এই মুহূর্তে

বৃহস্পতিবার | ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ২৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » নবম সংসদের যবনিকা

নবম সংসদের যবনিকা

নবম সংসদের যবনিকা

নবম সংসদের শেষ অধিবেশনে বসলেন ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সাধারন নির্বাচনে বিজয়ীরা। বিশেষ অবস্থার সৃষ্টি না হলে আর বসবে না নবম সংসদ। 

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক মাস বেশী সময় গড়ায় সংসদের শেষ অধিবেশন। বুধবার রাতে এই অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির কথা জানান,দেশের প্রথম নারী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বর্তমান  রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ধারণার চেয়ে এক মাস বেশি সময় গড়ায় নবম সংসদের ১৯তম অর্থাৎ শেষ অধিবেশন।বুধবার রাতে এই অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির কথা জানান অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী দেশের প্রথম নারী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।এই সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনান তিনি; কেননা সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও সমাপ্তি ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি।

তার আগে সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “এ অধিবেশনই শেষ। ইমার্জেন্সি বা যুদ্ধাবস্থা না হলে অধিবেশন বসবে না। নবনির্বাচিতরা আগামী সংসদে আসবে।”নির্দলীয় সরকারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনরত বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে সংসদের শেষ অধিবেশনের সমাপ্তি হল, যা নিয়ে হতাশার সুরও ছিল প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেছি নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে। উনি ব্যবস্থা নেবেন।”বিরোধী দলের ভোট বয়কট ও প্রতিহত করার হুমকির মধ্যে নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয়’ সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা বলেন,“নির্বাচন বাংলার মাটিতে হবেই,বানচাল করার ক্ষমতা কারো থাকবে না।” তিনি আরো বলেন,২৫ অক্টোবর নির্বাচনের দিনগণনা শুরুর পর থেকে সংসদ অধিবেশন আর বসবে না।কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে মতানৈক্যের মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ১৯তম অধিবেশনের মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়।

অধিবেশন শেষ হলেও সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের বলে বহাল থাকবে নবম সংসদ। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করা এই সংসদের মেয়াদ ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রয়েছে। আর এর মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন করতে হবে।সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।২৫ অক্টোবর দুই পক্ষ রাজপথে অবস্থানের ঘোষণা দিলে দেশজুড়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়, যদিও পরে সংঘাতের কোনো পরিস্থিতি ঘটেনি।

মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন,বিরোধী দলকে তাদের প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সময় দেয়াই ছিল উদ্দেশ্য।অন্যদিকে সংসদে আলোচনার ‘পরিবেশ’ নেই বলে বিরোধী দল অধিবেশন বর্জনের পাশাপাশি নিজেদের সংখ্যালঘিষ্ঠতার কথা তুলে ধরে বলে আসছিল,নির্দলীয় সরকারের বিল তুললে সরকারি দলকেই তুলতে হবে।সংসদ অধিবেশন আর বসবে না বলে বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

“সরকার এখানে হস্তক্ষেপ করেনি, করবেও না। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী আমরা তা করতে পারি না।”সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পর নবম সংসদেই সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন হয়, যা চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সূত্রপাত ঘটায় বলে বিএনপির দাবি। সরকারের বক্তব্য, আদালতের আদেশ শিরোধার্য মেনেই এটা করা হয়েছে।১৯তম অধিবেশনে মোট কার্যদিবস ছিল ২৪টি, বিল পাস হয় ৩৭টি। যার মধ্যে দুটি বেসরকারি বিল। প্রধানমন্ত্রীর জন্য জমা পড়া ১২৯টি প্রশ্নের মধ্যে ৪১টির উত্তর দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্ন জমা পড়েছিল ২ হাজার ৬২৩টি প্রশ্ন। এর মধ্যে উত্তর দেয়া হয়েছে ১ হাজার ৮১৩টির।১৯তম অর্থাৎ শেষ অধিবেশনে বিএনপি যোগ দিয়েছিল মাত্র একদিন।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন