Azizul Bashar
অপরাধ

শুক্রবার | ১৭ আগস্ট, ২০১৮ | ২ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৫ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » খবর » অপরাধ » বিপিএল ফিক্সিং কেলেঙ্কারির বিচার শুরু

বিপিএল ফিক্সিং কেলেঙ্কারির বিচার শুরু

বিপিএল ফিক্সিং কেলেঙ্কারির বিচার শুরু

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম; ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চলে আসার মাঝখানে বছর কয়েক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ‘সদরদপ্তর’ গুলশানের এই ভবনটায়। তখন ক্রিকেট কর্মকর্তা, ক্রিকেটার, সাংবাদিকদের নিয়মিত পদচারণায় একটা জগত্ তৈরি হয়েছিল এখানে। গতকাল আবার যেন সেই দিন ফিরে এলো!

না, বিসিবি তার অফিস বদলায়নি। সেই পরিচিত নাভানা টাওয়ারে বসেছে এবার বিসিবির দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইবুনাল। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় আসরে ঘটে যাওয়া ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির অভিযুক্তদের বিপক্ষে আজ থেকে শুনানি শুরুর ভেতর দিয়ে সেই ট্রাইবুনালের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু হয়ে যাবে। তারই আগে গতকাল এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে ট্রাইবুনালের এখতিয়ার, কাজের পরিধি ও পদ্ধতি এবং ভবিষ্যত্ সম্পর্কে ধারণা দেয়া হল। ট্রাইবুনালের দুই সদস্য আজমালুল হোসেন কিউসি এবং সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাশেমকে পাশে রেখে এসব কিছু সাংবাদিকদের জানালেন ট্রাইবুনাল চেয়ারম্যান, বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী।

জানানো হল যে, আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রাথমিক শুনানি পর্বে নিজে বা আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত থাকার জন্য প্রত্যেক অভিযুক্তকে নোটিস দেয়া হয়েছে। যদি কোনো অভিযুক্ত উপস্থিত হতে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থান করতে ব্যর্থ হন, তার অনুপস্থিতিতেই ট্রাইবুনালের কার্যক্রম চলবে বলেও জানালেন চেয়ারম্যান, ‘আগামীকাল (আজ) প্রাথমিক শুনানি শুরু হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নোটিস দেয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কতো সময় লাগবে, তা আমরা বেধে দিচ্ছি না। তবে যত দ্রুত সম্ভব এটা শেষ করা হবে।’

গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিসিবি ও আইসিসির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছিল, ৪০ দিনের মধ্যে বিপিএল ফিক্সিং কেলেঙ্কারির বিচার শুরু করবে বিসিবির গঠিত ট্রাইবুনাল। সেই সংবাদ সম্মেলনের ১০১ দিন পার করে আজ থেকে কার্যত বিচার শুরু করতে যাচ্ছে ট্রাইবুনাল। যদিও ট্রাইবুনাল চেয়ারম্যান, বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী বললেন, এই ৪০ দিন সময়সীমাটা আসলে গণনাই শুরু হবে ট্রাইবুনাল গঠনের পর থেকে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই লিখিত বক্তব্যে ট্রাইবুন্যাল চেয়ারম্যান এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনের ঘটনা তুলে ধরেন। সেখানেই বলা হয় বিপিএলের গত আসরে ম্যাচগুলোর দিকে চোখ রাখার জন্য বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে এক চুক্তি হয়। আর সেই চুক্তির ফলে আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট (আকসু) প্রতিটি ম্যাচে তদন্ত করে কমপক্ষে দুটি ম্যাচ সন্দেহজনক বলে রায় দেয়। এরপর অধিকতর তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর ভাবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের অন্যতম সেরা তারকা মোহাম্মদ আশরাফুলসহ কয়েক জন ক্রিকেটারের নাম বেরিয়ে আসে। এরপর দীর্ঘ গুঞ্জনের পর আইসিসি ও বিসিবি সংবাদ সম্মেলন করে বলে ৯ জন খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত; তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম প্রকাশ করেনি।

সেই অভিযুক্তদের বিচারের দায় পড়ে বিসিবির গঠিত ডিসিপ্লিনারি কমিটির ওপর।

বিসিবি পরপরই একটি ডিসিপ্লিনারি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলেও সেটি নানা কারণে বাস্তবে রূপ নেয়নি। অবশেষে গত ১৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ও আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রশীদকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির প্রধান হিসেবে মনোনীত করে বিসিবি। পরে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন কমিটির বাকি ১০ সদস্যকে। এরপর ১০ নভেম্বর ওই ডিসিপ্লিনারি কমিটি আবার সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে ট্রাইবুনাল গঠন করে। ট্রাইবুনালের বাকি দুই সদস্য হলেন আজমালুল হোসেন কিউসি এবং সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাশেম।

এবার সেই ট্রাইবুনাল যাত্রা শুরু করল। ট্রাইবুনালের তরফে জানানো হল এই পুরো বিচার প্রক্রিয়াটা গোপন রাখা হবে। তবে তারা এখন প্রাথমিক শুনানি করবেন। সেখানে দেশী-বিদেশী যে কোনো আইনজীবীর মাধ্যমে অথবা নিজে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তরা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারবেন। কোনো অভিযুক্ত উপস্থিত না হলে ট্রাইবুনালের কার্যক্রম তার অনুপস্থিতিতেই চলতে থাকবে। এর বাইরে এই ট্রাইবুনালকে এড়িয়ে দেশের প্রচলিত আদালতে যাওয়ার সুযোগ কোনো অভিযুক্তর নেই বলে বললেন ট্রাইবুনাল চেয়ারম্যান, ‘প্রচলিত আদালতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সারা পৃথিবীতেই এ ধরনের খেলাধুলা বা বিশেষ কোনো ব্যাপারে যে অভ্যন্তরীণ আইন থাকে, আন্তর্জাতিক চুক্তি থাকে, সেগুলোর ভিত্তিতে বিচার হয়। আর এগুলো পৃথিবীর সব জায়গাতেই মেনে নেয়া হয়।’

এসব বিষয় জানানোর পাশাপাশি কিভাবে ট্রাইবুনালের কাজ এগোবে, সে সম্পর্কেও একটা ধারণা দিলেন চেয়ারম্যান। বললেন, শুনানির প্রথম অংশেই অভিযুক্তরা কেউ যদি এই ট্রাইবুনালের গঠন ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেন, তার মীমাংসা করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কেসগুলো সাজানো হবে। তারপর সওয়াল-জবাব করার সুযোগ পাবেন উভয়পক্ষ। এরপর চূড়ান্ত শুনানির একটি তারিখ ঘোষণা করা হবে। আর সবশেষে আসবে সেই রায়ের ব্যাপার। রায় পাওয়ার পর কোনো অভিযুক্ত চাইলে ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান বরাবর আপিল করতে পারবেন। তাতেও সন্তুষ্ট না হলে আন্তর্জাতিক কোর্ট অব আরবিট্রেশনে যেতে পারবেন আপিল করতে।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন