Azizul Bashar
এই মুহূর্তে

সোমবার | ২০ আগস্ট, ২০১৮ | ৫ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৮ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » চট্টগ্রামে অগ্নিসংযোগ ২ যাত্রী অগ্নিদগ্ধ, আটক -৩০

চট্টগ্রামে অগ্নিসংযোগ ২ যাত্রী অগ্নিদগ্ধ, আটক -৩০

চট্টগ্রামে অগ্নিসংযোগ ২ যাত্রী অগ্নিদগ্ধ, আটক -৩০

১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচির ২য় দিনের শুরুতেই সহিংস হয়ে উঠেছে অবরোধকারীরা। সকাল থেকে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের কাজীর দেউড়ি মোড়ে একটি সিএনজি টেক্সিতে আগুন দিলে এতে আব্দুল হালিম ও মোরশেদ নামে নামে ২ যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হন। তাদের চমেক হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে সকাল ৯টার সময় ওয়াসার মোড়ে একটি বাসে আগুন দেয়া হয়। সকাল সাড়ে ৮টার সময় মিছিল নিয়ে নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে অবরোধকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে।

হরতালের সমর্থনে সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কাজীর দেউড়িতে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষে ২ জন গুলিবিদ্ধ হন। ফয়সাল ও রফিক নামের এই ২ বিএনপি কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩০ জনকে আটক করেছে।

এছাড়া নগরের প্রতিটি প্রবেশপথে অবরোধ করে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ১৮ দল।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশীদ হাজারী বলেন, ‘অবরোধকারীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে নাশকতার চেষ্টা করছে। এতে করে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটে। কয়েকটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী) মীর্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, কাজীর দেউড়িতে একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা। এতে এক যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। ভিআইপি টাওয়ারে অভিযান চালিয়ে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান চলছে।

এছাড়া নগরের ১৬ থানা ও জেলার ১৪ উপজেলায় কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর খবর পাওয়া যায়নি। নগরীর এ কে খান মোড়ে, কাজীর দেউড়ি, বড়পোল, বহদ্দার হাট মোড়সহ মোট ১৫ পয়েন্টে ভোর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পুলিশ জানায়, জামায়াতের হরতালকে কেন্দ্র করে নগর ও জেলায় নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নগরে মোতায়েন করা হয়েছে ২ হাজার ৫শ’র‌্যাব-পুলিশ। সম পরিমাণ ফোর্স মোতায়েন রয়েছে জেলার ১৪ উপজেলায়। তবে এর মধ্যে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ে  অতিরিক্তভাবে মোতায়ন করা হয়েছে সাত তাধিক ফোর্স। এর পাশাপাশি নগরের ৬ প্ল্যাটুন ও জেলায় ১০ প্ল্যাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হওয়া সীতাকুণ্ডে কোনো ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।  তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোনো ধরনের যান চলাচল করছে না।  সেখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। জেলার অন্য উপজেলাগুলোতেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

চট্টগ্রামের জেলা পুলিশ সুপার এম  হাফিজ আক্তার বলেন, জেলার স্পর্শকাতর উপজেলাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ১৪ উপজেলায় ২ হাজার ৫শ ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি ১০ প্ল্যাটুন বিজিবি কাজ করছে। হরতালে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন