এই মুহূর্তে

মঙ্গলবার | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৫ | ১৪ মহররম, ১৪৪০

প্রচ্ছদ » এই মুহূর্তে » ড্রোনের সাহায্যে উদ্ভিদ ভিত্তিক জ্বালানি

ড্রোনের সাহায্যে উদ্ভিদ ভিত্তিক জ্বালানি

ড্রোনের সাহায্যে উদ্ভিদ ভিত্তিক জ্বালানি

খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন পরিবেশবান্ধব হতে পারে, কিন্তু তার ফলে সেই খাদ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ৷ তাই শুরু হয়েছে আরও অন্যান্য উদ্ভিদ থেকে জ্বালানি উৎপাদনের চেষ্টা৷

কার্যকর উদ্ভিদের খোঁজে আকাশে ড্রোন

 কোনো বোমা হামলার জন্য নয়, বিজ্ঞানের উন্নতির লক্ষ্যে আকাশে উড়ছে এই ড্রোন৷ উদ্দেশ্য, নতুন ধরনের গাছপালা থেকে জ্বালানি উৎপাদন৷ বায়ো জ্বালানি উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উদ্ভিদ খোঁজা হচ্ছে এভাবে৷

বিকল্প উদ্ভিদের সন্ধান

জার্মানির ইয়ুলিশ গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা ড্রোন-এর সাহায্যে উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন৷ উদ্দেশ্য, নতুন ধরনের গাছপালা থেকে জ্বালানি উৎপাদন৷ বায়ো জ্বালানি উৎপাদনের জন্য কোন উদ্ভিদ সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে, গবেষকরা উপর থেকে তোলা ছবি দেখে তা সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারেন৷ অবশ্যই আবহাওয়া ভালো থাকতে হবে৷

উদ্ভিদ গবেষক উলরিশ শ্নুয়র বলেন, ‘‘প্রথমে সরাসরি, তারপর ড্রোনের তোলা ছবি দেখতে বেশ মজা লাগে৷ সেই ছবি মূল্যায়ন করে তথ্য সংগ্রহ করা আমাদের জন্য অবশ্যই আরও রোমাঞ্চকর৷”

ইয়ুলিশ-এর হেলমহলৎস কেন্দ্রে গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো জ্বালানি সরবরাহের ভবিষ্যৎ৷ যেমন উদ্ভিদ থেকে জ্বালানি আদায় করা৷ প্রশ্ন হলো, কোন ধরনের উদ্ভিদ সবচেয়ে দ্রুত ও সমান হারে বেড়ে ওঠে৷ উলরিশ শ্নুয়র বলেন, ‘‘উপর থেকে তোলা এমন সব ছবি সাধারণত দেখতে পাওয়া যায় না৷ সামনে দাঁড়িয়ে দেখলে শুধু খেতের সাধারণ অবস্থা বোঝা যায়৷ উপর থেকে দেখলে বোঝা যায় ফসল কতটা সমান৷”

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, খাদ্যের চাহিদা মিটিয়েও উদ্ভিদ পেট্রোলিয়ামের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে ।

সার্বিক প্রচেষ্টাNature_BCCNews24 (1)

বিভিন্ন ওয়েভলেন্থ বা তরঙ্গদৈর্ঘ্যে তোলা ছবি থেকে গবেষকরা বুঝতে পারেন, উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া কত ভালোভাবে কাজ করছে, তাদের কতটা পুষ্টির প্রয়োজন বা কত তাড়াতাড়ি তারা বেড়ে ওঠে৷

আসল চ্যালেঞ্জ হলো, জ্বালানির কাজে উদ্ভিদ ব্যবহার করলে তা যেন খাদ্যশস্যের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা বেদখল না করে৷ উত্তর আমেরিকার ‘কাপ প্লান্ট’-এর মতো উদ্ভিদ এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে৷ উলরিশ শ্নুয়র বলেন, ‘‘এমন সব উদ্ভিদের সাহায্যেই আমরা এই সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করছি৷ যে জমি খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়, সেখানেও এমন উদ্ভিদের চাষ করা যেতে পারে৷”

এক গ্রিনহাউসের মধ্যে গবেষকরা পরীক্ষামূলকভাবে উদ্ভিদের বিকাশ পর্যবেক্ষণ করছেন৷ দিনে ৫০০টি গাছ, একেবারে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায়৷ সবচেয়ে কঠিন পরিবেশে সবচেয়ে বেশি ফসল ফলাতে পারে – এমন উদ্ভিদ শনাক্ত করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য৷

শিকড়ের বৃদ্ধিই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷ এক কম্পিউটার টোমোগ্রাফিতেই তা দেখা যাচ্ছে৷ জ্বালানি উৎপাদনকারী উদ্ভিদের শক্তিশালী শিকড় থাকা চাই, যাতে ফসল তোলার পর গাছ আবার তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠতে পারে৷

“প্রচলিত শস্যগুলি ভবিষ্যতে আর জ্বালানি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে না”

নেটওয়ার্ক গঠন

উলরিশ শ্নুয়র ৪টি গবেষণা কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন৷ সবাই মিলে তাঁরা তাঁদের মৌলিক জ্ঞান কাজে লাগাতে চান৷

বিজ্ঞানীদের মতে, আধুনিক উদ্ভিদ গবেষণা ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে৷ খাদ্যের চাহিদা মিটিয়েও উদ্ভিদ পেট্রোলিয়ামের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন৷ উলরিশ শ্নুয়র বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে আমরা বিভিন্ন উদ্ভিদ কাজে লাগাবো৷ জ্বালানি ও খাদ্য উৎপাদনের কাজে যে সব উদ্ভিদ কাজে লাগানো যেতে পারে, সেগুলি খতিয়ে দেখবো৷ এমন বৈচিত্র্য এসে গেলে তখন আর কোনো একটি উদ্ভিদ বেছে নিতে হবে না, যা একাই সব পারে৷ বিভিন্ন কাজে আলাদা উদ্ভিদ কাজে লাগানো হবে৷”

প্রচলিত শস্যগুলি ভবিষ্যতে আর জ্বালানি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে না৷ খাদ্য উৎপাদনের সময়ে উদ্বৃত্ত উপকরণগুলিকে কাজে লাগাতে চান গবেষকরা৷ যেমন খড় থেকেও জ্বালানি বের করা সম্ভব, যা পেট্রোলে মেশানো যায় বা বায়ো এথানল হিসেবেও কাজে লাগানো যায়৷

ইয়ুলিশ কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা এমন উদ্ভিদ থেকে জ্বালানি উৎপাদনের কাজে মন দিচ্ছেন, যা অনুর্বর জমিতেও বেড়ে উঠতে পারে৷ ফলে খাদ্য উৎপাদনের উপযুক্ত উর্বর জমির প্রয়োজন হবে না৷ ভবিষ্যতে খেত থেকে জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ দিচ্ছে জার্মান সরকারও৷ গবেষণার কাজে ২৪০ কোটি ইউরো অনুদান দেয়া হচ্ছে৷

সূত্রঃ ডিডব্লিউ

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন