এই মুহূর্তে

মঙ্গলবার | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৫ | ১৪ মহররম, ১৪৪০

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » অবরোধ ডেকে নেতারা ঘরে আর কর্মীরা মাঠে

অবরোধ ডেকে নেতারা ঘরে আর কর্মীরা মাঠে

অবরোধ ডেকে নেতারা ঘরে আর কর্মীরা মাঠে

নির্দলীয় সরকারের দাবিতে উত্তাল সারা দেশ। টানা ৩ দিন অবরোধের দ্বিতীয় দিনে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় বিএনপি।

তৃণমূলের মতো রাজধানীতেও নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিরোধীদলের আন্দোলন বেগবান করতে দলের আট শীর্ষ নেতাকে মাঠে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চেয়ারপারসনের মনোনীত বিএনপির শীর্ষ এ আট নেতা হলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু ও ঢাকার সাবেক এমপি সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তাদের প্রত্যেককে ‘এলাকা’ও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়। এ শীর্ষ নেতাদের অন্যতম আ স ম হান্নান শাহ সোমবার রাতে গ্রেফতার হলেও বাকিদের মাঠে দেখা যায়নি।

 দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন অবস্থান নিয়ে সমন্বয় সাধন ও সর্বশেষ পরিস্থিতি সংবাদ মাধ্যমকে নিয়মিত ব্রিফিং করে চলেছেন।

তবে অবরোধের প্রথম দিন মঙ্গলবার সকালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান নেতাকর্মীদের নিয়ে সাভারের আমিন বাজারে অবস্থান নেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করেন তিনি। পরে পুলিশ আকস্মিক গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়লে অর্ধশতাধিক আহত ও ১৬ জন আটক হয়।

অন্যদিকে বরাবরের মতো এ অবরোধেও দেখা যায়নি ঢাকা মহানগর বিএনপির দুই অভিভাবক সাদেক হোসেন খোকা ও আবদুস সালামকে।

অবরোধ চলাকালে গত ২ দিনে সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের ১০ জন কর্মী আত্মাহুতি দিয়েছেন। এরা হলেন কুমিল্লার লাকসামে বিএনপি কর্মী বাবুল মিয়া, বগুড়ায় বিএনপি নেতা ইউসুফ, সিরাজগঞ্জে আবদুল জলিল ও মাসুম বিল্লাহসহ তিনজন, ফেনীতে দুলাল মিয়া, সাতক্ষীরায় জামায়াত কর্মী শামসুর রহমান, চট্টগ্রামে এরশাদ আলী এবং বরিশালের গৌরনদীতে দুই জন ।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে আন্দোলনের উত্তাপ ছড়ালেও পিছিয়ে আছে সিলেট ও রংপুর বিভাগ।

রাজশাহীতে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সহ ১০ জন।

চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মীর নাসির, ডা. শাহাদাত হোসেন, গোলাম আকবর খন্দকার, শামসুল আলমের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে ।

খুলনায় অবরোধ চলাকালে মেয়র মনিরুজ্জমান মনি, নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ প্রায় শতাধিক আহত হয়েছেন।

বরিশালে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন মজিবুর রহমান সারওয়ার এমপি, মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ এমপি, আহসান হাবিব কামাল, বিলকিস জাহান শিরীন প্রমুখ।

আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে ‘কৌশলে’র অজুহাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের আড়ালে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তৃণমূল নেতাকর্মীরা। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রাণপণ উজাড় করে মাঠ ধরে রেখেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের দিকে খুব একটা নজর নেই। তাদের বিশ্বাস এ সংগ্রামে তাদের জয় অবধারিত।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন