Azizul Bashar
অর্থনীতি

সোমবার | ২০ আগস্ট, ২০১৮ | ৫ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৮ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » অর্থনীতি » টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর আজ

টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর আজ

টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর আজ

আলোচনা-সমালোচনা শেষে বহুবাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার রূপরেখা (টিকফা) চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে। আজ এ চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার একটি মঞ্চ তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এ চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক আধিপত্য হিসাবে দেখছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে চুক্তি স্বাক্ষরের পর সেখানে টিকফার প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ দুটি দাবি উপস্থাপন করবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্থগিত জিএসপি প্রত্যাহার এবং তৈরি পোশাককে জিএসপির সুবিধা প্রদান।

জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চুক্তিতে তাদের বাণিজ্য দপ্তর ইউএসটিআরের উপ-পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

জানা গেছে, টিকফা চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের টানাপোড়ন চলছিল। সর্বশেষ ওবামা প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে দেয়। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ধারণা টিকফা চুক্তি হলেই জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া সম্ভব। বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একথা জানিয়ে অফিসিয়াল চিঠি দিয়েছিলেন। বিষয়টি অনুধাবন করে ১৭ জুন মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে টিকফা স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

জানা গেছে, ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের আগ্রহ দেখিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট (টিকফা) প্রস্তাব আসে। ২০০৩-০৫ এই সময়ে তিন দফা নেগোসিয়েশন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় একটি খসড়া সংশোধন প্রেরণ করে। ২০১০ সালে এটি সংশোধন করে বাংলাদেশ প্রেরণ করে ইউএসএর কাছে। তবে টিকফা চুক্তির মধ্যে শ্রম অধিকার বাস্তবায়নে ডব্লিউটিওর বিধি-বিধান মেনে চলা, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও ঘুষ, দুর্নীতির বিষয়ে জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন অনুসরণ করা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। ওই তিন বিষয়ে সমঝোতায় পৌছাতে এবং বাংলাদেশের অবস্থান চূড়ান্তকরণে ২০১২ সালে কোর কমিটি গঠন করা হয়। কোর কমিটি পরবর্তিতে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের চুক্তির খসড়ায় এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে। পরে এটি নিষ্পত্তি হলে মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে স্বাক্ষরের জন্য চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়।

টিকফা চুক্তিতে যা আছে : চুক্তিতে ১৬টি অনুচ্ছেদ ও ৭টি আর্টিকেল রয়েছে। অনুচ্ছেদগুলোতে বলা হয়, উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পসারিত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হবে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারে উম্মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন অনুযায়ী স্বচ্ছতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে, শুল্ক বহির্ভূত প্রতিবন্ধকতা হ্রাস করা, স্ব স্ব শ্রম আইন কার্যকর করা, এক পক্ষ অন্য পক্ষের ভূখন্ডের শিল্পোদ্যোগ এবং অন্যান্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগকে উৎসাহিত ও ত্বরান্বিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অশুল্কের চেয়ে শুল্ক বাধাই বেশি। অন্যদিকে মেধাস্বত্ব আইন বাস্তবায়ন করতে গেলে বাংলাদেশই অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মত তাদের। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, মেধাস্বত্ব আইন বা ট্রেড রিলেটেড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ চুক্তির মধ্যদিয়ে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাকেও অযৌক্তিক বলে মনে করছেন তিনি।

অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, বাণিজ্য সমপ্রসারণের সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক শুল্ক ব্যবস্থা। জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার কথা বলে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর করা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়, বাণিজ্য সমপ্রসারণেও তার কোনো ভূমিকা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তাদের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বি-মত পোষণ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের। তিনি বলেছেন, টিকফা চুক্তি হওয়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জিএসপি সুবিধা নিয়ে অফিসিয়ালি আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কিছুই চুক্তিপত্রে নেই এবং রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ এতে জড়িত নয়।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন