এই মুহূর্তে

বৃহস্পতিবার | ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ২৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » ‘সাখারভ’ পুরস্কার পেলেন মালালা

‘সাখারভ’ পুরস্কার পেলেন মালালা

‘সাখারভ’ পুরস্কার পেলেন মালালা

বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গিয়ে নিজের হাতে ‘সাখারভ প্রাইজ ফর ফ্রিডম’ গ্রহণ করলেন পাকিস্তানের কিশোরী মালালা ইউসুফজাই৷ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তসলিমা নাসরিন।

শিশুদের জন্য শিক্ষার দাবিতে সোচ্চার মালালা৷ তালেবানের বুলেটের আঘাত – কিছুই দমাতে পারেনি তাঁকে। এমন সাহসী ও দৃঢ় অবস্থানের স্বীকৃতি হিসেবেই মালালা পেয়ে চলেছেন একের পর এক পুরস্কার। বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শুলৎস মালালার ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তিনি মালালাকে শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক ‘গ্লোবাল আইকন’ বা আন্তর্জাতিক প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদানের কথা স্বীকার করেন মার্টিন শুলৎস।

মালালা তাঁর ভাষণে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বে শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন। প্রায় ৫ কোটি ৭০ লক্ষ শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, তারা স্কুলে যেতে পারে না। এর ফলে সবারই বিবেক দংশন হওয়া উচিত বলে মনে করে মালালা।শুধু ইউরোপের মধ্যে দৃষ্টি আবদ্ধ না রেখে সর্বত্র মানবাধিকার রক্ষার প্রতি মনোযোগ দেবার আবেদন করে সে। যে সব শিশু দারিদ্র্য, নির্যাতন ও সন্ত্রাসবাদের শিকার হচ্ছে, তারা আইফোন, এক্সবক্স, প্লে-স্টেশন বা চকলেট চায় না। মালালার মতে, তাদের হাতে বই ও কলম তুলে দিলেই তারা সন্তুষ্ট হবে৷

তাঁর নিজের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে এই পুরস্কার অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি। মালালা এই পুরস্কারটি পাকিস্তানের সেই সব মানুষের প্রতি উৎসর্গ করেছে, যাঁরা সবার অলক্ষ্যে একই প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন৷ গোটা বিশ্বে যাঁরা মৌলিক মানবাধিকারের জন্য লড়াই করছেন, তাঁদেরকেও একই আসনে বসিয়েছেন তিনি৷

সবচেয়ে কম বয়সি ‘সাখারভ’ পুরস্কারজয়ী হিসেবে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছেন পাকিস্তানের এই কিশোরী। এই পুরস্কারের জন্য যখন এডওয়ার্ড স্নোডেনের নামও সাখারভ পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল। চূড়ান্ত তালিকা থেকে শুধু মালালাকেই বেছে নেয়া হয়৷

২৫তম পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘সাখারভ’ পুরস্কার বিজয়ী আরও ২১ জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনও৷ ১৯৯৪ সালে তিনি এই পুরস্কার পান৷ তিনি বলেন, নারীশিক্ষা ও নারী অধিকারের প্রতি ইউরোপ তার সমর্থন দেখাচ্ছে।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন