সঙ্গীত

মঙ্গলবার | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৫ | ১৪ মহররম, ১৪৪০

প্রচ্ছদ » বিনোদন » সঙ্গীত » বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব শুর সুরের জাদুতে নিমগ্ন শ্রোতা

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব শুর সুরের জাদুতে নিমগ্ন শ্রোতা

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব শুর সুরের জাদুতে নিমগ্ন শ্রোতা

আলোক উজ্জ্বল বিশাল মঞ্চ। সমবেত হাজারো শ্রোতার অধীর অপেক্ষা। কখন শুরু হবে সুরের অনুরণন। কণ্ঠ আর বাদ্যযন্ত্রে কখন সুরের ঝঙ্কার তুলবেন ঋষিতুল্য বিদুষী পন্ডিতরা। কখন তারা সুরের ইন্দ্রজালে জড়িয়ে নেবে সমবেত সকলকে। আর শ্রোতাদের এমন অধীর অপেক্ষাকে সুরে সুরে ভরিয়ে দিতে উপমহাদেশের খ্যাতিমান পন্ডিতরা সমবেত হয়েছেন ঢাকায়। কণ্ঠ ও যন্ত্রে সুর ছড়িয়ে তারা ধন্য করবেন ওস্ত্মাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ওস্ত্মাদ আয়েত আলী খাঁ, ওস্ত্মাদ বেলায়েত হোসেন খাঁর স্মৃতিধন্য এই মাটিকে।

আর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জন্য এমন ধ্যানস্ত্ম অপেক্ষা বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামের পুরোটা জুড়ে। যেখানে সমবেত শ্রোতাদের সাক্ষী রেখে শুর হলো বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব। আর সুরের এমন মোহনীয় আয়োজনে সমজদার শ্রোতাদের মন ভরাতে উপমহাদেশের খ্যাতিমান বিদুষী পন্ডিতরা সমবেত হয়েছেন এখানে। কণ্ঠ আর যন্ত্রসঙ্গীতে সুরের ঝঙ্কার তুলে তারা বেঁধে নিলেন সমবেত সমজদার শ্রোতাদের। আর দ্বিতীয় বারের মতো শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এতো বড় আয়োজন করলো বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ও কলকাতার আইসিটিএসআরএ। বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত চারদিনব্যাপী বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শতাধিক পন্ডিতদের পরিবেশনা দিয়ে শ্রোতাদের মাতাবেন। প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলবে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত্। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করছে স্কয়ার গ্রুপ ও ব্র্যাক ব্যাংক।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উৎসবের উদ্বোধন করেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, স্কয়ার গ্রুপের  পরিচালক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী এবং আইটিসি সঙ্গীত রিসার্চ একাডেমির নির্বাহী পরিচালক রবি মাথুর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের।

উদ্বোধনীর আগেই যখন চারিদিকে নীরবতা। শুধুই অপেক্ষা। একসময় হাজারো মানুষের অপেক্ষার যতি টেনে আলোক দু্যতি ছড়িয়ে প্রথমেই মঞ্চে এলেন বেনারস ঘরনার কত্থক নৃত্যশিল্পী বিশাল কৃষ্ণ। সমবেত হাজারো শ্রোতা তাকে প্রবল করতালি দিয়ে বরণ করে নিলেন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়। তিনি তার পরিবেশনার শুরুতেই নৃত্যের ঝঙ্কারে দেবীবন্দনা করেন।

এরপরে বেনারস ঘরনার এগারতম প্রজন্মের এ গুণীশিল্পী নূপুরের ঝঙ্কারে আলাপচারিতা, ময়ূর, ঘোড়া, থালা নৃত্য পরিবেশন করেন। তার নাচের প্রতিটি মুদ্রার সমাপ্তিটি দর্শকরা তুমুল করতালিতে শিল্পীকে অভিনন্দিত করে। শিল্পীকে সঙ্গত করেন কণ্ঠে দেবাশীষ সরকার, তবলায় কুশল কৃষ্ণ, সেতারে জয়ন্ত্ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সহযোগিতায় ছিলেন শিল্পীর পিতা মোহন কৃষ্ণ। তবলায় এর আগে চর্চাপদ থেকে বাংলা গানের হাজার বছরের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। যেখানে বৈষ্ণব পদাবলী, শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন থেকে সুফিবাদ হয়ে বাউল ঘরানা পেরিয়ে রবীন্দ্রনাথ ও লোকসঙ্গীতে গিয়ে শেষ হয়।

এছাড়া উদ্বোধনী দিনের আয়োজনে কণ্ঠে সুরের ঝঙ্কার তোলেন বিদুষী গিরিজা দেবী, বিদুষী কৌশিকী চক্রবর্তী, পন্ডিত রাজন ও পন্ডিত সাজন মিশ্র, সেতারে ছিলেন অয়ন সেনগুপ্ত, সরোদে পন্ডিত তেজেন মজুমদার, তবলায় থাকছেন পন্ডিত সমর সাহা ও পন্ডিত যোগেশ শামসি। এছাড়া এদিন বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন ইফতেখার আলম প্রধান, স্বরূপ হোসেন, গৌতম সরকার ও মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

আজ শুক্রবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে অধিবেশন উদ্বোধন করবেন শিক্ষাবিদ এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি থাকবেন দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং সঙ্গীতবেত্তা আলীমুর রহমান খান। উৎসবের দ্বিতীয় দিন উৎসর্গ করা হয়েছে অগ্রগণ্য শিক্ষক ও ঢাকায় সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পন্ডিত বারীন মজুমদারকে।

দ্বিতীয় দিনে ভরতনাট্যম নৃত্য পরিবেশন করবেন বিদুষী আলারমেল ভালি, কণ্ঠসঙ্গীতে থাকছেন বিদুষী বোম্বে জয়শ্রী, পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী ও অসিত দে। বেহালায় থাকছেন সাকেত সাহু, সেতারে ওস্ত্মাদ রাইস খান এবং পন্ডিত পূর্বায়ন চ্যাটার্জি।

উৎসব আয়োজনের সহযোগী হিসেবে রযেছে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার, মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে আইস মিডিয়া, রেডিও পার্টনার হিসেবে আছে এবিসি রেডিও এবং সম্প্রচার সহযোগী হিসেবে আছে মাছরাঙা টেলিভিশন।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন