Azizul Bashar
এই মুহূর্তে

শুক্রবার | ১৭ আগস্ট, ২০১৮ | ২ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৫ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » সারাদেশে সংঘর্ষ ও ভাংচুর চলছে

সারাদেশে সংঘর্ষ ও ভাংচুর চলছে

সারাদেশে সংঘর্ষ ও ভাংচুর চলছে

দশম জাতীয় নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখান করে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ চলছে। সোমবার রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমদের তফসিল ঘোষণার পরপরই এ বিক্ষোভ শুরু হয়।

তফসিল ঘোষণার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি গাড়িতে আগুন দেয়।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানা যায়, রাত ৮টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর তিনটি ককটেল ছোড়া হয়। এ সময়  এর একটি ককটেল দেশ টিভির গাড়ি চালকের ডান হাতে লাগে। এ সময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ককটেল নিক্ষেপকারীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।

এর আগে মহাখালীতে ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন বাংলা নিউজের ফটো সাংবাদিক। যাত্রাবাড়ীতে একটি ট্রাকে, বাংলাবাজারে লেগুনায়, মহাখালী ও আব্দুল্লাপুরে বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফার্মগেট খামারবাড়ির পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে পার্কিং করে রাখা পুলিশবাহী একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো চ ০৮-০০০১) আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। রাত ৯টার দিকে রামপুরায় দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

একই সময় পল্টন ইউবিএল ক্রসিংয়ে ২টি ককটেল, বংশাল মোড়ে ৩টি ও নর্থ সাউথ রোডে ৩টি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ফকিরাপুল পানির ট্যাঙ্কি সংলগ্ন ওয়াসার পানির ট্যাঙ্কিতে প্রেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়া হয়েছে।

খিলগাঁওয়েও পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল ছোঁড়া হয়েছে। সদরঘাট ও যাত্রাবাড়ীতে গাড়ি ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।কলাবাগানে গ্রীন রোডস্থ স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে ৪টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

কলাবাগান লাজ ফার্মার সামনে রাত ১০ টার দিকে পর পর চারটি ককটেল বিস্ফোরন  ঘটায় দুর্বৃত্তরা।

রাজধানী জুড়ে বিজিবির পাশাপাশি টহল পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার টিম ও তৎপর রয়েছে।

সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

সিলেট : সোমবার রাত সাড়ে ৭টায় সিইসি’র ভাষণ শুরু হওয়ার পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করে রাজপথে নেমে এসেছেন বিরোধীজোটের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি, জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।

রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে নগরীর জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, লামাবাজার, নাইওরপুল,শাহী ঈদগাহ, বন্দরবাজারসহ অন্তত ৪০টি পয়েন্টে ব্যাপক গাড়ি ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে নেতাকর্মীরা। ফলে চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নগরীর সবক’টি শপিংমল, বিপনী বিতান বন্ধ হয়ে যায়।

পরে রাত সোয়া ৮টায় নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে মিছিল বের করে ১৮ দলীয় জোট। মিছিলটি জিন্দাবাজারে এলে শুরু হয় ককটেলের বিস্ফোরণ। নেতাকর্মীরা দোকানপাট ও যানবাহন ভাঙচুর করতে করতে মিরবঙটুলা পর্যন্ত যান। এ সময় অন্তত ৮০টি দোকানপাটে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় অর্ধশতাধিক রিকশা।

এদিকে রাত ৮টার দিকে সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীর উত্তরপাড়স্থ জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে আগুন দেয় বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

রাজশাহী : টেলিভিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পর পরই রাজশাহীর বিভিন্নস্থানে হামলা, ভাঙচুর ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে।  রাত ৮টার দিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে নগরীর মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছে।

এছাড়া নগরীর কাটাখালি এলাকায় ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি কোচে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এনিয়ে নগরীর সাহেব বাজার, মালোপাড়া ও গনকপাড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি-জামাতের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা শুরু হয়।

এর আগে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন অফিসে ৫/৬টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটনো হয়। রাত সোয়া ৮টার দিকে বিএনপি নেতাকার্মীরা ঘোষিত তফসিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ এসে বাধা দিলে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যায় নগরীর সাহেব বাজার, মালোপাড়া, গনকপাড়াসহ আশেপাশের সকল দোকান পাট। বিকট শব্দে বোমা আর ককটেলের বিস্ফোরণে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই নগরীর মালোপাড়াস্থ মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জমায়েত শুরু করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তফসিল ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে নগরীর মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় পুলিশ প্রতিরোধে এগিয়ে আসলে মালোপাড়া এলাকায় পুলিশের বিএনপি-জামায়াতের ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে পুলিশের দুই সদস্যসহ আন্তত ৫০ জন আহত  হয়েছে। পরে বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা এসে রাবার বুলেট, টিয়ারসেল ও ফাকা গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনার পর থেকে পুরো নগরী জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় চত্বরে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনের জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষণ চলাকালে পৌনে ৮টার দিকে এ বোমা হামলা চালানো হয়।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী নির্বাচন অফিসের সামনে দাড়িয়ে ৫/৬টি হাত নিক্ষেপ করে। বোমাগুলো নির্বাচন কার্যালয় চত্বরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

নগরীর রাজপাড়া থানাও ওসি এবিএম রেজাউল করীম বলেন, বিস্ফোরিত বোমাগুলোর আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি জিডি করা হবে। নির্বাচন অফিসের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে ওসি রেজাউল বলেন।

চট্টগ্রাম : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম-কঙবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার কেরাণীহাট এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর ও অবরোধ করেছে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। এতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন রেখে তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।

তফসিল ঘোষণার পর রাত ৮টার দিকে আকস্মিকভাবে শিবিরের কয়েকশ’ নেতাকর্মী কেরাণীহাট এলাকায় মিছিল বের করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শিবিরের নেতা-কর্মীরা মিছিল থেকে কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। এতে আতঙ্কে ওই এলাকা দিয়ে যানবাহন চলাচল কমে গেছে। যানবাহন ভাঙচুরের পর মহাসড়ক ফাঁকা হয়ে গেলে শিবিরের নেতাকর্মীরা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে।

খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানা এবং হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

খুলনা : নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার দৌলতপুর ও ফুলবাড়িগেটসহ বিভিন্ন স্থানে ৩০টির অধিক গাড়ি ভাঙচুর ও ২০টির মতো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ১৮ দলের ঝটিকা মিছিল থেকে এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ১৮ দলের বের করা ঝটিকা মিছিল থেকে দৌলতপুর বাসস্টান্ডে ১৫টি অটোরিকশা ও বেবিটেঙি, দুইটি বাস, একটি ট্রাক, একটি পিকআপ এবং ফুলবাড়ি গেটে দুইটি বাস ও দুইটি ট্রাক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব জায়গায় ১০টিরও বেশি ককটেল ফাটানো হয়। এছাড়া নগরীর সদর থানার বিভিন্ন পয়েটে ১০টিরও বেশি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহ : সর্বদলীয় সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ.এম.এরশাদের পত্নী বেগম রওশন এরশাদের বাসা ও জেলা জাতীয় পার্টির অফিসের সামনের রাস্তায় দু’টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শহরের ফায়ার সার্ভিস রোডস্থ বেগম রওশন এরশাদের সুন্দর মহলের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম জানান, ‘সামনের সড়কে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এ সময় আমাদের অফিসে দলীয় নেতা-কর্মীরা ছিলেন না।’

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান আরজু জানান, ম্যাডামের বাসা ও দলীয় অফিস থেকে প্রায় একশ গজ দূরে রাস্তায় এ বিস্ফোরণ ঘটে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘কে বা কারা মোটর সাইকেল যোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর বাসার সামনের সড়কে ককটেল ছুঁড়ে পালিয়ে গেছে।

মেহেরপুর : নির্বাচনী তফশিল বাতিলের দাবিতে মেহেরপুরের ৩টি স্থানে তাৎক্ষণিক সড়ক অবরোধ করে ১৮ দলীয় নেতাকর্মীরা। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের বারাদি, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের ওয়াপদা মোড় ও মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের দারিয়াপুর কালিতলা মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য সড়ক অবরোধ করা হয়।

এসময় মেহেরপুর-মুজিববনগর গামী এস.এম পরিবহনের একটি বাসের গ্লাস ভাংচুর করে অবরোধকারীর। র‌্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনটি স্থানের অবরোধকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দায়িরাপুর কালিতলার মোড়ে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে রাত সাড়ে নয়টার দিকে গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিস এলাকায় বিকট শব্দে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি গাংনী থানা পুলিশ। সন্ধ্যা থেকেই জেলার বিভিন্ন সড়কসহ গুরুত্বপুর্ণ স্থানগুলোতে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ শহরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে ১০ পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় পুলিশভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স, ম্যাঙি, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা (টমটম), জেলা শিক্ষা অফিস, পূবালী ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন দোকানপাট ভাংচুর করা হয়। পুলিশ যুবদল ও ছাত্রদলের ৫ কর্মীকে আটক করেছে।

সোমবার রাত ৮টা থেকে সোয়া ৯টা পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কের ৪টি স্পটে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পর রাত ৮টা ৫ মিনিট থেকে শহরের প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল বের করে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ সময় পুলিশ বাধা দিলে শহরের প্রধান সড়কের তিনকোনা পুকুরপাড়, মুসলিম কোয়ার্টার, রাজনগর ও শায়েস্তানগর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে টেটা, ইট-পাটকেল, বোতল বোমা (পেট্টোল বোমা) ও ককটেল নিক্ষেপ করে।

অপরদিকে পুলিশ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে শতাধিক রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষে হবিগঞ্জ সদর থানার  ওসি (তদন্ত) দেওয়ান নুরুল ইসলাম, সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক সুরুজ আলী ও এক মহিলা কনস্টেবলসহ ১০ পুলিশ এবং বিএনপির অন্তত ৫০ নেতাকর্মী আহত হয়।

এদিকে, পুলিশ সংঘর্ষস্থল থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শহরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। যে কোনো সময় আবারও সংঘর্ষের আশংকা করছেন শহরবাসী।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার জানান- সংঘর্ষ বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফের সংঘর্ষের আশংকায় শহরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শিবতলা এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রাজশাহী সেক্টর কমাণ্ডারের গাড়ি বহরের হামলা চালিয়েছে শিবিরকর্মীরা। এসময় এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুরুল আলম জানান, রাত সোয়া আটটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়কের শিবতলা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। সোনামসজিদ থেকে আসা গাড়ি বহর লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়।

এতে দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ককটেলের আঘাতে আহত হয়েছেন আসাদ নামে এক বিজিবি সদস্য। হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে বিজিবি।

দিনাজপুর : রাতে সিইসি জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেয়ার সময় দিনাজপুরে  ১৮ দলের উদ্যাগে একটি  বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল থেকে তফসিলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এ সময় হাসপাতাল মোড়ে ৪টি মোটর সাইকেল ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। একটি ককটেল এর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। শহরময় আতংক ছড়িয়ে পড়ে, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক একজনকে আটক করেছে।

চাঁদপুর : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। তফসিল ঘোষণার পরপরই রাত ৮টায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জেলার হাজীগঞ্জে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

এদিকে তফসিল ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের হাজীগঞ্জ বাজারের একপাশে বিএনপি নেতাকর্মী ও অপর পাশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মারমুখী অবস্থান নিয়ে আছে। আর এর মাঝখানে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের দু’পাশে বিপুলসংখ্যক যানবাহন আটকা পড়ে আছে।

বগুড়া : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পর বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, বগুড়া-রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ১৮ দল। পুলিশ গুলি, লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়েছে।

সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় এ ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। শহরে বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছে।

তফসিল ঘোষণার পর রাত ৮টায় জেলা বিএনপি অফিস থেকে ভিপি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে বগুড়া জেলা ১৮ দলের নেতাকর্মীরা বিরাট বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের সাতমাথা হয়ে থানা রোড হয়ে থানার পাশে পৌঁছলে হঠাৎ করে ৫-৬টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জ করে।  এ সময় তিনজন গুলিবিদ্ধ সহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।

একই সময় জামায়াতের একটি বিক্ষোভ মিছিল সাতমাথা পার হয়ে পার্ক রোড ধরে চলে যায়। এ সময় ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। তখন পুলিশ ২৫-৩০ রাউন্ড গুলি করে। একই সময়ে বগুড়া শহরের মাটিডালি এলাকায় বিএনপিসহ ১৮ দলের নেতাকর্মীরা বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা অসংখ্য গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

হাজার হাজার মানুষ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। শাজাহানপুর উপজেলার ফটকি ব্রিজ এলাকায় দুটি গাড়িতে আগুন, ৭-৮ সিএনজি অটোরিকশা ও ৫-৬টি বাস এর গ্লাস ভাঙচুর করে।

শেরপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসে পেট্রল বোমা ও ককটেল হামলা হয়েছে। ১৮ দলের নেতাকর্মীরা ধুনট মোড়ে ৫-৬টি গাড়ি ভাঙচুর করে রাস্তা অবরোধ করে।

সহকারী পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান জানান, ৪টি ককটেল, চাকু, তেলের জারকিনসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কতটি রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয়েছে তার হিসেব চলছে।

পিরোজপুর : তফসিল ঘোষণার সাথে সাথেই পিরোজপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ১৮ দল। রাত  ৭টা ৫০ এর দিকে বিএনপি দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে বড় মসজিদ মোড়ে এলে পুলিশ বাধা দেয়।

এ সময় কর্মীরা পুরাতন কাপড়িয়া পট্টি  দিয়ে আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। এতে ৯ বিএনপি কর্মী আহত হয়। এরপর বিএনপি কর্মীরা পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩২ রাউন্ড সর্ট গানের গুলি ও ১০ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে।

শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বাগেরহাট : নির্বাচন কমিশন ঘোষিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিপক্ষে বাগেরহাটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৮ দলের উদ্যেগে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শেষে পুরাতন বাজার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

চুয়াডাঙ্গা : তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় জেলা বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল করেছে। রাত সাড়ে আটটায় জেলা বিএনপি’র কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে শহরে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল এবং ইউনাইটেড লিজিং কোম্পানির কার্যালয়ের কাঁচ ভাঙচুর ও একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : শহরের রেলগেইটে তিনটি যানবাহনে আগুন দেয় ১৮ দলের নেতাকর্মীরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষণ শেষ হবার পরপরই ১৮ দলের নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ করতে থাকে।

শহরের কালিবাড়ি মোড়ে, রেলগেইট, টিএ রোড, কুমারশীলের মোড়, ফুলবাড়িয়া, পীরবাড়ির মোড়ে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। এ সময় তিনটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় বেশ কয়েক রাউন্ড টিআর শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ  পুলিশ।

এছাড়া কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিরাসারে অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। পুরো শহরে থেমে থেমে ককটেল বিস্ফোরণ করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান জানান, পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মাদারীপুর : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাদারীপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে পৌর অফিসের সামনে সড়কে অগ্নি-সংযোগ ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

ভোলা : নির্বাচন কমিশনারের তফসিল ঘোষণার পরপরই ভোলায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। সবার একটাই সংশয় কখন জানি কি হয়। তাই শহরে থাকা দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে। এমনকি শহরের দোকান-পাটকগুলোও অন্যান্য দিনের চেয়ে দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৯টা পর্যন্ত এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শহরে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

তবে নাশকতা এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ফেনী : তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে ফেনীতে ১০টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও ট্রাকে আগুন দিয়ে তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নাটোর : হরিষপুরে মহাসড়ক অবরোধ করেছে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা । এসময়  ৫ টি গাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধরা।

পাবনা : পাবনায় আওয়ামীলীগ-বিএনপি ও পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্ত:ত ১০ জন।

কক্সবাজার: জেলার বাজারঘাটায় জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৫ জন।

মাগুরা : তফসিল প্রত্যাখান করে সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন