Azizul Bashar
অপরাধ

শুক্রবার | ১৭ আগস্ট, ২০১৮ | ২ ভাদ্র, ১৪২৫ | ৫ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

প্রচ্ছদ » খবর » অপরাধ » পুলিশের তৎপরতায় অস্ত্র কারিগররা আস্তানা পরিবর্তনে মরিয়া

পুলিশের তৎপরতায় অস্ত্র কারিগররা আস্তানা পরিবর্তনে মরিয়া

পুলিশের তৎপরতায় অস্ত্র কারিগররা আস্তানা পরিবর্তনে মরিয়া

কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে অস্ত্র তৈরিতে নেমেছে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ।

র‌্যাব ও পুলিশের ঘন ঘন অভিযানের কারণে দ্বীপের পরিক্ষীত অস্ত্র কারিগররা শহিদুল্লাহ, সিকান্দার, ওসমান ও আবছার মহেশখালী ছেড়ে দীর্ঘদিন অন্যত্রে আত্মগোপণ থাকলেও গত একপক্ষকাল ধরে অবস্থান করছে এলাকায়। ফলে মহেশখালীর গহীণ অরণ্যে আস্তানা পরীবর্তনে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র হতে জানা যায়। মহেশখালী সন্ত্রাসীর স্বর্ণ রাজ্য কালারমার ছড়া, বড় মহেশখালী, হোয়ানক, বড় ডেইল, ষাট মাড়া এলাকায় আস্তানা পরীবর্তনে হিড়িক নেমেছে। ফলে অস্ত্র তৈরি আবারও বাড়ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

সূ্ত্রমতে, পুলিশের একাধিক অভিযানে মহেশখালী-বদরখালী উপকূলীয় চ্যানেল থেকে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু আগ্নেয় অস্ত্রসহ অর্ধশত অপরাধীদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, উপকূলীয় এলাকা বিশেষ করে মহেশখালী-বদরখালী চ্যানেলের অপরাধীরা এখন আর নিরাপদ নয়। পুলিশ অতঙ্ক বিরাজ করছে সন্ত্রাসীদের মধ্যে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বিসিসি নিউজকে জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে তথ্য বহুল সংবাদ প্রেরণের পর তথ্যটি পুলিশের নজরে আসলে পুলিশের টানা অভিযানের কারনে সিংহভাগ অস্ত্র কারিগর গ্রেফতার এড়াতে আস্তানা পরিবর্তনে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে জানান।

উপজেলার কালার মার ছড়া চালিয়া তলী ও উত্তর নলবিলা গ্রামের মোহাম্মদ কালুর পুত্র ২-৩টি মামলার পলাতক আসামী শহিদ ও এনামের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জেলার অস্ত্রের চাহিদা মিটিয়ে বিভাগীয় শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। জানা যায়, শহীদ দীর্ঘদীন ধরে বদরখালী ফেরিঘাট এলাকায় কাঁকড়া ব্যবসার আড়ালে এ অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে প্রশাসনের কাছে তথ্য আসলে উক্ত ব্যবসায়ী গোপনে এ তথ্য জানতে পেরে বদরখালী থেকে কালার মার ছড়া চালিয়াতলী পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকে উক্ত ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানা গেছে।

দুঃসাহসিক পুলিশ কর্মকর্তা শাহেনেওয়াজের টানা অভিযানের কারণে অস্ত্র ব্যবসা একটু কমলেও বর্তমানে ব্যবসায়ী শহিদ আবার এলাকায় ফিরে আসায় শংকা বেড়েছে লোক জনের মাঝে। এ ব্যাপারে গত ১৯ শে অক্টোবর আলোকিত উখিয়ায় তথ্য বহুল সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় অস্ত্র কারিগরদের একাধিক অংশ নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিয়ে আস্তানা পরিবর্তনে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে নির্ভর যোগ্য সূত্রে দাবী করেছে। তারা গ্রেফতার হলে অস্ত্র তৈরি এবং ব্যবসা কমবে বলে স্থানীয় জনগণের অভিমত।

কালার মার ছড়া পুলিশ ফাঁড়ির এস আই শাহেনেওয়াজ ও বদরখালী ফাঁড়ি পুলিশের এস আই মোজাম্মেল হক দুই জনের কাছে অপরাধীরা নিরাপদ নয়। তারা দুই জন পৃথক ইউনিয়নে দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। কালার মার ছড়া বদরখালীর স্থানীয় লোকজন জানান, তারা দুই জন ফাঁড়িতে যোগদানের আগে এখানকার বাসিন্দারা আতংকিত অবস্থায় দিন যাপন করত, চিহ্নিত কতগুলি সন্ত্রাসী ও মাদক সেবীদের ভয়ে।

বদরখালী ফেরিঘাটে মহাজোট সরকারের শেষ সময়ে সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে জসিম উদ্দিন টিটুর নেতৃত্বে আখেরী চাঁদাবাজীর মহোৎসব চলছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের কারণে এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ যখন আতংকিত হয়ে পড়ে, তখন সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কতৃপক্ষ দুইজন দক্ষ অভিজ্ঞ সম্পন্ন সৎ ও সাহসী নীতিবান পুলিশ অফিসারের মাধ্যমে এ অভিজান সফল করান।দুইজন সু-দক্ষ সৎ বিচক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ওসি আলমগীর হোসেন ও রঞ্জিত বড়ুয়া, তাদের দিক নির্দেশনায় নেমে পড়ে সন্ত্রাসী অভিযানে এবং সফল হন শতভাগ।

জানা গেছে, অসহায় অনেক মা-বোনেরা নফল নামাজ পড়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তার দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করার জন্য চিহ্নিত কয়েকজন দালাল পুলিশের উর্দ্ধতন মহলে নানা ধরনের তদবির করেও বিফল হয়েছেন। কারণ কালার মার ছড়া আইন শৃংঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে ও বদরখালীর জনগণ তাদের পক্ষে থাকায় ঐ দালালদের তদবির বৃথা গেছে বলে স্থানীয় লোকজন জানান, পুলিশের পর পর অভিযানে ইনচার্জ এস,আই শাহেনেওয়াজ, এস, আই মোজাম্মেল হক সহ কনষ্টেবল হিমেলের তৎপরতায় অপরাধীরা অনেকটা আতংকে রয়েছে।

কক্সবাজার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খালেকুজ্জামান জানান, অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


মন্তব্য করুন