Azizul Bashar
অর্থনীতি

শুক্রবার | ১৭ আগস্ট, ২০১৮ | ২ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৫ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » অর্থনীতি » পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে আরও কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে আরও কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে আরও কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র ও নতুন বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে আরও কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, সতর্ক বিনিয়োগে পুঁজির ঝুঁকি হ্রাস পাবে। এতে বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সিকিউরিটি এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে আর্থিক স্বাধীনতা প্রদানসহ পুঁজি বাজার পুরোপুরি ঢেলে সাজাবার পদক্ষেপ নিয়েছে।
‘অস্থিতিশীল পুঁজি বাজারে সচেতনতা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি হ্রাস করবে’ উল্লেখ করে তিনি ক্ষুদ্র ও নতুন বিনিয়োগকারীদের স্বর্থ রক্ষায় তাদের সচেতনতা বাড়াতে আরও কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা আজ রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ভাষণকালে এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এসইসি চেযারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র ও নতুন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় একটি বিশেষ স্কীম বাস্তবায়ন করছে। তাদেরকে কর অব্যাহতির সুবিধা দেয়া হয়েছে এবং নতুন আইপি ইস্যু করার সময় তাদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ফান্ড নামে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি ওপেন-এন্ডেড মিউচ্যুয়েল ফান্ড গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল কোম্পানীর শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, কোম্পানীর ডিভিডেন্ড ও বোনাস শেয়ার অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের তা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ১০ বছরের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বায়ন ব্যবস্থায় পুঁজিবাজারের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশেও পুঁজিবাজারের অবদান বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কমিশনকে পুনর্গঠন, একে আর্থিক স্বাধীনতা প্রদান এবং এর কারিগরি অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)’র লেনদেন স্বচ্ছ ও জবাবদিহি করতে ডিমিচ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে এর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে লেনদেন পৃথক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এলক্ষে এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সার্ভিল্যান্স সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এসব পদক্ষেপের ফলে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। বিশ্ব অঙ্গনে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দ্রুত বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিগত প্রায় পাঁচ বছর তাঁর সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিশীল রয়েছে এবং এর প্রতিটি সূচক ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত পাঁচ বছর ধরে গড়ে ৬ শতাংশের বেশী বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেশের রফতানি আয় ১৫ শ’ কোটি ডলার থেকে চলতি অর্থবছর শেষে ৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বরে তিনি দৃড আস্থা ব্যক্ত করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও সরকার পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধি বাধাহীন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, এতে রেমিটেন্স প্রাপ্তি বেড়েছে এবং রিজার্ভ ১৭ শ’ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৫-বছরে সরকারী ও বেসরকারী খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি সরকার আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। মাথাপিছু আয় ৫ বছর আগের ৬৩০ ডলার থেকে ১,০৪৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
বার্ষিক বাজেট প্রায় ৮৯ হাজার কোটি টাকা থেকে চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারী খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী বিনিয়োগও বেড়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পরিবহন খাতসহ অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
বিগত পাঁচ বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা আগামী দিনেও বজায় রাখা জরুরি।
‘দেশের জনগণ উন্নয়নের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে’ বলে দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেই কেবল বাধাহীন উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

সূত্র: বাসস

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন