Happy New Year 
 2018
সম্পাদকীয়

সোমবার | ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ | ৯ মাঘ, ১৪২৪ | ৪ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

শুভ বড়দিন

শুভ বড়দিন

আজ বুধবার শুভ বড়দিন। সারা বিশ্বের খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের প্রধান ও সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব এটি। প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই উৎসব পালিত হয়। দু’হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে জেরুজালেমের কাছে বেথলেহেমের এক গোয়ালঘরে মা মেরির গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন যিশুখ্রিষ্ট। মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখাতে ঈশ্বরের আশীর্বাদরূপে এসেছিলেন তিনি। তার প্রেম ও মানবিকতার বাণী আজও প্রভাবিত করে চলেছে মানবসমাজকে।

পৃথিবীতে যিশুখ্রিষ্টের আবির্ভাব হয়েছিল মানবজাতির উদ্ধারকর্তা হিসেবে। হিংসা ও বিদ্বেষপূর্ণ এই পৃথিবীর মানুষকে সুপথে আনার মহান দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। মানবজাতিকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে ফেরানোর পথ হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন মমতা, ভালোবাসা ও ক্ষমার পথ। মানুষকে সত্য ও সুপথে আনার কাজে অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন যিশু। কিন্তু কোনো নির্যাতন বা নিপীড়ন তাকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। শাসকের অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের পক্ষ নিয়েছিলেন বলে তত্কালীন শাসকের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে তাঁহাকে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে জীবন দিতে হয়েছিল।

বড়দিন একই সঙ্গে উদারতা ও কৃতজ্ঞতার মতো মানবিক গুণাবলীকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে, মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে উন্নততর মানবিক সম্পর্ক ও সমৃদ্ধতর সমাজ গড়ে তুলতে। শান্তির যে বাণী নিয়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন, তা সব যুগে সব মানুষের জন্যই জরুরি। যিশুর জন্মদিন তাই শুধু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির ইতিহাসেও এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

মানব ইতিহাসের সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রাচীন স্তম্ভ হল ‘ধর্ম’।সকল ‘ধর্ম’ই যুগে যুগে মানুষে মানুষে একতা সংহতির সেতুবন্ধন রচনা করে এসেছে।বলা যায়,সকল ধর্মের মৌলিক সত্যতা হল মানব কল্যাণ ও সমপ্রীতি। এই সত্য আমরা অন্তরে ধারণ করতে পারলে,যেকোন সহিংসতা বন্ধ সহজ হত।বড়দিনের এই শুভক্ষনে,বাংলাদেশের সকল সম্প্রদায় সুখ ও শান্তিতে বসবাস করুক,এই হোক আমাদের অংগিকার।

 

বিসিসি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মন্তব্য করুন