Azizul Bashar
সাফল্য

সোমবার | ২০ আগস্ট, ২০১৮ | ৫ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৮ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » জীবন যাপন » সাফল্য » বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত রুশ নাগরিক রিতার সাফল্য

বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত রুশ নাগরিক রিতার সাফল্য

বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত রুশ নাগরিক রিতার সাফল্য

বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত রুশ নাগরিক রিতা। পুরো নাম মারগারিতা মামুন। রাশিয়ার উদীয়মান রিদমিক জিমন্যাষ্টদের একজন হলেন এই রিতা।

২০১৩ সালের ওয়ার্ল্ডকাপ ফাইনাল ও কাজানের গ্রীষ্মকালিন ইউনিভার্সিয়াডে অল-অ্যারাউন্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে সবার নজড়ে চলে আসেন তিনি।

ইউক্রেনের কিয়েভে সদ্য শেষ হওয়া ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ানশীপেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন রিতা। আর রিদমিক জিমন্যাস্টিকসের ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালে গত তিন বছর ধরে টানা অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্টে চ্যাম্পিয়নশীপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

২০১৩ সালে রিতার এমন গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের কারণে তাকে নিয়ে রাশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে এখন রীতিমত হৈচৈ পড়ে গেছে। রিতাকে নিয়ে ফলাও করে নিয়মিত সংবাদ প্রচার করছে রুশ গণমাধ্যমগুলো। সম্প্রতি ইউরো স্পোর্ট নামের একটি রুশ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে উঠে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত রিতা। স্থানীয় গণমাধ্যমে রিতা এখন ‘বাংলার বাঘিনী’ নামেই বেশি পরিচিত। আর এই খেতাবটি তাকে দিয়েছেন রাশিয়ার জাতীয় রিদমিক জিমন্যাস্টিকস দলের কোচ ইরিনা ভিনের।

১৯৯৫ সালের ১ নভেম্বর মস্কোতে জন্মগ্রহণ করেন রিতা। বাবা আবদুল্লাহ আল মামুন বাংলাদেশের রাজশাহী থেকে রাশিয়া গিয়ে স্থায়ী হন। মা আন্না মামুন। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে ১৯৮৩ সালে মস্কো আসে রিতার বাবা। মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আবদুল্লাহ আল মামুনের দুই সন্তান। রিতা সবার বড়।

রিতার বয়স যখন সাত বছর তখন থেকে তিনি রিদমিক জিমন্যাস্টকস চর্চা শুরু করেন। স্কুলে ভর্তির পর জিমন্যাস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকেন তিনি। জিমন্যাস্টিকসে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা নিয়ে কঠোর অনুশীলন শুরু করেন ১১ বছর বয়স থেকে।

জুনিয়র হিসেবে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন। ২০০৫ সালে এস্তোনিয়ায় অনুষ্ঠিত মিস ভ্যালেন্টাইন কাপে রিতা জুটি বেধে ছিল কারোলিনা সিবাস্তিয়ানোভার সাথে। বাংলাদেশের হয়েও রিদমিক জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু একটা পর্যায়ে রাশিয়ার হয়েই অংশ নেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

রিতার ক্রীড়া জীবনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ২০১১ সালে। ওই বছর রাশিয়ার চ্যাম্পীয়নশীপে হুপ ও বলে অল-অ্যারাউন্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় দলে সুযোগ পান। প্রথম সিনিয়র হিসেবে ২০১১ সালে মন্ট্রিয়েল ওয়ার্ল্ড কাপে অংশ নিয়ে ১০৬.৯২৫ পয়েন্ট অর্জন করে অল-অ্যারাউন্ডে ব্রোঞ্জ পান রিতা। আর বল ফাইনালে ২৭.০২৫ পয়েন্ট নিয়ে স্বর্ণ জিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

margarita-mamun-rita-2

২০১২ সালে মস্কো গ্রান্ড প্রিক্সে রিতা অল-অ্যারাউন্ডে নবম স্থান অর্জন করেন। কিয়েভ ওয়ার্ল্ড কাপে হুপ, বল আর রিবনে ব্রোঞ্জ পান । তাশখন্দ ওয়ার্ল্ড কাপে অল-অ্যারাউন্ডে রিতা চতুর্থ স্থান পান। ২০১২ সালে দারিয়া দিমিত্রিকোভার সাথে জুটি বেঁধে জাপানে এওন কাপে স্বর্ণ জিতে নেন।

২০১৩ সালে রিতা অনেকগুলো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন। মস্কো গ্রান্ড প্রিক্সে স্বর্ণ জেতার মধ্য দিয়ে মৌমুমের শুভ সূচনা করেন। এরপর কাজানে ইউনিভার্সিয়াড, সেন্ট পিটার্সবার্গে ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল, ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ানশীপ এবং ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশীপের মত বড় ক্রীড়া ইভেন্টগুলোতে রিতা রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে নিজের দক্ষতা আবারো ফুটিয়ে তুলেন।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গত আগষ্ট মাসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশীপে রিতা প্রথমবারের মত অংশগ্রহণ করেন। রিতা ফেবারিট হিসেবে নিজেকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত করেছেন। প্রতিযোগিতার বল ও ক্লবসে স্বর্ণ এবং হুপে ব্রোঞ্জ জিতে নেন।

রুশ নাগরিক হলেও রিতার শরীরে বইছে বাঙ্গালি রক্ত। রাশিয়ার একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে অকপটেই তিনি তা বলেছেন। ছোটবেলায় বাবার সাথে অনেকবার বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছেন। এক সময়ে ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলাও বলতে পারতো রিতা।

মেয়ের ধারাবাহিক ক্রীড়ানৈপুণ্যের কারণে বাবা হিসেবে অত্যন্ত গর্ববোধ করছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। রিতার সাফল্যে অবদানের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি একজন বাঙ্গালি,তাই মেয়ের যে কোন সাফল্যকে শুরুতে একজন বাঙ্গালি হিসেবে অনুভব করি। রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে আরও ভাল করার জন্য রিতা অনেক চেষ্টা করছে। আজকের দিন পর্যন্ত যে সাফল্য এসেছে তা শুধুমাত্র রিতার নিজের প্রচেষ্টার কারণে সম্ভব হয়েছে। আমাদের পরিবারের ভালবাসা,আগ্রহ আর মেয়ের ঐকান্তিক চেষ্টাও ছিল। আর সব মিলিয়ে এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, রাশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কোন রুশ নাগরিকের এটিই প্রথম বড় সাফল্য। গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশ কমিউনিটিতে রিতার অর্জন নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। কমিউনিটির নেতা-কর্মীরা রিতার সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। মস্কোতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেককে রিতার প্রতিযোগিতার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের সাইটে প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন