Azizul Bashar
আন্তর্জাতিক

শুক্রবার | ১৭ আগস্ট, ২০১৮ | ২ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৫ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » খবর » আন্তর্জাতিক » রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেবে না মিয়ানমার সরকার

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেবে না মিয়ানমার সরকার

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেবে না মিয়ানমার সরকার

মিয়ানমার সে দেশের রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার আহ্বান নাকচ করে দিয়েছে। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, তাদের সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব না দেয়ার নীতিতে অটল রয়েছে।

অথচ সম্প্রতি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র প্রধান বলেছিলেন, মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তারা এই সংস্থার প্রতিনিধিদলকে বলেছেন, তারা রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে নাগরিকত্ব দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও চাপের মুখে রয়েছে।

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ মিয়ানমারের লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানের ওপর নির্যাতন ও হয়রানির কথা উল্লেখ করে তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার দাবি জানায়। মিয়ানমারের বেশিরভাগ মুসলমানই বসবাস করেন দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত রাখাইন (আরাকান) প্রদেশে।

মিয়ানমারের সরকার বলছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে তাদের দেশে প্রবেশ করেছে, তাই তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে না। গত বছর রাখাইন প্রদেশে উগ্র বৌদ্ধদের হামলায় হাজার হাজার মুসলমান প্রাণ হারান এবং শরণার্থীতে পরিণত হন আরো প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান।

মিয়ানমারে ওআইসির প্রতিনিধিদলের সফরের পর দেশটির সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে বলে মনে করা হচ্ছিল যাতে তাদের সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে নাগরিকত্ব না দেয়ার নীতিতে অটল থাকার কথা ঘোষণা করায় তাদের সংকট আরো জটিল হয়ে পড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মিয়ানমার সরকার মুসলমানদের ব্যাপারে কিছুটা নমনীয় নীতি গ্রহণ করতে চাইলেও উগ্র বৌদ্ধদের চাপের মুখে নমনীয় হতে পারছে না বলে জানা গেছে। এমনকি উগ্র বৌদ্ধরা মিয়ানমারে ওআইসির প্রতিনিধিদলের সফরের সময়ই তাদেরকে বহিষ্কার করতে সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিল।

মিয়ানমারে নানা জাতি ও ধর্মের লোকেরা শত শত বছরে ধরে শান্তিপূর্ণভাবে পরস্পরের সঙ্গে বসবাস করে এসেছে এবং তাদের মধ্যে সম্প্রীতিও বজায় ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘবদ্ধ কিছু গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের আওতায় উগ্র বৌদ্ধদেরকে মুসলমানদের ওপর লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। এই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোই তাদের লক্ষ্য। একদল উগ্র বৌদ্ধ ও সেনা কর্মকর্তা এইসব গ্রুপের নেতা বলে জানা গেছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব ও নাগরিক অধিকারের ব্যাপারটি উপেক্ষা করে আসায় এইসব উগ্র গোষ্ঠী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর জুলুম নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। একই কারণে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী মুসলমানদের জান-মাল রক্ষা করাকে তাদের দায়িত্ব বলে মনে করে না, বরং অনেক সময় তারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হামলায় উগ্র বৌদ্ধদেরকে সহায়তা করছে।

এ অবস্থায় বিশ্ব সমাজ মিয়ানমারের লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানের ভাগ্য ও নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। আর এ জন্যই ওআইসি ও জাতিসংঘ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যাতে তাদের জান ও মাল নিরাপদ থাকে। মিয়ানমারে রাজনৈতিক সংস্কারের আওতায় সেখানকার মুসলমানদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হবে ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে বিশ্ব সমাজ আশা করছে। মিয়ানমার সরকার মুসলমানদের ওপর উগ্র বৌদ্ধদের হামলা বন্ধের ব্যবস্থা নিয়ে তাদেরকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের শিকারে পরিণত করা থেকে বিরত রাখবে বলে মুসলিম বিশ্ব আশা করছে।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন