Azizul Bashar
এই মুহূর্তে

শুক্রবার | ১৭ আগস্ট, ২০১৮ | ২ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৫ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে সমঝোতা

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে সমঝোতা

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে সমঝোতা

শেষ পর্যন্ত ইরানের পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন রাশিয়া ও জার্মানির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে তেহরান।

ইরানের পরমাণু আলোচক দলের প্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ আজ (রোববার) ভোররাতে জেনেভা আলোচনার পঞ্চম দিনের শুরুতে এ খবর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, টানা পাঁচদিনের কঠিন আলোচনার পর অবশেষে সমঝোতা অর্জিত হয়েছে এবং পাশ্চাত্য ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধ করার অধিকার মেনে নিয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে আসছে। যদিও ইরানের দাবি, কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যই তাদের এই পরমাণু প্রকল্প।গত অগাস্টে হাসান রুহানি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ শুরু করেন। এরই ফল গত মাসে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে ইরানের আলোচনা।

এই ছয় দেশকে একসঙ্গে বলা হচ্ছে ‘পি৫+১’, অর্থাৎ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য ও জার্মানি।এর আগে চলতি বছরের শুরুতে জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় এই ছয় দেশের সঙ্গে ইরানের বৈঠক হলেও তা ব্যর্থ হয়।

পশ্চিমা বিশ্বের দাবি ছিল, ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম পরিশোধনের মাত্রা ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। কারণ সেক্ষেত্রে তারা ওই ইউরেনিয়াম আর বোমা বানানোর কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। তবে ইরান এতোদিন তাদের কর্মসূচি থেকৈ পিছু হঠতে রাজি হয়নি।

২০০৬ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যারা ইরানের পরমাণু প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত, তাদের সম্পদ জব্দ এবং ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।এছাড়া তেলভিত্তিক অর্থনীতির দেশ ইরানের শক্তি এবং ব্যাংকিং খাতেও বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।এবার সমঝোতার মধ্য দিয়ে সেসব নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ তার সব পরমাণু তৎপরতা চালিয়ে যেতে পারবে। সেই সঙ্গে নাতাঞ্জ, ফোরদো ও আরাক পরমাণু স্থাপনার কাজ বর্তমান ধারায় এগিয়ে যাবে। অন্যদিকে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের ওপর আর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। পাশাপাশি বিদেশে আটকে পড়া ৪২০ কোটি ডলারের সমপরিমান অর্থ দেশে আনতে পারবে তেহরান। বার্তা সংস্থা এএফপি অবশ্য এই অর্থের পরিমান ৭০০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ক্যাথেরিন অ্যাশ্টোন ও ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরা ফ্যাবিয়াস’সহ ছয় জাতিগোষ্ঠীর পদস্থ কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কোনো কোনো সূত্র খবর দিয়েছে, মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ, ক্যাথেরিন অ্যাশ্টোন ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এ সমঝোতাপত্রে সই করার জন্য রোববার স্থানীয় সময় ভোররাতে জেনেভায় জাতিসংঘের দপ্তরে প্রবেশ করেছেন। আর কিছুক্ষণ পর এ তিন পদস্থ কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন বলে কথা রয়েছে।

এদিকে ক্যাথেরিন অ্যাশ্টোনের মুখপাত্র মাইকেল ম্যান  ইরানের পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, কয়েক দফা অত্যন্ত কঠিন ও শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনার পর এ সমঝোতা অর্জিত হয়েছে। এমন সময় জেনেভায় এ সমঝোতা অর্জিত হলো যখন কয়েক ঘন্টা আগে শনিবার মধ্যরাতে দু’পক্ষ নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য থেকে যাওয়ার কথা উল্লেখ করছিল। কিন্তু টানা আলোচনায় সেসব মতপার্থক্য নিরসন হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

এর আগে শনিবার রাতে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরমাণু আলোচক দলের সদস্য সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি জেনেভায় সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, আলোচনা সঠিক পথে এগুচ্ছে। শতকরা ৯৮ ভাগ ক্ষেত্রে সমঝোতা হয়েছে- উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, কয়েকটি ছোটখাটো বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এ ছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ ছয় জাতিগোষ্ঠীর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠকের পর বলেছিলেন, যেকোন সমঝোতায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার মেনে নিতে হবে।

জেনেভায় ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সর্বশেষ পরমাণু আলোচনা গত বুধবার শুরু হয়। টানা তিনদিন আলোচনার পর শুক্রবার রাতে জাতিসংঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্যদেশ ও জার্মানীর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অনির্ধারিত সফরে জেনেভা যেতে শুরু করেন। তাদের এ সফর থেকেই একটি সমঝোতার সম্ভাবনা সম্পর্কে আঁচ করা গিয়েছিল

 

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন