এই মুহূর্তে

মঙ্গলবার | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৫ | ১৪ মহররম, ১৪৪০

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » সোনাগাজীর মুহুরী প্রজেক্টে বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হতে যাচ্ছে

সোনাগাজীর মুহুরী প্রজেক্টে বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হতে যাচ্ছে

সোনাগাজীর মুহুরী প্রজেক্টে বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হতে যাচ্ছে

সোনাগাজীর মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করার আগেই বিকল হয়ে গেলেও গত ৮ বছর ধরে এটিকে নতুন করে সচল করার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সম্পতি পরিত্যক্ত এই কেন্দ্রটি আবার নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে মেরামতের কাজ চলছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মেরামত শেষে এ বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুনরায় চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সাধারনের নাগালের বাইরে রাখার জন্য ও মালামাল রক্ষনাবেক্ষনের জন্যে কোন সীমানা প্রাচীর বা অন্য কোন প্রতিন্ধকতাও ছিল না। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে এবং কোন সীমানা প্রাচীর না থাকায় ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ টাওয়ারের দুই পাশে ব্যক্তি উদ্যোগে বড় বড় দুটি পুকুরও খনন করে মাছের চাষ চলছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিদর্শনকালে দেখা যায়, প্যান এশিয়া নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই কেন্দ্রের মেরামত শুরু করেছে। ঠিকাদারের পক্ষে মো. ইকবাল হোসেন নামে একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আগামী কিছু দিনের মধ্যে মেরামত শেষে উৎপাদন শুরু হবে। প্রতিটি টাওয়ারের পাশে একটি করে কন্ট্রোল রুম এবং দেখাশোনার জন্য কর্মচারীদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। টাওয়ারের রং করা হয়েছে। সাব ষ্টেশানের ট্রান্সফরমারগুলো মেরামতের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নতুন করে মেরামতের জন্য কি পরিমান অর্থ বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে তা তিনি বলতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্র জানায়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নযন বোর্ড (পিডিবি) ২০০৪-০৫ অর্থ বছরে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি ২২৫ কিঃওঃ ক্ষমতা সম্পন্ন দেশের প্রথম বায়ু শক্তি চালিত বিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। প্রকল্পের স্থান নির্বাচন করা হয় সোনাগাজী উপজেলার ফেনী নদীর ওপর নির্মিত ফেনী রেগুলেটরের (মুহুরী সেচ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত) প্রায় ৫০০ গজ দূরে থাক খোয়াজের লামছি গ্রামে। প্রকল্প এলাকার পাশ দিয়ে ফেনী নদী বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। দক্ষিণে বিস্তীর্ন মাঠ এবং বন বিভাগের সবুজ বেষ্টনী। ২০০৪ ইং ভারতের নেভ্যুলা টেকনো সোল্যুশনস লিমিটেডের সাথে এ প্রকল্প নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রাজস্ব খাত থেকে এ প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের আলোচ্য যন্ত্রগুলির প্রধান প্রধান অংশ ৫০ মিটার উঁচু টাওয়ার, জেনারেটর, কন্টোল প্যানেল, সাব ষ্টেশন, মেচিং গিয়ার ইলিমেন্ট ভারত থেকে সরবরাহ করা হয়। প্রায় ৫০ মিটার উঁচু টাওয়ারের মাথায় স্থাপিত এক একটি পাখার ওজন প্রায় দেড় টন। বাতাসে পাখা ঘুরলেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হতো।

সোনাগাজীতে বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের আগে সরকার ২০০০-২০০১ অর্থ বছরে ৮.২২৫ কিঃ ওঃ ক্ষমতা সম্পন্ন বায়ুশক্তি চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহন করে ফেনী, কক্সবাজার, পতেঙ্গা এবং কুয়াকাটাতে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। ওই চারটি স্থানে বায়ুর গতি এবং প্রকৃতি নির্নয়ের জন্য সরকার ২০০১-২০০২ হইতে ২০০৪-২০০৫ অর্থ বছরে মোট এক কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় করে। ওই কেন্দ্রে দক্ষিনে বাতাসের গতি প্রকৃতি নির্নয়ের জন্য ৫০ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন একটি সমীক্ষা টাওয়ার স্থাপন করা হয়। ওই সমীক্ষা টাওয়ার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ফেনীর মুহুরী বাঁধ এলাকায় ৪টি ২২৫ কিঃ ওঃ ক্ষমতা সম্পন্ন বায়ু চালিত বিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে পিডিবি।

বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ৬ একর জমি নেয়া হয়। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারীতে বিদ্যুৎ টাওয়ারগুলির স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রক্ষনাবেক্ষন ও দেখবালের জন্য মুহুরী বাঁধ থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত একটি কাচা সড়কও নির্মান করা হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালানোর জন্য যৎসামান্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। সে জন্য স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে একটি ১১/০.৪ কেভি লাইনের একটি সংযোগ নেওয়া হয়। বিদ্যুৎ আমদানি ও রপ্তানীর জন্য টু-ওয়ে মিটার স্থাপন করা হয়।

২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পরীক্ষা মূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রির জন্য ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাথে একটি চুক্তিও সম্পাদিত হয়। ওই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১১ কেভি লাইনের যুক্ত হয়ে যায়।

২০০৫ সালের ৩ আগষ্ট তৎকালীন জাতীয় সংসদের ১০ সদস্যের একটি সংসদীয় দল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন।

২০০৬-২০০৭ অর্থ বছরে অল্প কিছুদিন চলার পর নানা অজুহাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে সরবরাহ করা হয়। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ওই কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের বিলও পরিশোধ করে।

ফেনীস্থ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাফর জানান, সোনাগাজীর বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের একটি প্রকল্প ছিল। এটির সফল বাস্তবায়ন শেষে ফেনীস্থ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিকট হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রটি ফেনী পিডিবি’র নিকট হস্তান্তর করা হয়নি। বর্তমানেও প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে মেরামত চলছে। তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত অবগত নয়।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন