন, এই প্রেমের কবিতাটিকে প্রেমের দেবতার করুণা আর ভালবাসার ছায়া পড়বে। শেষে বলেছেন, এই কবিতার পাঠক (অর্থাৎ তার ভালোবাসার জন) যখন জানবে যে এ কবিতাটি তারই উদ্দেশ্য লেখা, সেও তখন পরম পরিতৃপ্তি লাভ করবে।

স্পেনসার এখানে রোমান সনেটের ভালোবাসার যে ঐতিহ্য গাথা তা গ্রহণ করেছেন। রোমান কবিগণ সর্বদাই প্রথম পুরুষে তাদের প্রেমিক/ প্রেমিকার ভালোবাসার কথা বলেছেন। ভালোবাসার পাত্র/ পাত্রী একে অপরকে না দেখলেও উভয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করেছেন। স্পেনসারের এই সনেটিটিতে সেই ভালোবাসারই প্রতিধ্বনি যেন শোনা যায়। এটাকে প্লেটোনিক ভালোবাসাও বলা চলে। এই ঐতিহ্যের ধারায় প্রেমিক তার প্রেমিকাকে পাগলের মতো ভালোবাসা জানায়। মোট কথা, এটি দূর থেকে গভীর শারীরিক ভালোবাসা জ্ঞাপক। শেষে তিনি তার প্রেমিকা যেন কাব্যকলার দেবীর মতই তার এই ভালোবাসার গাথাকে সহজেই হৃদয়ে ধারণ করতে পারে।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন