এই মুহূর্তে

মঙ্গলবার | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৫ | ১৪ মহররম, ১৪৪০

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » মানুষ পুড়িয়ে মারার জন্য সরকারি এজেন্টদের দায়ী করলেন ফকরুল

মানুষ পুড়িয়ে মারার জন্য সরকারি এজেন্টদের দায়ী করলেন ফকরুল

মানুষ পুড়িয়ে মারার জন্য সরকারি এজেন্টদের দায়ী করলেন ফকরুল

শাহবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলায় অগ্নিদগ্ধ ১৮জনের মধ্যে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৎস্য ভবনের সামনে মিরপুরগামী বিহঙ্গ পরিবহনের যাত্রীভর্তি বাসটিতে পেট্রল বোমা ছোড়া হলে ১৮ জন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়। এদের মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, সাংবাদিক, পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। ঘটনার পর পরই আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে,  রাত ১১টার দিকে চিকিত্সাধীন অবস্থায় নাহিদ মোল্লা (১৫) নামের এক কিশোর মারা যায়। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কর্তব্যরত চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।

নিহত নাহিদ মাদারীপুর জেলার শিবচরের কুতুবপুর বাজার নিবাসী সরোয়ার্দী মোড়লের ছেলে। নাহিদ কুতুবপুর হাইস্কুলে দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। ঢাকার সাভারে তার মামাতো ভাই রবিনের বাসায় এসেছিল।  দুপুরে রবিনকে সঙ্গে নিয়ে একটি জ্যাকেট কেনার জন্য গুলিস্তানে আসে। জ্যাকেট কেনা না হলে তারা ফার্মগেটে তাদের আরেক মামাতো ভাই আক্তারের সঙ্গে দেখা করার জন্য বিহঙ্গ পরিবহনের ঐ বাসে রওনা দেয়।  বিহঙ্গ পরিবহনের বাসটি গুলিস্তান থেকে মিরপুরের দিকে যাচ্ছিল। মৎস্য ভবন থেকে যাত্রী নামিয়ে শাহবাগ মোড়ে যাওয়ার আগেই শিশুপার্কের কাছে কয়েক যুবক পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে। গেটের কাছেই সেটি বিস্ফোরিত হয়ে গাড়ির ভেতরে আগুন ধরে যায়। এই অবস্থায় চালক গাড়ি চালিয়ে সামনে এগুনোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এ সময় দ্রুত বাস থেকে নামতে গিয়ে ১৮ জন অগ্নিদগ্ধ হন।

 মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ওই বাসে একটি শক্তিশালী পেট্রল বোমা ছোড়া হয়েছিল, যা থেকে এই আগুনের ঘটনা ঘটে।

এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাতে এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে সারা দেশে সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। এরাই শাহবাগে বাসে আগুন দিয়ে নিরীহ যাত্রীদের আহত ও নিহত করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, তাদের ন্যায়সঙ্গত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকার পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবি ও সন্ত্রাসীদের দিয়ে একদিকে নেতাকর্মীদের হত্যা করছে, অন্যদিকে নিজেদের এজেন্টদের দিয়ে যানবাহনে নাশকতা চালাচ্ছে।

ফখরুল ইসলাম বলেন, শাহবাগের এই ঘটনা আওয়ামী লীগ কর্তৃক হোটেল শেরাটনের সামনে বাসে গান পাউডার ছিটিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিরোধী দলের ওপর দায়ভার চাপানো আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি এবং অভ্যাস। এই দলটি একটি সন্ত্রাস-আশ্রিত দল।

তিনি অবিলম্বে বাসে অগ্নিসংযোগকারীদের গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন