Azizul Bashar
এই মুহূর্তে

সোমবার | ২০ আগস্ট, ২০১৮ | ৫ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৮ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » এরশাদ বিশ্বাসঘাতকতার রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন: কাজী জাফর

এরশাদ বিশ্বাসঘাতকতার রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন: কাজী জাফর

এরশাদ বিশ্বাসঘাতকতার রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন: কাজী জাফর

মুজিবুর রহমান যুক্তিবাদীর পর জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদও এবার দল ছাড়ার ঘোষণা দিলেন।

গতকাল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এরশাদের সঙ্গ ছাড়ার কথা জানান। কাজী জাফর বলেন, “এই মুহূর্তে থেকে আমি আর এরশাদের জাতীয় পার্টিতে নেই। সত্যিকারের জাতীয় পার্টিতে আছি”।

এরশাদকে ‘জাতীয় বেঈমান’ আখ্যা দিয়ে কাজী জাফর বলেন, ‘এরশাদ রাতারাতি থুতু ফেলে আবার সেই থুতু চেটে তুলবেন- এটা আমার কল্পনাতেও ছিল না। তিনি (এরশাদ) বলেছিলেন, আমি দালাল হয়ে মরতে চাই না, একদলীয় নির্বাচনে গেলে জনগণ আমাকের থুতু দেবে, এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে গিয়ে বেহেশতেও যেতে চাই না, কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে যাবো; কিন্তু একদলীয় নির্বাচনে যাবো না। এরশাদ তার কথা রাখেননি। হঠাৎ শুনলাম, সাতজন মন্ত্রী নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দিচ্ছেন এরশাদ। এ ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের ইতিহাস আমি শত বছরের রাজনীতিতে দেখিনি।’

কাজী জাফর বলেন, আমাদের প্রেসিডিয়াম সভায় সর্বসম্মত সিদ্বান্ত ছিল জাতীয় পার্টি মহাজোটে থাকবে না ও সবার অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস এরশাদ ঠিকই মহাজোট ছাড়লেন, তবে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন যাওয়ার জন্য নয় গৃহপালিত বিরোধীদল হওয়ার জন্য।

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ‘চিকিৎসাধীন’ অবস্থায় শনিবার এক বিবৃতিতে কাজী জাফর বলেন, “জাতীয় পার্টির অধিকাংশ নেতৃবৃন্দকে অবহিত না করে দলের সর্বোচ্চ ফোরাম প্রেসিডিয়ামকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পার্টির গৃহীত পূর্বাপর অবস্থানের বিপরীতে এমন একটি সিদ্ধান্ত এরশাদ নিয়েছেন যা জাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।”

জাপা চেয়ারম্যানের এই সিদ্ধান্তের জন্য পার্টির মধ্যে থাকা সরকারের অনুগত নেতৃবৃন্দকে দায়ী করে এদের বিরুদ্ধে পার্টির তৃণমূল পর্যায়ের সব নেতা-কর্মীকে প্রতিবাদী অবস্থান গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

কাজী জাফরের এই বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে এরশাদ বলেন, “বিবৃতিটি কাজী জাফরের কি না, সে নিয়ে তাঁর সন্দেহ আছে। যদি বিবৃতিটি তাঁর হয়েও থাকে, তিনি অভিমান করে বলেছেন। কাজী জাফরের সঙ্গে তিনি বহুকাল কাটিয়েছেন। তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যের মতো।” কিন্তু এরশাদের ওই দাবিকে ভুল প্রমাণ করে কাজী জাফর আজ আবারো তার অবস্থান স্পষ্ট করলেন। সেইসঙ্গে তিনি জানালেন শিগগিরি কাউন্সিলরদের ডেকে এরশাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে, আজ দুপুর পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলন করে এরশাদের সঙ্গ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মাওলানা মুজিবুর রহমান যুক্তিবাদী।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ওই সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ সম্পর্কে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “এরশাদ স্বঘোষিত জাতীয় বেঈমান, বিশ্বাসঘাতক এবং আওয়ামী লীগের গৃহপালিত দালাল। এরশাদ এখনো বেঈমান পার্টির চেয়ারম্যান। এই বিশ্ব বেহায়ার সাথে আজ থেকে আমি আর নেই।”

তিনি বলেন, “এরশাদ কতিপয় দালালদের নিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েছেন। জাতীয় পার্টি থেকে আরো অনেক সদস্য পদত্যাগ করবে। দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। এই বেঈমানের সাথে আরো অনেকেই থাকতে চাচ্ছে না।”

যুক্তিবাদী অভিযোগ করেন, “বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগ বলেছিল ক্ষমতায় গেলে দেশের আলেম-ওলামা ও পীর মাশায়েখদের বিরুদ্ধে তারা নিন্দনীয় কিছু করবে না। ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করবে না। তাদের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে আমরা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে মহাজোটে যোগদান করি। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।”

এরশাদের স্ববিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করে মাওলানা যুক্তিবাদী আরো বলেন, “এরশাদ একবার বলেন নির্বাচনে গেলে জনগণ তাকে থুতু দেবে আবার বলেন, নির্বাচনে না গেলে তাকে বেঈমান বলবে। তিনি সকালে বলেন আওয়ামী লীগের সাথে বেহেশতে যেতেও রাজী নয় আবার বিকেলেই তাদের সাথে মিলে যান। আসলে তার কথার কোন ঠিক নেই।”

মুজিবুর রহমান যুক্তিবাদী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যখন দেশের মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়, ঠিক তখনি হাসিনা এরশাদকে নিয়ে জঘন্য খেলায় মেতে উঠেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এরশাদ আজ হেফাজত তো কাল আটরশি, পরশু চরমোনাই বা মানিকগঞ্জের পীরের পা চাটেন। তাই এমন বেঈমানের দল ছেড়ে দিলাম। এরশাদ আলেম-উলামাদের ধোঁকা দিয়েছেন।’

এ সময় যুক্তিবাদী জাতীয় পার্টিকে ‘জাতীয় বেঈমান পার্টি’ বলেও মন্তব্য করেন মাওলানা যুক্তিবাদী।

সূত্রঃ রেডিও তেহরান

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন